তারেক রহমানের ১০ বছর কারাদণ্ড

প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৫:৩৭ | আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৫:৪৫

অনলাইন ডেস্ক

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৫ বছর এবং তার বড় ছেলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এছাড়াও মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বকশীবাজার কারা অধিদপ্তরের প্যারেড গ্রাউন্ডে স্থাপিত বিশেষ আদালতে বিশেষ জজ ৫-এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান এই রায় দেন। মোট ৬৩২ পৃষ্ঠার রায়ের সারমর্ম ১৮ মিনিট পড়েন তিনি। পরে মামলার অপরাধ সন্দোহীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সামাজিক মর্যাদা ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে এই রায় ঘোষণা করেন।
খালেদা জিয়া বাদ দিয়ে অন্য ৫ আসামিকে ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। এই জরিমানার টাকা দণ্ডপ্রাপ্ত এই ৫ জনকে সম্মিলিতভাবে পরিশোধ করতে হবে। ৪০৯ ও ১০৯ ধারা মোতাবেক আসামিপক্ষের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সাবেক প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির অপরাধে দণ্ডিত হলেন। এর আগে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হন। তিনি প্রায় ৬ বছর সাজাও খাটেন।
বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারায় আসামিদের এ কারাদণ্ড দেওয়া হলো। ২৬১ কার্যদিবসে ৩২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, ২৮ কার্যদিবস আত্মপক্ষ সমর্থন ও ১৬ কার্যদিবস যুক্তি-তর্ক শুনানি গ্রহণ শেষে এ রায় দেওয়া হলো। মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ কারাগারে ছিলেন। 
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন। এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশ্যে একটি বিদেশি ব্যাংক থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ এনে এ মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি তদন্ত করে দুদকের সহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ অপর ৪ জনকে অভিযুক্ত করে ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

পিডিএসও/মুস্তাফিজ