বিশেষ কারাগারে খালেদা জিয়া কেমন আছেন, কি খাচ্ছেন...

প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৫:০৬ | আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৫:১৬

অনলাইন ডেস্ক

রাজধানীর পরনো ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারের বিশেষ জেলে বিএনপিনেত্রী খালেদা জিয়াকে রাখা হয়েছে। সেখানে তিনি কেমন আছেন, কি খাচ্ছেন তা নিয়ে জানার আগ্রহ থেকে যোগাযোগ করা হয় কারা কর্মকর্তাদের সাথে। তারা জানান, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কারাগারে প্রথম শ্রেণির বন্দির (ডিভিশন-১) মর্যাদা পাচ্ছেন তিনি। এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কারা অধিদপ্তরের উপ মহাপরিদর্শক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, খালেদা জিয়াকে আপাতত পুরাতন কারাগারের প্রশাসনিক ভবনে রাখা হয়েছে। পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা এখন এটাকে স্পেশাল জেল বলছি। প্রসঙ্গত প্রায় ১০ বছর পর আবারও কারাগারে যেতে হল সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপিনেত্রী খালেদা জিয়াকে। তবে এবারই প্রথম তাকে দুর্নীতি মামলায় সাজা নিয়ে জেলে যেতে হল।
কারা কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কারা বিধির ৬১৭ ধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ডিভিশন পাওয়া কয়েদিরা একটি পত্রিকা ও টেলিভিশন দেখার সুযোগ পান। বাড়তি পত্রিকা চাইলে কিনে নিতে হয়। চাহিদা অনুযায়ী বই পড়ার সুযোগও তারা পান। ৭ দিনে একবার চিঠি লিখতে পারেন, তবে তা কারা কর্তৃপক্ষের সেন্সরের মধ্যে দিয়েই যাবে। কারা কর্মকর্তারা বলছেন, মর্যাদা অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে উন্নত মানের খাবার সরবরাহ করা হবে। এক্ষেত্রে তার পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
প্রথম শ্রেণির বন্দিদের জন্য কারাগারে চিকন চালের ভাতের সঙ্গে প্রতিদিনই মাছ বা মাংস, সবজি, ডালের ব্যবস্থা থাকে। চা বা কফিও চাহিদামাফিক দেওয়া হয়। সকালের নাস্তা দেওয়া হয় পছন্দ অনুযায়ী, বিকালের নাস্তায় থাকে ফলমূল। কারাগারের সরবরাহ করা খাবারের বাইরে নিজের খরচে বাড়তি খাবার আনাতে পারেন তারা। তবে সেই খাবার কিনতে হয় কারাগারের ক্যান্টিন থেকে।স্বজনরা মাসে একবার প্রথম শ্রেণির কয়েদিদের সঙ্গে দেখা করতে পারেন। তখন তারা শুকনো খাবার ও ফল দিয়ে আসতে পারেন।
কারাগারের যে কক্ষে খালেদা জিয়া থাকছেন, সেখানে উন্নতমানের চেয়ার-টেবিল, খাট, নিয়ম অনুযায়ী অন্যান্য আসবাবপত্র ও মশারি দেওয়া হয়েছে। আর প্রথম শ্রেণির বন্দিদের জন্য টয়লেটে কমোডের ব্যবস্থাও থাকে বলে কারা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এদিকে সাজা হওয়ার পর বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে করা এক আবেদনের প্রেক্ষিতে তার ব্যক্তিগত পরিচারিকা মোছা. ফাতেমাকে তার সাথে রাখঅর অনুমতি দিয়েছেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আখতারুজ্জামান।
জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এক দশক আগের এই মামলায় আদালত খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ওই রায়ের পরপরই তাকে এক পুলিশ কর্মকর্তার গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পুরনো ভবনে। সেখানে তিনিই এখন একমাত্র কয়েদি। ৯০’র দশকে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে এই কারাগারেই রাখা হয়েছিল এইচ এম এরশাদকেও। 

পিডিএসও/মুস্তাফিজ