পিলখানা হত্যার ১১তম বার্ষিকী

যে তাণ্ডব আজও কাঁদায়

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৮:৩৯

নিজস্ব প্রতিবেদক

যেসব লজ্জাকর ও অগৌরবের ঘটনা দেশের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে, পিলখানা ট্র্যাজেডি তার একটি। রূঢ় ভাষায় বললে এটি আমাদের ইতিহাসে এক দগদগে ঘা। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত হয় এ ভয়ংকর ঘটনা। এ ছিল এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড। নিষ্ঠুরতা, বর্বরতা, অমানবিকতার এক হীনদৃষ্টান্ত। হত্যা করা হয় ৭৪ জনকে। এর ফলে সেনাবাহিনী যেমন প্রতিভাবান, সুদক্ষ, চৌকস সেনা অফিসারদের হারায় তেমনি দেশজুড়ে বয়ে যায় কান্না ও শোকের অনিঃশেষ করুণ মাতম।

শুধু হত্যাই নয়, অফিসারদের স্ত্রী-সন্তান এবং বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনকে আটকে রেখে যে নির্মম নির্যাতন চালায় উচ্ছৃঙ্খল জওয়ানরা; তা মনে উঠলে মানুষ এখনো শিউরে ওঠে। কর্মকর্তাদের বাড়ি-গাড়ি, আসবাবপত্র এবং অন্যান্য সম্পদ আগুনে পুড়ে ছাই করে দেয় উচ্ছৃঙ্খল জওয়ানরা। লুটপাট করা হয় কর্মকর্তাদের সম্পদ। সেনা কর্মকর্তাদের শুধু হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি ঘাতকরা। আলামত নষ্ট করতে প্রথমে তাদের লাশগুলো পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়। ব্যর্থ হয়ে লাশগুলো মাটিচাপা দেয়। ম্যানহোলের মধ্যে ফেলে দেয়।

এদিকে, এই বিদ্রোহের ঘটনায় নিহতদের স্মরণে বিজিবি বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বলে সোমবার বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার শহিদদের রুহের মাগফিরাতের উদ্দেশে পিলখানাস্থ বিজিবি সদর দফতরসহ সব রিজিয়ন, সেক্টর, প্রতিষ্ঠান ও ইউনিটের ব্যবস্থাপনায় খতমে কোরআন, বিজিবির সকল মসজিদে এবং বিওপি পর্যায়ে শহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হবে।

এছাড়া সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় সকাল ৯টায় বনানী সামরিক কবরস্থানে রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধানরা (সম্মিলিতভাবে), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব এবং বিজিবি মহাপরিচালক (একত্রে) শহিদদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

এছাড়াও দিবসটি পালন উপলক্ষে বিজিবির যেসব স্থানে রেজিমেন্টাল পতাকা উত্তোলন হয় সেসব স্থানে বিজিবি পতাকা অর্ধনিমিত থাকবে এবং সদস্যরা কালো ব্যাজ পরিধান করবে।

মঙ্গলবার বাদ আসর সাড়ে ৪টায় পিলখানা কেন্দ্রীয় মসজিদে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল হবে। এ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, বিজিবি মহাপরিচালক, শহিদদের নিকটাত্মীয়, পিলখানায় কর্মরত অফিসার, জুনিয়র কর্মকর্তা, অন্য পদবীর সৈনিক এবং বেসামরিক কর্মচারীরা অংশ নেবেন।

বিচারকাজ সম্পন্ন : পুরান ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর বিডিআর হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। এ মামলায় ৮৩৪ জন আসামির মধ্যে ১৫২ জনের মৃত্যুদ- ও ১৬১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। এছাড়া বিদ্রোহের ঘটনায় অভিযুক্ত ৬ হাজার ৪১ জনের মধ্যে ৫ হাজার ৯২৬ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

পিডিএসও/হেলাল