পদ্মা সেতুর সড়কপথেও দৃশ্যমান অগ্রগতি

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২০, ১৫:৫৭

নিজস্ব প্রতিবেদক, মুন্সীগঞ্জ ও শরীয়তপুর প্রতিনিধি

দিনরাত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টাই চলে রোডওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ। একটি রোডওয়ে স্ল্যাব প্রথমে ক্রেনের মাধ্যমে ওপরে তুলে ট্রাকে বসানো হয়। ট্রাকটি সেটা টেনে সামনের দিকে নিয়ে যায়। তারপর লিফটের মাধ্যমে এটি বসিয়ে দেওয়া হয়। আর এ কাজে যুক্ত থাকেন দেশি-বিদেশি কয়েশ শ্রমিক ও প্রকৌশলী। এমন কর্মযজ্ঞ চলছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু প্রকল্পে।

শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্ত থেকে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে সড়ক আসছে মুন্সীগঞ্জের মাওয়ার দিকে। প্রায় ৩ হাজার রোডওয়ে স্ল্যাব বসানোর পর ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু দুটি জেলার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করবে। এতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। সেই লক্ষ্যে এখন পর্যন্ত পদ্মা সেতুর ১৮৬টি স্ল্যাব বসানো হয়েছে। ফলে জাজিরা অংশে সেতুর ওপর সড়কপথ এখন দৃশ্যমান। আর এই নির্মাণযজ্ঞ দ্রুত এগিয়ে নিতে যোগ দিচ্ছে আরো তিনটি দেশি-বিদেশি টিম।

গত মঙ্গলবার পদ্মা সেতুর সড়কপথ ঘুরে দেখা গেছে, একটি দলে কয়েকশ শ্রমিক ভাগ হয়ে একেকটি রোডওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ করছেন। প্রথমদিকে দিনে একটি স্ল্যাব বসানো হলেও এখন দিনে সর্বোচ্চ সাতটি রোডওয়ে স্ল্যাব বসাতে পারছেন তারা। এ ধরনের আরেকটি দল কাজ শুরু করেছে মাঝনদীর ওপর স্থাপন করা স্প্যানে। এছাড়া আরো দুটি দল যুক্ত হলে দিনে অন্তত ১৫টির বেশি সø্যাব বসানো যাবে বলে জানিয়েছেন কর্মরত শ্রমিকরা।

দেখা গেছে, এখন একটা রোডওয়ে স্ল্যাব বসাতে তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় লাগে। এভাবেই দিনে এখন সাতটি স্ল্যাব বসানো যায়। তবে সামনের দিনগুলোতে আরো বেশি বসানো যাবে বলে জানিয়েছেন কর্মরত শ্রমিকরা। রোডওয়ে স্ল্যাব মূলত সেতুতে তোলার পর আরেকটি স্প্যানের সঙ্গে জায়ান্ট দেওয়া হয়। এভাবে একটু একটু করে এগিয়ে যেতে থাকে সড়কের পাটাতন বসানোর কাজ। এই পাটাতনের ওপর নির্মাণ হবে পিচঢালা সড়ক। দেশের এই মেগা প্রকল্পের

পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানান, পদ্মা সেতুতে মোট ৪১টি স্প্যান বসানো হবে। এর মধ্যে মাওয়া কনস্ট্রাকশন গ্রাউন্ডে এসেছে ৩৫টি স্প্যান। যেখান থেকে ২১টি স্প্যান স্থাপন করা হয়েছে। এতেই দৃশ্যমান হয়েছে ৩ হাজার ১৫০মিটার। চীনে বর্তমানে বাকি স্প্যান তৈরির কাজ চলছে। যদিও এরই মধ্যে দুটি স্প্যান সমুদ্রপথ দিয়ে বাংলাদেশের দিকে আসছে। সবগুলো স্প্যান আগামী মার্চের মধ্যে বাংলাদেশে এসে পৌঁছবে। আর এগুলো জুলাইয়ের মধ্যে পিলারে বসিয়ে দেওয়া হবে।

প্রকল্প অনুযায়ী, মূল সেতু গড়ে উঠছে ৪২টি পিলারের ওপর। এর মধ্যে ৩৬টি পিলারের কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। বাকি ছয়টির কাজ আগামী এপ্রিলের মধ্যে শেষ হবে। আর ২০২১ সালের জুনে শেষ হবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় নির্মাণ প্রকল্প পদ্মাসেতুর কাজ।

সেতু প্রকল্প সূত্র আরো জানায়, সংযোগ সড়ক ও সার্ভিস এরিয়ার বাস্তব কাজের অগ্রগতি শতভাগ শেষ হয়েছে। সংযোগ সড়ক ও সার্ভিস এরিয়ার জন্য মোট খরচ ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৪৯৯ দশমিক ৫১ কোটি টাকা। এছাড়া ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসনে ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ৩৪২ দশমিক ২৬ কোটি টাকা।

এছাড়া প্যানেল অব এক্সপার্ট, পরামর্শক, সেনানিরাপত্তা, ভ্যাট ও আয়কর, যানবাহন, বেতন ও ভাতাদি এবং অন্যান্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৫১০ দশমিক ৪২ কোটি টাকা। প্রকল্পের মোট বাজেট ৩০ হাজার ১৯৩ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা। এ পর্যন্ত মোট ব্যয় হয়েছে ২১ হাজার ৩৩৪ দশমিক ৫৩ কোটি টাকা; যা মোট ব্যয়ের ৭০ দশমিক ৬৬ শতাংশ। আর প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশ।

 পিডিএসও/তাজ