রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল বন্ধ করা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ পরিপন্থি : শ্রমিক জোট

প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২০, ২০:০৬ | আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২০, ২০:৪৮

অনলাইন ডেস্ক

২৫ হাজার শ্রমিক এবং তাদের পরিবারকে কর্মহীন করে রাষ্ট্রয়াত্ব সব পাটকল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত সরকারের একটি গণবিরোধী ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ পরিপন্থি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় শ্রমিক জোট-বাংলাদেশ এর নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের জন্য সরকার ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে, অথচ স্কপ-এর গবেষণা প্রস্তাবনায় দেখা গেছে- মাত্র ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা খরচ করে অধুনিকীকরণ করলে উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে কারখানাগুলোকে লাভজনক করা সম্ভব ছিল।

শনিবার শ্রমিক জোট সভাপতি ও শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) অন্যতম নেতা সাইফুজ্জামান বাদশা, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও স্কপের যুগ্ম-সমন্বয়কারী নইমুল আহসান জুয়েলসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানান। সংগঠনের দফতর সম্পাদক রাজীব আহমেদ প্রেরিত এ বিবৃতি পাঠান।এতে পাটকল বন্ধের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সিদ্ধান্ত বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এর আগে গত ২৮ জুন দেশের ২৬টি রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল বন্ধ করে ২৪ হাজার ৮৮৬ জন শ্রমিককে ‘গোল্ডেন হ্যান্ডশেক’দেওয়ার ঘোষণা করেছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। এর প্রতিবাদ জানিয়ে শ্রমিক জোট নেতৃবৃন্দ বলে, কয়েক দশক ধরে লোকসানের অজুহাত দিয়ে একের পর এক পাটকল বন্ধ বা বেসরকারিকরণ করা হয়েছে। অথচ স্বাধীনতার আগে ষাটের দশকে পুরো পাকিস্তানের রফতানি আয়ের প্রধান উৎস ছিল এই পাট। স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম স্বপ্ন ছিল এ পাটকে ঘিরেই। ভাবনা ছিল, এ পাট বাংলাদেশের মানুষেরই কাজে লাগবে এবং তা বাংলাদেশকে যথাযথ উন্নতির পথে নিয়ে যাবে। কিন্তু তা আর হয়ে উঠেনি।

তারা অভিযোগ করেন, প্রয়োজন অনুসারে মেশিনপত্র আধুনিকায়নে বিনিয়োগ করলে উৎপাদন বাড়ানো যেত। কিন্তু সরকার বিভিন্ন সময়ে মজুরি না দিয়ে কারখানা বন্ধ রেখে অচলাবস্থা তৈরি করেছে। ইচ্ছা করে বছর বছর লোকসানের পাল্লা ভারী করা হয়েছে। ১৯৯৪ সাল থেকে বিশ্বব্যাংক ঋণ নিয়ে ‘পাট শিল্প উন্নয়ন কর্মসূচি’র নামে দেশে শিল্প বন্ধ ও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনায় অর্থনৈতিক মন্দা উত্তরণে বিশ্ব যখন কর্মসংস্থান তৈরির দিকে মনোযোগ দিয়েছে তখন বাংলাদেশ সরকার লটোপথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ২৬টি পাটকল বন্ধ করে স্থায়ী, অস্থায়ী, বদলীসহ প্রায় ৭০ হাজার শ্রমিক এবং তাদের উপর নির্ভরশীল লাখ লাখ শ্রমজীবী মানুষকে বেকারত্ব আর অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেওয়ার আত্নঘাতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাটকল বন্ধের ফলে বিশেষ দক্ষতা সম্পন্ন শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে যাবেন। কোনরকম গোল্ডেন হ্যাণ্ডশেক ছাড়াই কাজ হারিয়ে পথে বসবে দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করা শ্রমিকরা। তারা সরকারকে পাটকল বন্ধের প্রক্রিয়া থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।