‘গার্মেন্টসখাতে বিপর্যয় মোকাবিলায় এখন আন্তর্জাতিক লবিং করতে হবে’

প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২০, ২১:৪৫

অনলাইন ডেস্ক

কোভিড-১৯ পরিবর্তীত পরিস্থিতিতে তৈরি পোষাক খাতের বিপর্যয় মোকাবিলায় ট্রেড ইউনিয়ন, মালিক ও সরকারের পক্ষ থেকে এখনই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্তিশালী লবিং করতে হবে। বলেছেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের (এমজেএফ) নির্বাহি পরিচালক শাহীন আনাম। কর্মজীবী নারী আয়োজিত এক ওয়েবিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য তিনি এই কথা বলেন।

বুধবার ‘কোভিড-১৯ পরিবর্তী পরিস্থিতিতে তৈরি পোশাক খাতের নারীশ্রমিকের স্বাস্থ্য, কাজ ও অনিশ্চিত জীবনযাত্রা’ শীর্ষক এ ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হয়। জুম সফটওয়ারে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের (এমজেএফ) ফেসবুক পেজে সকাল ১১ ঘটিকা থেকে ১টা পর্যন্ত এই ওয়েবিনারের সঞ্চালনা করেন কর্মজীবী নারীর নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া রফিক বেবী।

এতে আলোচক ছিলেন বিআইডিএস-এর উর্দ্ধতন গবেষক ড. নাজনীন আহমেদ, ব্রাক বিশ^বিদ্যালয়ে জেন্ডার এন্ড ট্রান্সফরমেশন ক্লাস্টার (বিআইজিডি) বিষয়ে গবেষণা সহযোগী ইফফাত জাহান অন্তরা, সবুজের অভিযান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মাহমুদা বেগম, এবং  বাংলাদেশ লেবার স্টাডিজের (বিলস) নির্বাহি সদস্য কাজী রহিমা আক্তার সাথী। এতে বিশেষ অতিথি অংশ নেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহি পরিচালক শাহীন আনাম। কর্মজীবী নারীর প্রকল্প কর্মকর্তার আল-জাহিদ প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতের এই তথ্য জানান।

ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, ‘এই মহামারি মোকাবেলা কেবলমাত্র অর্থনীতির তত্ত্ব দিয়ে হবে না, দরকার সামাজিক সহমর্মিতার। কারখানার অভ্যন্তরে ব্যয় সংকোচন নীতি মেনে শ্রমিকের চাকরি কিভাবে রাখা যায় সেটা ভাবতে হবে। প্রয়োজনে শ্রমিক ছাঁটাই নিয়মনুযায়ী হতে হবে এবং তৈরি পোশাক খাতের ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের তালিকা করে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে অগ্রধিকার ভিত্তিতে কাজের সুযোগ করে দিতে হবে।’  

এ ছাড়া সভায় পাঠ করা একটি ধারণাপত্রে তৈরি পোশাক খাতের নারী শ্রমিকদের বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে  উল্লেখ করা হয়, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিচালিত কারখানার সংখ্যা নিতান্তই কম। অপরদিকে গার্মেন্ট নারীশ্রমিকরা নানা কারণেই পুষ্টিহীণতায় ভুগে থাকেন। ফলে কোভিড-১৯ মোকাবেলার প্রধান হাতিয়ার ইম্যুইনিটি তৈরির ক্ষেত্রেও নারীশ্রমিক পিছিয়ে আছেন। এছাড়া নারী শ্রমিকদের আবাস স্থল থেকে শুরু করে চলার পথ সর্বত্রই রয়েছে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকি। এ অবস্থায় নারী শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রশ্নটি নতুন করেই ভাবা উচিৎ।

ধারণাপত্রে শ্রমিদের জন্য পৃথক হাইজেনিক পরিবহন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসম্মত শ্রমিক কলোনী এবং স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশের দাবি করা হয়। তাদের দাবি, যেহেতু কোভিড-১৯ সাময়িক কোনো পরিস্থিতি নয়, তাই দীর্ঘমেয়াদী এই উদ্যোগ ও সেনুযায়ী বিনিয়োগই তৈরি পোশাক শিল্পখাতকে আগামীতে টিকে যেতে সহায়তা করবে।
ওয়েবিনার লিংক: 
https://www.facebook.com/manusherjonnofoundation/videos/276214660329840

পিডিএসও/এসএম শামীম