পাকিস্তানে বঙ্গবন্ধুর কারাবাসের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২০, ১৯:৩৪

অনলাইন ডেস্ক

একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দিনলিপির তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার সংসদে জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নুর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা বলেন, ‘কারাগারের রোজনামচা’ মূলত ১৯৬৬ সাল থেকে ৬৮ সাল পর্যন্ত। একাত্তর সাল থেকে আমরা উনার (বঙ্গবন্ধু) কোনো লেখা পাইনি। কারণ একাত্তর সালে উনি কারাগারে (পাকিস্তানে) কীভাবে ছিলেন, কী অবস্থায় ছিলেন, আসলে তার কিছুই আমরা জানি না।

তিনি বলেন, সামান্য একটা লাইন পাওয়া গেছে। অক্সফোর্ড থেকে প্রকাশিত আইয়ুব খানের ডায়েরি থেকে। সেখানে উনার (বঙ্গবন্ধু) সম্পর্কে কিছু কমেন্ট করা আছে। বঙ্গবন্ধুকে যখন কোর্টে নিয়ে আসা হতো, উনি আসতেন, দাঁড়াতেন, বসতে বললে বসতেন। উনি এসে দাঁড়িয়েই নাকি জয় বাংলাদেশ বলতেন। বলতেন, আমাকে যা খুশি তাই করো, আমার যেটা করার আমি তা করে ফেলেছি। অর্থাৎ আমার বাংলাদেশ তো স্বাধীন হবেই।

শেখ হাসিনা বলেন, এর বাইরে একাত্তরের কিছু আমি পাইনি। তবে চেষ্টা করে যাচ্ছি। এখনও আমার চেষ্টা আছে ওখান (পাকিস্তান) থেকে কোনো কিছু উদ্ধার করা যায় কিনা?

উল্লেখ্য, একাত্তরের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তার ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বাড়ি থেকে আটক করে পাকিস্তানি সেনারা। এরপর তাকে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই রাতেই বাংলার নিরস্ত্র মানুষের ওপর বর্বর হামলা চালানো শুরু করে পাকিস্তানি হানাদাররা।

তবে পাকিস্তানি সেনার হাতে আটক হওয়ার আগেই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান বঙ্গবন্ধু। তার ডাকেই বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঙালিরা।

দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। বেঁচে থাকলে এবার বঙ্গবন্ধুর বয়স ১০০ বছর হতো। চলতি বছরের গত ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ছিল।