সংসদীয় আসনে সীমানা বিন্যাস

সংসদীয় আসন : আগামী সপ্তাহে পরিবর্তন জানা যাবে

প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০১৮, ১০:৪৪ | আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০১৮, ১১:০৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

তিনশ সংসদীয় আসনের মধ্যে কয়টি আসনে পরিবর্তন আসবে সেটি আগামী সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত হবে। গত শনিবার সংসদীয় আসন বিন্যাস সংক্রান্ত কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রথম বৈঠকে প্রাথমিকভাবে অর্ধ-শত আসনে ছোটখাট পরিবর্তন আনার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে, এটি নির্ভর করছে সীমানা পুন:নির্ধারণের তালিকা তৈরির জন্য দুটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির দেওয়া প্রতিবেদনের উপরে। কোন কোন আসনের সীমানায় পরিবর্তন আসবে ওই প্রতিবেদন পাওয়ার পর কমিশন চূড়ান্ত করবে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, পুরনো আইনের আলোকে সীমানা বির্ন্যাস হবে। এক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড ও উপজেলা এলাকার সীমানা অক্ষুন্ন থাকবে। পাশাপাশি জেলার আসন বিদ্যমান সংখ্যা অপরিবর্তন রেখে জেলার ভেতরের আসনগুলোর আয়তন বাড়তে বা কমতে পারে। এছাড়া নতুন যুক্ত হওয়া ছিটমহলগুলো সংশ্লিস্ট আসনগুলোতে সংযোজন-বিয়োজন হবে। সংসদীয় আসনের সীমানা পরিবর্তন সংক্রান্ত কমিটির প্রধান ও নির্বাচন কশিমনার মো. রফিকুল ইসলাম বৈঠকের বিষয়ে বলেন, আমরা সার্বিক দিক বিবেচনা করে সীমানা নির্ধারণের কাজ এগিয়ে এনেছি। নতুন ছিটমহল যুক্ত হওয়া ও প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের কারণে কিছু আসনের পরিবর্তন করতে হচ্ছে। এর সংখ্যা এখনই বলা যাচ্ছে না।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যমান সীমানা পর্যলোচনা করে দেখা গেছে উপজেলা অখন্ডতা রাখা হলে দেশের ৬৩টি আসনের সীমানায় পরিবর্তন আসবে। কিন্তু সংসদীয় আসনের অখন্ডতা ধরে রাখা ও ভোটার সংখ্যার ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে কমবেশি ১০টি আসনের উপজেলার অখন্ডতা রক্ষা করা সম্ভব হবে না। সেগুলোর মধ্যে যশোর-৩ ও ৪, নড়াইল-১ ও ২ এবং চুয়াডাঙ্গা-১ ও ২ সহ আসন রয়েছে। কমিটি এসব আসনের ভৌগলিক অখন্ডতা, জনসংখ্যা ও অন্যান্য দিক বিবেচনা করে এতে পরিবর্তন না করার বিষয়ে একমত হয়েছে। আর সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড অখন্ড রাখতে গিয়ে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও কুমিলার কয়েকটি আসনের সীমানায় পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। নতুন ছিটমহল যুক্ত হওয়ায় লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের কয়েকটি আসনের সীমানাও পরিবর্তন আসবে।

সংশিষ্টরা আরও জানান, উপজেলা অখন্ড রাখার কারণে অর্ধশত সংসদীয় আসনের সীমানা পরিবর্তন আসতে পারে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- ঠাকুরগাঁও-২ ও ৩, নীলফামারী ৩ ও ৪, রংপুর- ৩ ও ৪, কুড়িগ্রাম- ৩ ও ৪, সিরাজগঞ্জ- ১ ও ২, পাবনা-১ ও ২, চুয়াডাঙ্গা-১ ও ২, ঝিনাইদহ-২ ও ৪, মাগুরা-১ ও ২, এবং খুলনা-৩ ও ৫। একই অবস্থা সাতক্ষীরা- ৩ ও ৪, জামালপুর- ৪ ও ৫, মানিকগঞ্জ-২ ও ৩, ঢাকা-২, ৩, ১৪ ও ১৯, গাজীপুর-১, ৩ ও ৫, নরসিংদী-১ ও ২, ফরিদপুর-২ ও ৪, গোপালগঞ্জ-১ ও ২, মাদারীপুর-২ ও ৩, সিলেট-২ ও ৩, মৌলভীবাজার- ২ ও ৪, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ ও ৬, নোয়াখালী-১, ২, ৪ ও ৫, এবং চট্টগ্রাম-৭, ৮, ১৪ ও ১৫।

সীমানা পুন:নির্ধারণ সংক্রান্ত কমিটির একাধিক সদস্য জানান, কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ি লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সঙ্গে ৯টি ইউনিয়ন পরিষদ যুক্ত হবে। এসব ইউনিয়ন পরিষদ লক্ষ্মীপুর-২ আসন থেকে বেরিয়ে যাবে। এ জেলার জন্য এটি বড় পরিবর্তন। এবার সাভার উপজেলার ইউনিয়নগুলো একই আসনের আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর ফলে ঢাকা-২, ৩, ১৪ ও ১৯ আসনের সীমানা পরিবর্তন আসবে বলে জানিয়েছেন সংশিষ্টরা। তারা আরও জানান, কুমিলার দুটি থেকে চারটি আসনের সীমানায় পরিবর্তন আসতে পারে। ইতোমধ্যে কুমিল্লার-১০ সংসদীয় আসনের বর্তমান সীমানা অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছে কমিটি। ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছে কমিশন। আপীল বিভাগের রায়ের পর কতটি আসনের সীমানা পরিবর্তন আসবে সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।

তারা আরও জানান, ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকাইল উপজেলা খন্ডিত অবস্থায় দুটি আসনের মধ্যে ছিল। নতুন খসড়ায় একত্রিত করে একটি আসনে আনা হবে। কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর ও চিলমারী উপজেলাও বর্তমানে খন্ডিত রয়েছে। গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী খন্ডিত অবস্থায় দুটি আসনেও থাকলেও এখন একত্রিত করা হয়েছে।

সম্প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইসির সংলাপে আওয়ামী লীগসহ কয়েকটি দল বিদ্যমান সীমানা বহাল রেখে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তাব করেছে। ওই দলগুলো ছোটখাটো পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে তা করা যেতে পারে বলে মত দিয়েছে। অপরদিকে বিএনপি ২০০৮ সালের আগের সীমানায় ফেরত যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। কয়েকটি দল জনসংখ্যা ও ভোটার সংখ্যার ভিত্তিতে সীমানা নির্ধারণ করার প্রস্তাব দিয়েছে। নতুন খসড়া অনুযায়ি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রস্তাব রাখা একপ্রকার অসম্ভব হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

পিডিএসও/তাজ