ফাগুনের রঙে বসন্ত-ভালোবাসা দিবসকে বরণ

প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৯:১৫

নিজস্ব প্রতিবেদক

বদলে গেছে বাংলা বর্ষপঞ্জি। নতুন সংশোধিত বর্ষপঞ্জিতে পহেলা ফাল্গুন অর্থাৎ বসন্তের প্রথম দিনেই হচ্ছে ভালোবাসা দিবস। ইংরেজি বর্ষপঞ্জির ১৪ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে ভালোবাসা দিবস হিসেবে পালন করা হয় সারা বিশ্বে, আর বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী বসন্তের প্রথম দিন অর্থাৎ পহেলা ফাল্গুন ছিল ১৩ ফেব্রুয়ারি।

কিন্তু বাংলা বর্ষপঞ্জি সংশোধনের পর একই দিনে পড়ে বসন্ত উৎসব আর ভালোবাসা দিবস। গতকাল শুক্রবার বসন্ত উৎসব আর ভালোবাসা দিবস পালন পালন করা হয়।

ইটপাথরের এই নগরে প্রকৃতিজুড়ে সেভাবে হয়তো দেখা মেলে না বসন্তের রঙিন হাওয়ার। তবে বাসন্তী রঙা বসনে নগরবাসী ঠিকই বরণ করে রঙিন বসন্তকে। বসন্ত আর ভালোবাসা তো এখন মিলেমিশে গেছে। পয়লা ফাল্গুনের পরদিনই ভালোবাসা দিবস। তাই পোশাকসাজে ফাল্গুন আর ভালোবাসার রঙের ছোঁয়া পাওয়া যায় একই সঙ্গে।

কী নেই বসন্তের! আছে রং, রূপ, রস, লাবণ্য। আছে মাতাল দখিনা সমীরণ। ঋতুরাজের আগমনে খুলে গেছে দখিনা দুয়ার। মানব-মানবীর চিরন্তন ভালোবাসা উড়ছে রঙিন প্রজাপতি হয়ে। ফুলে ফুলে আছে মৌমাছির গুঞ্জন। নতুন প্রাণের পত্রপল্লবে জেগে উঠেছে বৃক্ষ-লতা-গুল্ম। নদীর কিনার থেকে আদিগন্ত প্রান্তর, কুঞ্জবন, অরণ্য-পর্বতে ডেকেছে নবযৌবনের বান। প্রকৃতির এই রূপতরঙ্গ দেখেই কবিগুরু লিখেছিলেন- ‘ওরে ভাই, ফাগুন লেগেছে বনে বনে।’ শুধু প্রাণের দুরন্ত আবেগ আর প্রেমেই নয়, দ্রোহে-প্রতিবাদেও উত্তাল বসন্তের হৃদস্পন্দন।

এ বসন্ত নিয়েই কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন- ‘এলো খুনমাখা তূণ নিয়ে/ খুনেরা ফাগুন।’ মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার চেয়ে এই ঋতুতেই তো বাংলার দামাল ছেলেরা শহীদ হয়েছে। তারই খুন মেখে আছে পলাশ-শিমুল। শুধু তাই নয়, স্বৈরাচারবিরোধী গণতন্ত্র দিবস হিসেবেও জ্বলছে পহেলা ফাল্গুন।

ইতিহাস বলে, ১৫৮৫ সালে মোগল সম্রাট আকবর ১৪টি উৎসবের প্রবর্তন করেছিলেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ‘বসন্ত উৎসব’। ১৪০১ বঙ্গাব্দ থেকে সে উৎসব এ উৎসব মহানগর ঢাকা থেকে সারা দেশে নতুন করে তরঙ্গিত হতে শুরু করেছে। পহেলা ফাল্গুনে বসন্ত উৎসবের রঙে মেতে ওঠে তরুণ হৃদয়, নতুন করে প্রাণ পায় প্রবীণেরা। বসন্তে শুধু প্রকৃতিই নয়, হৃদয়ও রঙিন হয়ে ওঠে। তাই তো বসন্ত আমাদের কাছে ‘প্রেমের ঋতু’।

এবারের বসন্তকে স্বাগত জানাতে ‘এসো মিলি প্রাণের উৎসবে’ স্লোগানে রাজধানীর চারটি মঞ্চে বসন্ত উৎসবের আয়োজন করে জাতীয় বসন্ত উদযাপন পরিষদ। এর মূল আয়োজনটি হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায়। এছাড়াও ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর মঞ্চ, সদরঘাটসংলগ্ন ওয়াইজঘাটের বুলবুল ললিতকলা একাডেমির মাঠ (বাফা) ও উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের রবীন্দ্র স্মরণীর উন্মুক্ত মঞ্চে বসন্ত উৎসবের আয়োজন করা হয়।

এছাড়া শুক্রবার ছায়ানটের আয়োজনে সংগঠনের নিজস্ব মিলনায়তনে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় একক ও সম্মিলিতি গান এবং নৃত্য দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় বসন্তকে।

পিডিএসও/তাজ