ঈদে রাজধানীর নিরাপত্তা

২ শতাধিক দাগি অপরাধীর তালিকা পুলিশের হাতে

প্রকাশ : ২৩ মে ২০২০, ০৯:৪৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদে রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই শতাধিক দাগি অপরাধীর তালিকা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। থানা পুলিশ ২৪ ঘণ্টা এদের নজরদারিতে রাখবে বলে জানিয়েছে ডিএমপি। এদিকে আইনশৃঙ্খলা কিংবা মানবিক যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দিতে কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক।

অন্যবারের মতো জাতীয় ঈদগাহ ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা আয়োজনের তোড়জোড় নেই এবার। নেই ঈদযাত্রার সেই চিরচেনা রূপও। করোনা মহামারি বদলে দিয়েছে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অনেক হিসাব-নিকাশ। এই পরিবর্তন সার্বিক অপরাধচিত্রেও প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক শহীদুল হকের।

তিনি বলেন, কারো যখন অভাব হয় তখন তার ভেতর অপরাধ বোধও সৃষ্টি হয়। অভাব থেকেই নানা অপরাধমূলক কান্ডে জড়িয়ে পড়ে অনেকেই। অপরাধের এই নতুন মাত্রা নিয়ে চিন্তিত আবাসিক এলাকার নিরাপত্তায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোও। তবে অপরাধ রুখতে সেভাবে প্রস্তুতিও নিয়েছেন তারা। আনসার সদস্যদের টিম লিডার বলেন, আমার সদস্যদের সবাইকে নিরাপত্তার জন্য দিকনির্দেশনা দিয়েছি। করোনার বিস্তার ঠেকাতে গিয়ে সংক্রমিত পুলিশ সদস্যের সংখ্যা বাড়ছে প্রতিদিনই।

ঈদের ছুটিতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তা কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে দাবি করে ডিএমপি জানাচ্ছে অপরাধ ঠেকাতে এরই মধ্যে দাগি অপরাধীদের তালিকা করে নজর রাখা হচ্ছে। ডিএমপি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেন, আমরা জানি এখন অনেকেই বাসাতে আছেন।

এরইমধ্যে কিছু কিছু অপরাধ প্রবণতা আমরা লক্ষ্য করেছি। পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক শহীদুল হক বলেন, ২৪ ঘণ্টা পুলিশকে সচেতন থাকতে হবে। ডিএমপি জানিয়েছে, দাগি অপরাধীদের তালিকায় ছিনতাইকারী, চোর এবং অজ্ঞান ও মলমপার্টির সদস্যদের নাম রয়েছে। এদিকে দেশজুড়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণে চলমান সংকট বিবেচনায় এবারের ঈদে বাইরে ঘোরাফেরা নয়, বরং সবাইকে ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন।

র‌্যাব ডিজি বলেন, এবার একেবারেই ভিন্ন এক প্রেক্ষাপটে আমরা ঈদুল ফিতর উদ্যাপন করতে যাচ্ছি, যখন প্রত্যেকটি জেলা করোনা আক্রান্ত। তাই দেশবাসীকে অনুরোধ করব ঈদের দিন কেউ ঘোরাফেরার জন্য বাইরে বের হবেন না। আপনারা ঘরে থাকুন আপনাদের জন্য আমরা বাইরে আছি। তিনি জানান, এবার ঈদের দিনে বিনোদনের নামে ঘোরাঘুরির বা কোনো বিনোদন কেন্দ্রে দর্শনীয় স্থানে জমায়েত করা যাবে না।

বিনোদন কেন্দ্র বা দর্শনীয় স্থানগুলোতে র‌্যাবের নজরদারি থাকবে। তিনি আরো বলেন, অন্যবার ঈদের নামাজ ঘিরে অল্প সময়ের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন হতো। কিন্তু এবার মসজিদে মসজিদে ঈদের নামাজ হওয়ার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে। সেজন্য মসজিদ কমিটি ও সম্মানিত মুসল্লিদের প্রতি অনুরোধ, আপনারা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মসজিদে আসবেন, নির্ধারিত সময় গ্যাপ দিয়ে দ্বিতীয় বা তৃতীয় জামাতের ব্যবস্থা করবেন।

করোনার সংকটের মধ্যে ঈদের নামাজ ঘিরে কোনো হুমকি আছে কিনা জানতে চাইলে র‌্যাব ডিজি বলেন, এই সংকটময় মুহূর্তে র‌্যাব তাদের দায়িত্ব পালনে পিছপা হয়নি বরং চলমান যে প্রক্রিয়া সেটা আরো গতিশীল ও ত্বরান্বিত রেখেছে।

যেকোনো সন্ত্রাসী, উগ্রবাদী কিংবা জঙ্গি গোষ্ঠীর অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির অপতৎপরতা কঠোরভাবে দমন করা হবে। সেজন্য র‌্যাবের গোয়েন্দা টিম কাজ করছে, নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরো বলেন, উসকানি, নাশকতামূলক ও জঙ্গি অপতৎপরতা বন্ধে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি চেকপোস্ট বাড়ানো হয়েছে। র‌্যাবের সাইবার টিম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মনিটরিং করছে। এছাড়া র‌্যাবের রিজার্ভ ফোর্স, বোম ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

পিডিএসও/তাজ