সড়ক যেন বাস টার্মিনাল!

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১১ আগস্ট ২০১৭, ০৯:২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

দিনভর বাসের দখলে থাকছে অতীশ দীপঙ্কর সড়কের বড় একটি অংশ। এর ফলে প্রতিদিন যানজটে নাকাল ওই পথের যাত্রীরা। খিলগাঁও ফ্লাইওভার থেকে নেমে বাসাবো পেরিয়ে মুগদার দিকে যেতেই যানজটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে যাত্রীদের। অবৈধভাবে বাস-ট্রাক রাখায় চওড়া সড়কটি মানুষ ব্যবহার করতে পারছে না।

মুগদা থেকে গোলাপবাগ পর্যন্ত অতীশ দীপঙ্কর সড়কের দেড় কিলোমিটার অংশ জুড়ে এনা পরিবহনের চারটি, হিমাচল পরিবহনের চারটি, শ্যামলী পরিবহনের তিনটি, একুশে পরিবহনের তিনটি, ড্রিম লাইনের দুটি, ঢাকা এক্সপ্রেসের দুটি, কে কে ট্রাভেলসের দুটি, ইউনিক পরিবহনের দুটি, রয়েল কোচের দুটি, স্টার লাইনের দুটি, মুন লাইনের দুটি করে কাউন্টার রয়েছে।

হিমালয়, ইকোনো সার্ভিস, টিআর ট্রাভেলস, সেবা ট্রান্সপোর্ট, আল বারাকা, সেবা গ্রিনলাইন, গ্রিন লাইন, দরবার পরিবহন, নিউ সাফা পরিবহন, সৈকত পরিবহন, কনক পরিবহন, অনন্যা সুপার, হানিফ পরিবহন ও যাতায়াত পরিবহনের একটি করে কাউন্টার রয়েছে সড়কের ওই অংশে। সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের বাইরে এসব কাউন্টার খোলা হয়েছে সিটি করপোরেশন বা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের অনুমতি ছাড়াই। এসব পরিবহনের কয়েকটির নিজস্ব ডিপো থাকলেও তাতে বাস রাখা যায় মাত্র কয়েকটি। ফলে অধিকাংশ বাস কাউন্টারের সামনে রাস্তার ওপরই থাকে। তাতে সড়কের একটি লেনে আর চলাচলের সুযোগ থাকে না। কোথাও কোথাও দুই সারিতেই বাস দাঁড় করিয়ে রাখা ও মোড় ঘুরানো কাজ চলে। পুরো সড়ক দখল করে ইউ টার্ন নিচ্ছে স্টার লাইন পরিবহনের বাস, যাতে সড়কের দুই পাশেই লাগছে যানবাহনের জট। দুই পাশের পুরো সড়ক; দিনভর অসংখ্য বার দূরপাল্লার বাসের এমন ইউ টার্নে থেমে যেতে হয় এ রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহনকে।

রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে মেরামত করা হচ্ছে ট্রাক ও কার্গো। কার্গোতে উঠানামা হচ্ছে মালামাল। সিগন্যাল অমান্য করে উল্টো দিক (ইউটার্ন) ধরে চলাচল করতেও দেখা যায় কয়েকটি পরিবহনকে। এভাবে কমলাপুর আইসিডি থেকে মুগদা আইডিয়াল স্কুল পর্যন্ত সড়কের দুপাশেই নিয়ম অমান্য করে পরিবহনগুলো যাত্রী ও মাল তোলা-নামানোর কাজ করছে।

বাসাবোর বাসিন্দা আকবার হোসেন বলেন, বাসাবো, মুগদা, মাদারটেক ও মানিকনগরের বাসিন্দাদের মতিঝিল বা নগরীর পশ্চিমাংশে যেতে হয় এ সড়ক দিয়েই। সায়েদাবাদ থেকে নগরীর উত্তর অংশে যাওয়ারও প্রধান সড়ক এটি। কিন্তু বাস রেখে দেওয়ায় সকাল-বিকেল যানজট লেগে থাকে। ওইটুকু রাস্তা এক ঘণ্টায়ও পার হওয়া যায় না। বাস মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন আকবর। স্টার লাইন পরিবহনের ব্যবস্থাপক নাসির আহমেদের দাবি, সায়েদাবাদ টার্মিনালে জায়গা হয় না বলেই তারা সড়কে কাউন্টার করতে বাধ্য হয়েছেন। এ ছাড়া টার্মিনালে পরিবেশ ভালো না বলে যাত্রীরাও সেখানে যেতে চায় না। এ কারণে তারা বাইরে কাউন্টার করেছে।

তবে সায়েদাবাদ টার্মিনালে জায়গা না থাকার অভিযোগ অস্বীকার করছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) টার্মিনাল মহাব্যবস্থাপক নিতাই চন্দ্র সেন। দূরপাল্লার বাসের কারণে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে জানিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক, পূর্ব) মোহাম্মদ মইনুল হাসান বলেন, যাত্রী চাহিদা থাকায় রাস্তার পাশে কাউন্টার বানানো হলেও সেগুলোর অনুমোদন নেই। এদের কারণে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে আমরা ব্যবস্থা নেই।

সড়কে একটা গাড়ি রাখলে আমরা কিছু বলি না। তবে কখনো যদি ডবল লেন করে, আমরা মামলা দিই। প্রয়োজন পড়লে রেকারিং করি। কাউন্টারগুলো দেখার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। তারা চাইলে এগুলো উচ্ছেদে ব্যবস্থা নিতে পারে বলে মন্তব্য করেন ট্রাফিক পুলিশের এই কর্মকর্তা। অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, ট্রাফিক পুলিশ সতর্ক হলে ওই সড়কে যানজট কম হতো। কাউন্টার উচ্ছেদে ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা সামনের সপ্তাহে একটা দিন দেখে এগুলো উচ্ছেদ করে দেব।

পিডিএসও/হেলাল