সংসদে প্রধানমন্ত্রী

আমার হাতে গড়া ছাত্রনেতাদের এভাবে চলে যাওয়া দুঃখজনক

আবদুল মান্নানের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গ্রহণ

প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ২০:০৩

সংসদ প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা সংসদ সদস্য আবদুল মান্নানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, ছাত্রনেতাদের যেখানে আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নেওয়ার কথা, সেখানে তারাই একে একে বিদায় নিচ্ছে। আমার হাতে গড়া ছাত্রনেতাদের এভাবে বিদায় নেওয়াটা দুঃখজনক।

রোববার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য সদ্য প্রয়াত আবদুল মান্নানের মৃত্যুতে আনীতে শোক প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনায় আরও অংশ নেন—আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, বেগম মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ড. আবদুর রাজ্জাক, ড. মহীউদ্দিন খান আলমগীর, শাজাহান খান, এ বি তাজুল ইসলাম, মৃণাল কান্তি দাস, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, জুনাইদ আহমেদ পলক, মোসলেম উদ্দিন, উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, নজরুল ইসলাম বাবু ও আনোয়ার আবেদীন খান এবং মশিউর রহমান রাঙ্গা ও পীর ফজলুর রহমান। 

আলোচনা শেষে শোক প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। পরে আবদুল মান্নানের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এরপর চলতি সংসদের সংসদ সদস্যের মৃত্যুতে রেওয়াজ অনুযায়ী সংসদ অধিবেশনের সকল কার্যক্রম স্থগিত রেখে সোমবার বিকাল সোয়া ৪টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন স্পিকার।

আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৮১ সালের ফিরে আসার পর মান্নানকে ছাত্রনেতা হিসেবে পেয়েছিলাম। ১৯৮৩ সালে তাকে ছাত্রলীগের সভাপতি করি। তখন ছাত্রলীগের খুব দুঃসময় ছিল। অনেকেই ছাত্রলীগ ছেড়ে চলে গিয়েছিল। সে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিল। তাই পরবর্তীতে তাকে আওয়ামী লীগে নিয়ে আসি। সে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক ছিল। বগুড়ার মতো জায়গা ওকে নমিনেশন দিলাম। মান্নান সেখানে থেকে জিতে আসলো। পর পর তিনবার সেখান থেকে সংসদ সদস্য।

অতীত স্মৃতিচারণ করে সংসদ নেতা বলেন, মৃত্যুর দুই দিন আগে আমার সঙ্গে অনেক কথা বললো। আমাদের সেন্ট্রাল কমিটিতে নানক আসলেও সে আসতে পারেনি। বোধহয় মনে একটু দুঃখ ছিল। আমি বললাম, আমি তো তোমাদের কাউকে ফেলে দেইনি। তুমি আওয়ামী লীগে ছিলে এবং তোমাকে আমি নমিনেশন দিয়েছি, সংসদ সদস্য হয়েছো। কথা বলার সময় দেখলাম তার শরীরটা একটু খারাপ। আমি ওকে বললাম, তোমার শরীর মনে হয় ভাল না, তুমি একটু ভালোভাবে চিকিৎসা কর এবং চেকআপ করো। ঠিক তারপরই হাসপাতালে ভর্তি। পরদিন খবরটি পেলাম। এভাবে পরপর তিনজন সংসদ সদস্য আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। এটা খুবই কষ্টের।

পিডিএসও/হেলাল