৫ জানুয়ারি ঘিরে উত্তাপ

প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০১৮, ১০:৩৬ | আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০১৮, ১০:৪৪

হাসান শান্তনু

আজ বহুল আলোচিত ৫ জানুয়ারি। এই দিনটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আবার উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি গত তিন বছরের মতো দিনটি ঘিরে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কর্মসূচি পালন ও ঠেকানো নিয়ে দল দুটির শীর্ষনেতাদের বাগ্যুদ্ধ এরই মধ্যে রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। ২০১৪ সালের এই দিনে অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনের চতুর্থ বর্ষপূর্তিতে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির ঘোষণায় নতুন বছরের শুরুতে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনীতির অঙ্গন।

এমন পরিস্থিতিতে সংঘাতের আশঙ্কাও করা হচ্ছে। আবারও দুটি দলের মুখোমুখি অবস্থানে কোনো সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় কিনা, জনমনে সেই শঙ্কাও ভর করছে। আওয়ামী লীগের দাবি, ৫ জানুয়ারি কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে বিএনপি আবারও দেশে ‘সংঘাতময় পরিস্থিতি’ সৃষ্টি করতে চাইছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, চলতি বছরের শেষের দিকে অনুষ্ঠিতব্য একাদশ নির্বাচন নিয়ে আগের অবস্থানে নেই বিএনপি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রশ্ন থেকে সরে এসে তারা এখন সহায়ক সরকারের দাবি তুলছে। ধীরে ধীরে দলটি অবস্থান পরিষ্কার করছে। দলটি আগামী একাদশ নির্বাচনে যাবে বলে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে বলা হচ্ছে। ভোটের বছরের প্রথম দিকে তাই ‘কঠোর’ হওয়ার কথা বলেছে দলটি। অন্যদিকে ৫ জানুয়ারি ঢাকাসহ সারা দেশে মাঠ দখলের পরিকল্পনা নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

দিনটিকে উপলক্ষ করে ‘বিএনপি-জামায়াতসহ সাম্প্রদায়িক শক্তি’ যাতে কোনো ধরনের ‘নাশকতা ও সংঘাতময়’ পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে না পারে; সেজন্য সারা দেশে বিস্তারিত কর্মসূচি দিয়েছে দলটি। দিনটিকে কেন্দ্র করে দলটি ‘বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করলে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে’, বলছেন আওয়ামী লীগের হ এরপর পৃষ্ঠা ২ কলাম ৬ শীর্ষনেতারা। বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে প্রস্তুত আওয়ামী লীগ। তবে বিএনপি বলছে, তাদের কর্মসূচি হবে ‘শান্তিপূর্ণ’।

৫ জানুয়ারিকে ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ হিসেবে এবারও উদ্যাপন করছে আওয়ামী লীগ। দিনটি ঘিরে বিজয় শোভাযাত্রা ও সমাবেশসহ দলটির পক্ষ থেকে সারা দেশে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ আখ্যা দিয়ে কালো পতাকা মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সংসদের বাইরের বিরোধী দল বিএনপি। ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আজ সমাবেশ করার অনুমতি দলটি পায়নি। দলটি চাইলে আজ চার দেয়ালের মধ্যে যেকোনো ধরনের কর্মসূচি পালন করতে পারবে। গতকাল বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের পক্ষ থেকে বিএনপিকে এ তথ্য জানিয়ে দেওয়া হয়।

বিএনপির সূত্র জানায়, আজ বেলা ১১টায় দলটি এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি জানাতে পারে। এতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। গত বছরও বিএনপি ঢাকায় ৫ জানুয়ারির সমাবেশ করতে পারেনি। দলটি গত বছরের ৭ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে না হলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের কোথাও অনুমতি দেওয়া হয়নি।

২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের প্রথম বর্ষপূর্তির দিবসটিতে দেশজুড়ে লাগাতার অবরোধ ও হরতালের ঘোষণা দেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরপর তিনি গুলশান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। ৯২ দিনের মাথায় তিনি আদালতে হাজিরা দেওয়ার জন্য কার্যালয় থেকে বের হন। ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দল সমাবেশের অনুমতি চাইলে তা বাতিল করা হয়।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের নির্বাচন বর্জনের মধ্য দিয়ে দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। শুধু বর্জনই নয়, নির্বাচনকে প্রতিহত করতে ধারাবাহিক আন্দোলনের কর্মসূচি দেয় বিএনপি-জামায়াত। দেশে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়। ওই পরিস্থিতিতেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচনের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নেয়। সব ধরনের বাধা উপেক্ষা করে ৫ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই নির্বাচন ছিল গণতন্ত্র রক্ষার এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার নির্বাচন। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসে। তিন বছর ধরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ভিন্ন আঙ্গিকে দিনটি পালন করে আসছে।

আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চতুর্থ বর্ষপূর্তির দিন ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ হিসেবে উদযাপন করবে দলটি। এ উপলক্ষে আজ বিকেল ৩টায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিজয় শোভাযাত্রা ও সমাবেশের আয়োজন হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

গতকাল বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর বনানী পূজা মাঠে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিকেল ৩টায় অনুরূপ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়াও আওয়ামী লীগের সব জেলা, মহানগর, উপজেলা ও থানাগুলোয় ৫ জানুয়ারির অনুরূপ কর্মসূচি পালন করবে। দেশব্যাপী এ কর্মসূচিতেও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেবেন। দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ উপলক্ষে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ঘোষিত কর্মসূচি যথাযথভাবে পালনের জন্য দেশের সব জেলা, মহানগর, উপজেলা ও থানা আওয়ামী লীগসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সর্বস্তরের জনগণকে গণতন্ত্রের বিজয়ের এই ঐতিহাসিক দিনটি উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপনের জন্যও অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

৫ জানুয়ারি বিএনপি দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করলে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং দলের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ এমপি। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পিডিএসও/হেলাল