নয়াটোলায় করোনা আক্রান্ত যুবক নিজে হাসপাতালে যাওয়ার নেপথ্যে

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২০, ১৩:১৭ | আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২০, ১৩:৩৪

রাজধানীর মগবাজার এলাকায় নয়াটোলা চেয়ারম্যান গলিতে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন মো: শরীফ আহম্মেদ (৩২) নামের এক যুবক। বৃহস্পতিবার তার পরিবার তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। বিশ্বের নানান দেশের ন্যায় করোনা তাণ্ডবের ভয়াবহতা রুখতে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)  এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল লক্ষণ দেখা গেলে যেন হেল্প লাইনের নম্বরে যোগাযোগ করা হয়। তারাই বাড়ি এসে নমুনা সংগ্রহ করবেন। সেক্ষেত্রে আক্রান্ত যুবকের পরিবার কেনও নিজেরাই শাহবাগস্থ পিজি হাসপাতালে রোগীকে নিয়ে গিয়ে নমুনা দিয়ে এলেন এবং পরবর্তীতে করোনা পজেটিভ জানার পর নিজেদের উদ্যোগে কুর্মিটোলা হাসপাতালে রোগীকে নিয়ে গেলেন? এইসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আক্রান্ত যুবকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতিদিনের সংবাদ অনলাইন।

এর আগে বৃহস্পতিবার শরীফ আহম্মেদের করোনা আক্রান্তের খবর প্রকাশিত হয় জাতীয় দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ এর অনলাইন ভার্সনে। যেখানে আক্রান্ত যুবক শরীফের সঙ্গে মুঠোফোনে বলা কথাগুলো তুলে ধরা হয়। এতে মগবাজার এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে। অনেকে আক্রান্ত যুবকের পরিবারকে নানানভাবে দোষারোপ করছেন বলেও বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। এরপরই প্রতিদিনের সংবাদ এর পক্ষ থেকে আবারও যোগাযোগ করা হয় ২৮৮/২ নয়াটোলার ভাড়া বাসায় বসবাসরত সেই পরিবারের সঙ্গে। 

পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শরীফ আহম্মেদের শরীরে করোনা লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর থেকে তারা আইইডিসিআরের নম্বরে যোগাযোগের জন্য অনেকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে বুধবার সকালে পিজি হাসপাতালে নিয়ে যান তার মা। সেখানে ডাক্তাররা তার নমুনা সংগ্রহ করেন। এরপর রাতে পিজি থেকে ফোন করে শরীফ করোনা আক্রান্ত বলে জানিয়ে তাকে ইমার্জেন্সি কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি হতে বলেন। 

শরীফের ছোট বোন আঁখি বলেন, আমরা এটা জানার পর ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। কোনো উপায় না পেয়ে এবং কারো সঙ্গে যোগাযোগ বা বাইরের কারো কোনো ধরণের সহায়তা না পেয়ে বাধ্য হয়ে সকালে আমার বাবা-মা ভাইয়াকে পিপিই পরিয়ে রিক্সা যোগে হাসপাতালে নিয়ে যান। আমরা জানি এটা রিস্ক। কিন্তু সেই মুহূর্তে তেমন পরিস্থিতিতে একবার চিন্তা করেন, আমরা আর কি করতে পারতাম। সত্যি কথা বলতে কি, আমরা সরকারিভাবে ইমার্জেন্সি কোনো রেসপন্স পাইনি।

একজন করোনা রোগী শনাক্তের পর পিজি থেকে তাকে কিভাবে ইমার্জেন্সি কুর্মিটোলা হাসপাতালে চলে যাওয়ার কথা বলা হয় এমনটাই প্রশ্ন এখন স্থানীয়দের মনে। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, একজন করোনা রোগী শনাক্তের পর সরকার থেকে কোনো উদ্যোগ নিল না? তাকে সেইফলি বাসা থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে গেল না? তাহলে আমরা আর কোথায় নিরাপদ?

বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়িটি সঙ্গে সঙ্গে লকডাউন করে দেওয়া হয় বলে হাতিরঝিল থানার ওসি মো. আব্দুর রশিদ জনিয়েছেন।

এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় আক্রান্ত যুবকের পরিবারের লোকদের নমুনা সংগ্রহের উদ্দেশে অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে স্থানীয়রা জানান।

এ বিষয়ে রাতে শরীফের ছোট বোন আঁখি প্রতিদিনের সংবাদকে ফোনে বলেন, আসলে সরকারের পক্ষ থেকে অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়নি। কিছু না জানিয়ে তাদের বাড়িওয়ালারা অ্যাম্বুলেন্স এর মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের কুর্মিটোলা হাসপাতালে পাঠায়। আমরা কুর্মিটোলা হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারি বিষয়টা।

হাসপাতাল কতৃপক্ষ শরীফের স্ত্রীকে আইসোলেশনে রেখে বাবা-মা, ছেলে, ও দাদীকে বাসায় পাঠিয়ে দেয়। এমনকি তাদের জানিয়ে দেওয়া হয় পিজি অথবা আইইডিসিআরের মাধ্যমে তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করার জন্য।

শরীফের পরিবার আইইডিসিআরে বারবার যোগাযোগ করে আবারও ব্যর্থ হয়ে যোগাযোগ করে ইউনাইটেড হেলথ ডেভলপমেন্ট-এর সঙ্গে। তারা জানান, দেশে কিট কম তাই সবার পরীক্ষা করা সম্ভব নয়। শুধুমাত্র যাদের শরীরে লক্ষণ দেখা দেবে তাদেরই পরীক্ষা করা হবে। সেক্ষেত্রে তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়। 

সবার যেহেতু পরীক্ষা করবে না, তাহলে কি আমরা সবাই সেইফ? এভাবেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আক্রান্ত যুবক শরীফ আহম্মেদের পরিবার। 

এদিকে সকালে পরিবারের সবার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানালেন আক্রান্ত যুবকের ছোট বোন আঁখি।

এছাড়া তারা জানালেন লকডাউনে থাকা অবস্থায়, এলাকাবাসী, স্থানীয় কমিশনার এবং হাতিরঝিল থানার পক্ষ থেকে তাদের যথেষ্ট সাহায্য সহযোগিতা করা হচ্ছে। 

পিডিএসও/মা