বিজয় এসেছে ফিরে

প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৭:৫১ | আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৮:০৩

বিশেষ প্রতিনিধি

একাত্তরের এই দিনে ঢাকার আকাশ পুরোপুরি দখল করে নেয় ভারতের মিত্র বাহিনীর বিমানবাহিনী। আকাশ থেকে মুহুর্মুহু বোমা বর্ষণে ওড়ে যেতে থাকে শত্রুর বাংকার। স্থলে বা আকাশে টিকতে না পেরে বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয় পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণ। বাংলাদেশ নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে পড়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গন। জাতিসংঘে বাংলাদেশকে নিয়ে তৈরি হয় বিতর্ক। আজ ৫ ডিসেম্বর। একাত্তরের এই দিন বাংলাদেশ নিয়ে মার্কিন সরকারের বিশেষ উদ্যোগে জাতিসংঘে নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশন বসে। অধিবেশনে যুদ্ধবিরতির জন্য দেওয়া মার্কিন প্রতিনিধি সিনিয়র বুশের প্রস্তাবে ‘ভেটো’ দেন সোভিয়েত প্রতিনিধি কমরেড মালিক। ভেটো দেওয়ার আগে মালিক বলেন, ‘পাক সামরিক জান্তার নিষ্ঠুর কার্যকলাপের ফলেই পূর্ব বাংলার বর্তমান পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে।’

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মূলত বাংলাদেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মূল লড়াইটা ছিল দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মাঝে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল বাংলাদেশের পক্ষে আর যুক্তরাষ্ট্র ছিল পাকিস্তানের পক্ষে। সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রস্তাবটি ছিল—‘পূর্ব পাকিস্তানে এমন এক রাজনৈতিক নিষ্পত্তি প্রয়োজন, যার ফলে বর্তমান সংঘাতের অবসান ঘটবে।’ এই প্রস্তাবে পোল্যান্ড সমর্থন জানায়। কিন্তু ভেটো দেয় চীন। অন্যরা ভোটদানে বিরত থাকে। জাতিসংঘে চীনের প্রতিনিধিরা বলেন, কোনো শর্ত ছাড়াই পাকিস্তান থেকে ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহার করতে হবে। এমনকি চীনের প্রধানমন্ত্রী চউ এন লাই ভারতীয় হামলার মুখে পাকিস্তানকে সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়ার কথাও বলেন। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনের এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মুক্তিযোদ্ধারা যাতে মনোবল হারিয়ে না ফেলেন সেজন্য মুক্তিবাহিনীর সেনাপতি জেনারেল ওসমানী জাতির উদ্দেশে বেতারে ভাষণ দেন।

পাকিস্তানি সেনাদের ওপর ৩ ডিসেম্বর রাত ১টায় বিমান হামলা শুরু করেছিল বাংলাদেশ ও ভারতীয় বিমানবাহিনী। ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত অবরুদ্ধ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় হানা দেয় ২৩০ বার। আর এই দিন বাংলাদেশ বিমানবাহিনী সিলেট সেক্টরে বোমা বর্ষণ করে উড়িয়ে দেয় শত্রুর পাঁচটি বাংকার। জামালপুর বিমান হামলায় হানাদার বাহিনীর কয়েকশ সৈন্য নিহত হন, বিধ্বস্ত হয় বহু সামরিক যানবাহন।

চট্টগ্রামে পাকিস্তান নৌবাহিনী ও ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজগুলোর মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়। নৌবাহিনীর যৌথ কমান্ডার চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে সব বিদেশি জাহাজগুলোকে বন্দর ছেড়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন। বিদেশি জাহাজগুলো নিরাপত্তা চাইলে তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন কমান্ডার। এই দিন লেফটেন্যান্ট আরেফিনের নেতৃত্বে চালনা নৌবন্দরে এক তীব্র আক্রমণ সংঘটিত হয়। মুক্তিবাহিনীর এ আক্রমণের ফলে পাকিস্তান বাহিনীর সব সৈন্য বন্দর ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।

বখশীগঞ্জ দখলে নেয় যৌথবাহিনী। মুক্ত হয় পীরগঞ্জ, হাতীবান্ধা, পচাগড়, বোদা, ফুলবাড়ী, বীরগঞ্জ ও নবাবগঞ্জ। আর জীবননগর, দর্শনা ও কোটচাঁদপুরে পাক হানাদার বাহিনী মিত্রবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে টিকতে না পেরে আত্মসমর্পণ করে।

পিডিএসও/হেলাল