পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত গণবিরোধী, আত্মঘাতী : শ্রমিক জোট

প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২০, ১৯:০৮ | আপডেট : ২৯ জুন ২০২০, ১৯:১৪

অনলাইন ডেস্ক

করোনার মধ্যে দেশের পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত গণবিরোধী ও আত্মঘাতী হিসেবে মন্তব্য করেছেন জাতীয় শ্রমিক জোট-বাংলাদেশ এর নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, করোনা দুর্যোগে দেশের শ্রমজীবী মানুষ যখন কর্মহীন হয়ে অর্ধাহার-অনাহারে দিনযাপন করছে, সেই সময় সরকার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ২৫টি পাটকল বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এতে স্থায়ী, অস্থায়ী, বদলীসহ প্রায় ৭০ হাজার শ্রমিক এবং তাদের উপর নির্ভরশীল লাখ লাখ মানুষকে বেকারত্ব ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিবে। এটি অগণতান্ত্রিক ও আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত।

শ্রমিক জোট সভাপতি ও শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) অন্যতম নেতা সাইফুজ্জামান বাদশা, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও স্কপের যুগ্ম-সমন্বয়কারী নইমুল আহসান জুয়েলসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে এই মন্তব্য করেন। সোমবার সংগঠনের দফতর সম্পাদক রাজীব আহমেদ প্রেরিত এ বিবৃতি পাঠান।

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্তকে ‘ষড়যন্ত্র’ বলে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, গত ১১ বছরে পাটকলগুলিকে লাভজনকভাবে পরিচালনা বিষয়ে সরকার, বিজেএমসি, শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দফায় দফায় আলোচনা হয়েছে। সেখানে পাট ক্রয়ে লোকসান-দুর্নীতি বন্ধে মৌশুমে যথাসময়ে কাঁচাপাট ক্রয় করা, কারখানা পরিচলনা ব্যয়ে দুর্নীতি বন্ধ, পণ্য মোড়কে পাট ব্যবহার আইন ২০১০ প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই সঙ্গে পাটকলগুলিকে আধুনিকায়ন করা, পাটের ব্যবহার বহুমুখীকরণসহ বাস্তবসম্মত বেশ কিছু প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছিল। এজন্য সরকার প্রয়োজনীয় অর্থও বরাদ্দ করেছিল।

নেতৃবৃন্ধ অভিযোগ করেন, সেই সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাব বাস্তবায়ন না করে পাটকলকে বন্ধের গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর প্রতিবাদে পাট ব্যবহার আইন ২০১০ বাস্তবায়নসহ করোনাকালে রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিলের আহ্বান জানান তারা।

এদিকে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যায়াচুইটির টাকা পরিশোধ করার দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক জোট নেতৃবন্দ।