৪৭টি সুইপিং মেশিন কিনবে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন

বায়ুদূষণ কমাতে বিশেষ উদ্যোগ

যেসব প্রতিষ্ঠান ধূলিদূষণ সৃষ্টি করে, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির নির্দেশ

প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৮:১৪ | আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৩:৫৭

হাসান ইমন

রাজধানীতে বায়ুদূষণ কমাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে ধুলাবালি কমাতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ৪৭টি সুইপিং মেশিন কেনার পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৩৪টি, আর উত্তর সিটির ১৩টি। এছাড়া যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ধূলিদূষণের সৃষ্টি করে তাদের বিরুদ্ধেও সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের এ নির্দেশ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা যেসব প্রতিষ্ঠান মানবে না তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। আর ক্রমান্বয়ে শলার ঝাড়ু উঠিয়ে দেওয়া হবে বলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়।

দেখা গেছে, ধূলিদূষণের অন্যতম কারণ হিসেবে রাস্তা মেরামতের সময় শহরের রাস্তা কাটা এবং বাড়ি নির্মাণের জন্য বালি, কঙ্কর ও অন্যান্য সামগ্রী স্তূপ করে রাখা হয়। খোলা অবস্থায় থাকার কারণে এ থেকে ধুলা বাতাসে মিশে বায়ুদূষণ হচ্ছে। নির্মাণ কাজ এবং ইট পরিবহনের কারণেও শব্দ ও বায়ুদূষণ হচ্ছে।

রাজধানীর পরিবেশ রক্ষায় অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় নিজেদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে জানানো হয়, রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি বা মেরামত এবং শহরে যেকোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে অনেক দেরি হয়। এ অবস্থায় সড়কগুলো ব্যবহার করতে গিয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন নগরবাসী। এ অবস্থায় দ্রুত সড়ক মেরামত কাজ সম্পন্ন করে কার্পেটিংয়ে বিলম্ব না করার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ও পরিবেশ রক্ষায় এবং নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় শুকনো মৌসুমে বায়ু ও ধূলিদূষণ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট সব সিটি করপোরেশনকে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ দিয়েছে।

সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে রাস্তা ঝাড়ুর সনাতনী পদ্ধতি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এরই মধ্যে প্রাথমিক ধাপ হিসেবে মন্ত্রণালয় নিজস্ব অর্থে প্রয়োজনে ডিপিপি সংশোধন করে হলেও নগরীর ধূলিদূষণ রোধে সুইপিং মেশিন কেনার পরিকল্পনা নিয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এরই মধ্যে দুইটি সুইপিং মেশিন কিনেছে। এছাড়া নতুন করে সিটি করপোরেশনের অর্থায়নে ২টি বড় ও ৩টি ছোট মেশিন কিনবে। এই ৫টি মেশিন ক্রয় টেন্ডারের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ৩টি ও সরকারি অর্থায়নে (জিওবি) ৬টি সুইপিং মেশিন কিনবে সংস্থাটি। ১৩টি মেশিনের মধ্যে ১০টি বড় ও ৩টি ছোট মেশিন কিনবে সংস্থাটি। এগুলোর মধ্যে বড়গুলোর দাম গড় প্রতি ৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। আর ছোটগুলোর দাম ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ৩৪টি সুইপিং মেশিন কেনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এরই মধ্যে ৯টি মেশিন কেনার জন্য প্রকল্পটি ডিপিপিতে পাঠিয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া আরো ১০টি যান্ত্রিক বিভাগ থেকে কেনা হবে। আর বাকিগুলো বিভিন্ন প্রকল্প থেকে কেনা হবে। এগুলোর মধ্যে ২৪টি বড়, ১০টি ছোট মেশিন। এর মধ্যে বড়গুলোর দাম ধরা হয়েছে ৬ কোটি টাকা। আর ছোটগুলোর দাম ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৪ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, বর্তমানে শুকনো মৌসুম হওয়ায় রাস্তায় ধূলির পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে। এ থেকে নগরবাসীকে প্রাথমিকভাবে রক্ষার জন্য এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ৯টি সুইপিং মেশিন কেনার প্রকল্পটি ডিপিপিতে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলেই টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সম্প্রতি এক সভায় বায়ুদূষণ রোধে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ঢাকা শহর অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস লাইনসহ নানা রকম সেবামূলক কাজ যেগুলো করা হয়েছে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী করা হয়নি। নতুন করে ঢাকা শহরে জনসংখ্যা বেড়েছে। সে অনুযায়ী সংস্থাগুলো সেবা দিতে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ করছে। এতে করে ওয়াসা একদিকে কাটাকাটি করছে, ডেসকো অন্যদিকে করছে, তিতাস আরেক দিকে কাটছে। ফলে ধুলাবালি বাড়ছে। একইসঙ্গে বায়ুদূষণও বেড়েছে। এ বায়ুদূষণ কমাতে ২০টি সুইপিং মেশিন কেনার প্রদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

পিডিএসও/হেলাল