বাজেট অধিবেশনে থাকছে নানা বিধিনিষেধ

প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২০, ০৮:১৬ | আপডেট : ০৬ জুন ২০২০, ১৫:৪৪

গাজী শাহনেওয়াজ

সব ধরনের ঝুঁকি এড়াতে সংসদের বাজেট অধিবেশনকে ঘিরে এবার কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে কোনো ছাড় দিচ্ছে না সংসদ সচিবালয়। দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অধিবেশন চলার পুরো সময় সংসদ সচিবালয়ের ব্যবস্থাপনায় কোয়ারেন্টাইনে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর অধিবেশনের আগে তাদের নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে করোনাভাইরাস নেগেটিভ প্রমাণিত হতে হবে। এরই মধ্যে প্রায় ১০০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সংসদ সচিবালয় সূত্র মতে, আগামী দুই-একদিনের মধ্যে বাকিদেরও পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে। সংসদ ভবনের মেডিকেল সেন্টারের মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এই টেস্টে নেগেটিভ আসা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অধিবেশনে দায়িত্ব পালন করবেন। আর আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির সংস্পর্শে না যেতে পারে সে জন্যেই তাদের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা হবে। সংসদ সচিবালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ঝুঁকি এড়াতে শারীরিকভাবে অসুস্থ ও বয়স্ক সংসদ সদস্যদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। রোস্টার করে তাদের অধিবেশনে যোগদান নিশ্চিত করা হবে। কোরাম পূর্ণ হওয়ার জন্য ৬০ জনের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। তবে উপস্থিতি যাতে কোনোভাবেই তিন অঙ্কে না পৌঁছায় সেদিকে সতর্ক থাকা হবে। অধিবেশন কক্ষের আসন বিন্যাসও আগের মতো থাকছে না। সংসদ নেতা তথা প্রধানমন্ত্রীর আশপাশের বেশ কয়েকটি আসন ফাঁকা রাখা হবে। সংসদ সদস্যরা সবাই পাশের আসন ফাঁকা রেখেই বসবেন। অংশগ্রহণকারী সবার জন্য মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আর সবাইকে ডিসইনফেকশন চেম্বার দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। মূল ভবনে প্রবেশের ক্ষেত্রে থার্মাল স্ক্যানারে তাপমাত্রা মেপে নিতে হবে।

এ প্রসঙ্গে সংসদের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি বলেন, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের স্বার্থে প্রতি বছরের মতো এবার বাজেট অধিবেশনে সবার প্রবেশের সুযোগ থাকছে না। রোস্টার সংসদ সদস্যরা অধিবেশনে অংশ নেবেন। তারা দূরত্ব বজায় রেখে বসবেন। নির্ধারিত সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী অধিবেশনে দায়িত্ব পালন করবেন। অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্ব থাকছে না। অধিবেশন খুবই সংক্ষিপ্ত হবে। অধিবেশনে বাজেট সংক্রান্ত বিলের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ আর কোনো বিল পাসের সম্ভাবনা নেই।

করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রধান হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে যে কেউ আক্রান্ত হতে পারেন। তবে সংসদ সচিবালয়ের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি থাকছে না। করোনা নেগেটিভ নিশ্চিত হয়েই সংশ্লিষ্ট সবাই অধিবেশনে দায়িত্ব পালন করবেন। তারপরও যিনি ঝুঁকিপূর্ণ, তিনি অধিবেশনে যোগ দেবেন না বলে আমরা আশা করি।

উল্লেখ্য, আগামী ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করবেন। এরআগে ১০ জুন বিকাল ৫টায় চলতি সংসদের অষ্টম (বাজেট) অধিবেশন শুরু হবে। ওই দিন বিকাল ৪টায় সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অধিবেশনের মেয়াদ ও কর্মসূচি চূড়ান্ত হবে। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে এবারের অধিবেশন খুবই সংক্ষিপ্ত হবে। যা ৭ থেকে ১০ দিন চলতে পারে। এর আগে গত ১৮ এপ্রিল সংসদের সপ্তম অধিবেশন একদিনের জন্য বসেছিল। নিয়মরক্ষার ওই অধিবেশনটি সোয়া ঘণ্টায় শেষ হয়। কিন্তু বাজেট অধিবেশনে তেমনটি করার সুযোগ নেই। কারণ প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনা শেষে ৩০ জুন তা পাসের রেওয়াজ রয়েছে।

পিডিএসও/হেলাল