হারলেও বহুমুখী শিক্ষা পেয়েছে বিএনপি

প্রকাশ : ১৭ মে ২০১৮, ০৮:৩৭

বদরুল আলম মজুমদার

জাতীয় নির্বাচনের আগে খুলনার জয়-পরাজয় গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছিল বিএনপি। কিন্তু ওই নির্বাচনে সরকারের জনবিচ্ছিন্নতার প্রমাণ করতে সক্ষম হয়নি দলটি। সরকারি দলের কাছে প্রায় ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানের হার, সেই বার্তা নিয়েই হাজির হয়েছে তাদের কাছে। যদিও দলের নেতারা বলছেন, ভোটে পরাজিত হলেও রাজনৈতিকভাবে হারেনি বিএনপি। এ নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের অধীনে কেমন নির্বাচন হয় বা হবে, তার একটি ধারণাও তারা নিতে পেরেছেন। নির্বাচনে হারলেও বহুমুখী শিক্ষা পেয়েছে বিএনপি, যা সামনের রাজনৈতিক আন্দোলনে কাজে লাগবে।

বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের দুজন নেতা প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, বর্তমান সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনে যেতে দলের ভেতরে ও বাইরে থেকে যারা চাপে রাখছে, তাদের জন্য এই নির্বাচনটি একটা উপযুক্ত শিক্ষা হতে পারে। খুলনার ভোটে সরকার যেভাবে নিজেদের পক্ষে ভোট কেটে নিয়েছে, পুলিশ ও ইসির সহযোগিতায় বহিরাগতদের দিয়ে নির্বাচনকে তামাশায় পরিণত করেছে, বিএনপির নেতাকর্মীদের পুলিশি হয়রানির মুখে রেখে ভোটের ‘নতুন শিক্ষা’ দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। তাই এ নির্বাচনে বিএনপির ক্ষতির কিছু নেই। যেহেতু বিএনপি আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, সেই ভোটের অধিকার আন্দোলন আরো জোরাল হবে খোদ খুলনা থেকেই।

খুলনার নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে যায়নি জানিয়ে দলটির যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, খুলনার নির্বাচনে বেলা ১২টার পর ভোটার উপস্থিতি একেবারেই ছিল না। কিন্তু দিন শেষে ইসি বলছে, ৬২ শতাংশ ভোট আদায় হয়েছে। এখানে আমাদের মূল্যায়ন হলো মাত্র ৩৫ শতাংশ ভোট আদায় হয়েছে, তাহলে কি প্রমাণ করে না যে, ভোট ডাকাতির একটি নতুন শিক্ষা দিল ইসি ও সরকার।

এই নেতা আরো বলছেন, খুলনার ভোটের রেজাল্ট নিয়ে দলের নেতারা হতাশ হলেও, হারানোর কিছু নেই। বিশেষ করে নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হেরে যাওয়া, নির্বাচন কমিশনে একাধিকবার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থানসহ খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করা হবে। এ উদ্দেশ্যে অচিরেই বিএনপির স্থায়ী কমিটিসহ সিনিয়র নেতারা বৈঠকে বসবেন।

গত মঙ্গলবার (১৫ মে) অনুষ্ঠিত খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক বেশ বড় ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে পরাজিত করেন। এই পরাজয়ের পর বিএনপির তরফে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের অযোগ্যতা, ব্যর্থতা ও পুলিশি হামলার কারণে কেসিসি নির্বাচনে বিএনপির নেতাকর্মীরা দাঁড়াতে পারেননি। সাধারণ ভোটাররাও ভোট দিতে পারেননি। এ কমিশন পুরোপুরি অযোগ্য, তাই ইসির পুনর্গঠন করতে হবে।

নেতারা মনে করছেন, খুলনায় দলের প্রার্থী হারলেও রাজনৈতিকভাবে বিএনপি লাভবান হয়েছে। নির্বাচনের আগে সম্ভাব্য ত্রুটি-বিচ্যুতি, সমস্যা নিরূপণ করতে একাধিকবার বিএনপির প্রতিনিধিদল আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছে। এসব অভিযোগ অনেকটাই আমলে নেয়নি ইসি। যদিও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের তরফে রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়ে অভিযোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণ করে ইসি। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একাধিকবার অভিযোগ করেছেন, তিনি নিজেও বিভিন্ন বিষয়ে সিইসিকে ফোন করে জানিয়েছেন। এর পরও সিইসি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তাই ইসির বর্তমান আচরণ নিয়ে দলটি নতুন করে মূল্যায়ন করবে।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে মূল্যায়ন করব। আমার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন হচ্ছে, সরকারের প্রশাসন, সরকার দলীয়রা এক হয়ে গায়ের জোরে ভোট জিতে নিয়েছে। এটা তাদের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। আগামী নির্বাচন কেমন হবে, এর একটা বার্তা পেলাম আমরা। তবে এটি স্পষ্ট, অবৈধ সরকারের সামনে বর্তমান ইসি সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না বলে বিএনপির বলা কথার প্রমাণ আবারো হলো। তাই নির্বাচনটি আপাতত হারের হলেও শিক্ষা রয়েছে বহুমুখী।

পিডিএসও/হেলাল