কর্মসূচিতে বাধা : উদ্বিগ্ন বিএনপি

প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৮:২৮

বদরুল আলম মজুমদার

দুর্নীতি মামলায় কারান্তরীণ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমেই প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছে বিএনপি। কিন্তু এ কর্মসূচিতেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আরো পাঁচ মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে উদ্বিগ্ন দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা। এই অবস্থায় ভিন্ন কি কৌশলে মাঠে থাকা যায় সেই চিন্তা-ভাবনা চলছে দলে।

দলীয় সূত্রমতে, কর্মসূচির ধরন যেমনই হোক, মাঠে নামার পক্ষে দলের নেতারা। সেক্ষেত্রে নেতাকর্মীদের কৌশলী হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে দল থেকে। এমন কৌশলের অংশ হিসেবেই গতকাল শেষ দিনের অবস্থান কর্মসূচি তিন ঘণ্টা আগেই শেষ করে দলটি। তবে সামনের দিনগুলোর কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে দলে। গত বৃহস্পতিবার দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজা হওয়া খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানোর পর গতকাল বুধবার পর্যন্ত পাঁচ দিনই শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। আজ ও আগামীকাল শুক্রবার বিরতি দিয়ে নতুন করে কর্মসূচি ঘোষণা করবে বিএনপির হাইকমান্ড।

বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেছেন, গত পাঁচ দিন শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করা হলেও গ্রেফতার থামছে না নেতাকর্মীদের। গতকালও রমনা থানা পুলিশ প্রেসক্লাবের সামনের কর্মসুচি থেকে বেশ কয়েকজনকে আটক করে। তাছাড়া মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন-নবীকে আটক করতে ডিবি পুলিশকে বেশ তৎপর দেখা যায়। পরে প্রেসক্লাবের রেলিং ভেঙে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এরআগে রিপোর্টার্স ইউনিটি চত্বর থেকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামছুজ্জামান দুদুকে আটক করে পুলিশ। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতারা নানা সময় গ্রেফতার আতঙ্কে থাকেন। তাদের মতে, ঢাকায় আন্দোলন সক্ষম নেতাদের আটক করতেই বেশি তৎপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান পর্যায়ের এক নেতা প্রতিদিনের সংবাদের কাছে উদ্বেগের কথা জানিয়ে বলেন, এভাবে নেতাকর্মী গ্রেফতার হতে থাকলে শান্তিপূর্র্ণ কর্মসূচি নিয়েও সামনে এগিয়ে যাওয়া কঠোর হবে। নেতাকর্মীরাও আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে কর্মসূচি পালনে। তিনি কর্মসূচির ঘোষণায় আরো কৌশলী হওয়ার পরামর্শ দেন দলকে। প্রতিদিন কর্মসূচি না রেখে সপ্তাহে অন্তত দুইটি কর্মসূচি দিলে উপস্থিতিও ভালো হবে। আটকের সংখ্যাও কমতে পারে উল্লেখযোগ্য হারে।

সূত্র জানায়, অনশন ও বিক্ষোভের কর্মসূচিতে উপস্থিতির হার বেশ ভালো হওয়ায় নেতারা আগ্রহী হয়ে উঠেছেন এ জাতীয় কর্মসূচি প্রণয়নে। তবে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারামুক্ত না হওয়া পর্যন্ত নতুন নতুন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকবে বিএনপি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। চলমান কর্মসূচি লন্ডনে বসে পর্যবেক্ষণ করছেন।

দলীয় সুত্রমতে, তারেক রহমানের পরামর্শে নানামুখী সাংগঠনিক, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। এরইমধ্যে দলের সিনিয়র নেতা এবং ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গেও প্রতিদিন কথা বলছেন। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার পাশাপাশি কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকার তাগিদ দিচ্ছেন। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করছেন।

তবে খালেদার কারাদন্ডের প্রতিবাদে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার চাপ থাকলেও আপাতত সেই দিকে দল হাঁটতে চায় না বলে জানিয়েছেন নেতারা। তারা জানান, হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচি নিয়ে অগ্রসর হলে সুযোগ নিতে পারে অন্য কেউ। তাই কোনো উসকানিতে পা না দিয়ে শান্তিপূর্ণ ধারাবাহিক কর্মসূচির মধ্য দিয়েই এগোতে চায় বিএনপি। নির্বাচনের বাকি আরো ১০ মাস। এখন হার্ডলাইনে গিয়ে দীর্ঘ এক বছর আন্দোলনের কর্মসূচি টেনে নেয়া কঠিন। বিশেষ করে নেতাকর্মীরা মামলা-হামলায় জর্জরিত হয়ে পড়লে দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

নেতারা আরো জানান, নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে এ বছরের মাঝামাঝিতে আন্দোলনে নামার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই আন্দোলনে দরকার হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে। নির্বাচনকেন্দ্রিক আন্দোলন সফল করতেই নেতাকর্মীদের নিরাপদে রাখতে চায় তারা। চলমান কর্মসূচি ও গ্রেফতার এড়িয়ে সফল করার নির্দেশনা রয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ উপায়ে আমরা কর্মসূচি চালিয়ে গেছি। সামনেও আমরা তাই করতে চাই। আশা করব সরকার সহযোগিতা করবে।

পিডিএসও/হেলাল