দেশে সংক্রমণের গতি ঊর্ধ্বমুখী

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২০, ০৮:২৯

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে ক্রমেই বাড়ছে করোনাভাইরাসে সংক্রমণ। একের পর এক আক্রান্ত হচ্ছে জেলা। এ ভাইরাসের সংক্রামণ ঠেকাতে এরই মধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে সভা-সমাবেশ ও গণজমায়েতের ওপর। চারটি দেশ ও অঞ্চল ছাড়া সব দেশ থেকেই যাত্রী আসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এই অবস্থার মধ্যে প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ার ৪০ দিনের মাথায় প্রাণঘাতী এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে অন্তত ৩৮ জেলায়; রাজধানী ঢাকার ৭৫টি এলাকায় কোভিড-১৯ রোগীর সন্ধান মিলেছে।

এদিকে, এক চিকিৎসকসহ আরো চারজনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এই ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫০ জন। আর নতুন করে ২১৯ জনের মধ্যে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১২৩১ জনে। এক দিনে এটাই সর্বোচ্চ শনাক্ত। তবে এ সময়ে সেরে উঠেছেন আরো ৭ জন। সব মিলিয়ে ৪৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

গতকাল বুধবার দুপুরে মহাখালীর ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এমআইএস) বিভাগের মিলনায়তনে অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে নিজ বাড়ি থেকে যুক্ত হয়ে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে ২০টি ল্যাবে করোনার পরীক্ষা হচ্ছে। অনেকে পরীক্ষা করতে চান না। পরীক্ষা করান, নিজে ভালো থাকুন, পরিবারকে ভালো রাখুন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে ২ হাজার শয্যার হাসপাতাল প্রস্তুত করা হচ্ছে। ঢাকায় অন্যান্য স্থান মিলিয়ে সাড়ে চার হাজার শয্যা প্রস্তুত করা হচ্ছে। নতুন আরো হাসপাতাল সংযোজন করা হচ্ছে। দেশে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৩১ জন। আর মৃত্যু বেড়ে হয়েছে ৫০ জন। গত মঙ্গলবার করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্তের সংখ্যা ছিল ২০৯। আর মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৭। পরের ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয় ১ হাজার ৯০৫ জনের।

অনলাইন ব্রিফিংয়ের শুরুতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ জানান, করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দিনের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। ওই চিকিৎসকের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ওই চিকিৎসকের পরিবারের সব দায়িত্ব সরকার বহন করবে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকেও শোক প্রকাশ করা হয়েছে।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, মৃত্যুর খবর পেয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে হাসপাতালে ছুটে যাই এবং ওই চিকিৎসকের সহধর্মিণীর সঙ্গে কথা বলি। মারা যাওয়া ওই চিকিৎসকের সহধর্মিণীও একটি বেসরকারি মেডিকেলের সহকারী অধ্যাপক। তাদের দুটি শিশুর বয়স যথাক্রমে ১২ ও ৭ বছর।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা ব্রিফিংয়ে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত) মৃত চারজনের মধ্যে দুজনের বয়স ৭০ এর বেশি। যে চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে তার বয়স ৫০ বছর। আরেকজনের বয়স ৩৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। তিনি ক্যানসার আক্রান্ত ছিলেন। এদের মধ্যে পুরুষ তিনজন, নারী একজন।

তিনি আরো জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ২ হাজার ৪৮টি। নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১ হাজার ৭৪০টি। গতকালের তুলনায় যা কিছুটা কম। কারণ এখন পর্যন্ত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারাল সেন্টারের রিপোর্ট আমাদের হাতে আসেনি।

গেল ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর মাসের শেষের দিক থেকে দেশে অঘোষিত লকডাউন চলছে। এই সিদ্ধান্তের পরও করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছেই। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার এরই মধ্যে নানা পদক্ষেপও নিয়েছে।

এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিশ্বেই টালমাটাল অবস্থা। সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ছয় লাখ।

উৎপত্তিস্থল চীন পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিয়ে উঠলেও এখন ভুগছে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়াসহ বিশ্বের অন্য অঞ্চল। অন্যদিকে ভাইরাসটিতে মারা গেছেন ২৬ হাজারেরও বেশি মানুষ। বিশ্বব্যাপী এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২০ লাখ। এছাড়া এতে প্রাণ হারিয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৫৪ জন। অন্যদিকে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরে ফিরেছেন ৪ লাখ ৮৪ হাজার ৫৯৭ জন।

পিডিএসও/তাজ