বাড়িভাড়া : যত বিড়ম্বনা অবিবাহিত পোশাক শ্রমিকদের

প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৯:২৯ | আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:৪৯

নিজস্ব প্রতিবেদক

পোশাক শ্রমিকদের একটা বড় অংশই বয়সে তরুণ হওয়ায় বাড়িভাড়া পেতে তাদের পোহাতে হয় নানা বিড়ম্বনায়। যে কারণে অনেকেই নকল স্বামী বা স্ত্রী বানিয়ে বাড়িভাড়া নেন। বিশিষ্টজনরাও মনে করেন, এসব কারণে বাড়ছে সামাজিক অপরাধ। তবে নারীর অধিকারের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

দেশের পোশাক শিল্পের প্রায় অর্ধেকের বেশি প্রতিষ্ঠান গাজীপুর ও সাভারে। এসব প্রতিষ্ঠানে যারা কাজ করেন, তাদের বেশির ভাগের বয়সই ২০ থেকে ৩০ এর মধ্যে। অধিকাংশ তরুণ-তরুণী অবিবাহিত হওয়ায়, বাসস্থান নিয়ে পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। এ জন্য অনেকেই নকল স্বামী বা স্ত্রী বানিয়ে বাসা ভাড়া নেন। এসব কারণে বাড়ছে অসামাজিক কার্যকলাপ।

পোশাক শ্রমিকরা বলছেন, বাড়ি ভাড়া না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে অনেকে বেছে নিচ্ছেন এমন পথ। বাড়িওয়ালাদের অজুহাত, অবিবাহিতদের বাড়ি ভাড়া দিলে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় তাদের। সম্প্রতি এক সেমিনারে উঠে আসে এসব বিষয়। যেখানে বক্তারা বলেন, বৈধ পন্থায় বাসস্থানের সুযোগ না পেয়ে, অবৈধ পথ বেছে নেন পোশাক শ্রমিকরা। এতে বাড়ছে অপরাধের ঝুঁকি। এর জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদাসীনতা আর বিচার ব্যবস্থা অনুকূলে না থাকাও অন্যতম কারণ।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম বলেন, নারীদের প্রতি সহিংসতা ও ধর্ষণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কমিশন মনে করে যে, সামাজিক অস্থিরতা এবং মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, নারী অধিকারের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। তিনি বলেন, নারী ও শিশুদের প্রতি যে সহিংসতা, সেটা আমরা দূর করতে পারব ইনশাআল্লাহ।

বিচার ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতার কথা স্বীকার করে মন্ত্রী জানান, এই প্রক্রিয়া আরো আধুনিক করতে, সরকার কাজ করছে। এদিকে, তৈরি পোশাক খাতে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি করা হলেও ব্যয় বৃদ্ধির কারণে শ্রমিকদের জীবন মানের কোনো উন্নতি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ পোশাক রফতানি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বিজিএমইএর সভাপতি ও মোহাম্মদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. রুবানা হক।

ড. রুবানা হক বলেন, যে মুহূর্তে শ্রমিকের মজুরি বাড়ে, সঙ্গে সঙ্গে যানবাহনের খরচও বাড়ে; বাড়িওয়ালারাও তাদের কাছে বেশি ভাড়া চান এবং দ্রব্যমূল্যের দামও বেড়ে যায়। কাজেই সব মিলিয়ে শ্রমিকরা ওইভাবে উপকৃত হন না। আগামী অর্থবছরে আমরা বাজেটে প্রস্তাব রাখব শ্রমিকদের জন্য অন্ততপক্ষে আবাসন, গৃহায়ন এবং খাদ্য এ তিনটি জায়গায় সরকার একটু বেশি মনোযোগী হয়। কারণ সরকারের একটি বড় সামাজিক খাত রয়েছে—এ বছর সেটি ৭৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। আমরা আশা করি, আরো ২০০ কোটি টাকা যদি আমাদের শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয় তাহলে শ্রমিকদের জন্য কিছুটা হলেও সাশ্রয় হবে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। তবে শ্রমিকের মজুরি এবং দক্ষতার মধ্যে একটা ফারাক রয়েছে। জাতীয়ভাবে আমাদের দক্ষতার স্তর মাত্র ৪০ শতাংশ। শ্রমিকদের আরো পারদর্শিক করার জন্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রয়োজন রয়েছেএর জন্য আমরা ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির সঙ্গে কাজ করতে পারি।

এ সময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ড. রুবানা হক বলেন, বড়লোক হওয়া এবং বড় মানুষ হওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। শিক্ষা মানুষকে এ পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করে। তোমরা জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করো। সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করো। শৃঙ্খলা ছাড়া জীবনে উন্নতি করা যায় না। ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় তোমাদের যে শিক্ষা প্রদান করছে, শিক্ষার মাধ্যমে তোমরা বড় মানুষ হতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

পিডিএসও/হেলাল