উগ্রবাদবিরোধী জাতীয় সম্মেলন

উগ্রবাদবিরোধী প্রচারণা বৃদ্ধির আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:৪২ | আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:৫০

নিজস্ব প্রতিবেদক

উগ্রবাদবিরোধী প্রচারণার ব্যাপ্তি বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। মঙ্গলবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) দুই দিনের উগ্রবাদবিরোধী জাতীয় সম্মেলনের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্ম যেন উগ্রবাদে জড়িয়ে না পড়ে এজন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পুলিশ প্রধান মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, ডিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও সিটিটিসি প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সব ধর্মের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। কোনো ধর্মই জঙ্গিবাদ কিংবা হত্যাকে সমর্থন করে না। সব ধর্মের লোকজনকে উগ্রবাদ প্রতিরোধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো কিছু বিশ্বাস করার আগে তা যাচাই করে নিন। নিজের বিবেকের কাছে আগে জিজ্ঞাসা করুন। এরপর সিদ্ধান্ত নিন। তিনি আরো বলেন, নিঃসঙ্গতা, একাকিত্ব, হতাশা উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ। এজন্য সন্তানদের প্রতি খেয়াল রাখার জন্য অভিভাবকদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।

আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, জঙ্গিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা এবং কারাগারে প্রেরণে যতটা কাজ হচ্ছে, কারাগারে ডি-রেডিক্যালাইজেশনের ব্যাপারে আমরা ততটা সচেতন নই। এই জায়গায় আমাদের কিছু কাজ করতে হবে। আমি এ সম্মেলনে এ ধরনের কোনো এনজিও দেখলাম না যারা কারাগার আসামিদের সংশোধনের বা ডি-রেডিক্যালাইজেশনে কাজ করে। কারাগারের এই আসামিদের ডি-রেডিক্যালাইজড করার জন্য প্রোগ্রাম নিতে হবে। যেসব জঙ্গি কারাগার থেকে বাইরে আসছে তাদের পুনর্বাসনেও পরিকল্পনা নিতে হবে বলে মনে করেন আইজিপি।

অনুষ্ঠানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের যদি আরেকটি হলি আর্টিজানের মতো ঘটনা ঘটতো, তাহলে আমাদের সব উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ হয়ে যেত। মেট্রোরেল, পদ্মা সেতুর, রূপপুরের প্রজেক্টের বিদেশি এক্সপার্টদের ধরে রাখা যেত না। তবে আমরা এ ধরনের কোনো ঘটনা হতে দিইনি।

তিনি আরো বলেন, উগ্রবাদের সঙ্গে জড়িত ৯০ শতাংশই আহলে হাদিসের অনুসারী। তাদের অনেকভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা বলেছে, তারা শুধু তাদের সম্প্রদায়ের বড় হুজুরের কথা শুনবে ও মানবে। আলেমদের একাংশকেও তারা ‘কাফের’ বলে মনে করে। তাই উগ্রবাদ রুখতে ধর্মীয় নেতাদের বড় একটি ভূমিকা পালন করতে হবে। অন্যদিকে যেসব জঙ্গিদের ধরে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে তাদের ডি-রেডিক্যালাইজেশন প্রক্রিয়ায় ঘাটতি রয়েছে। তারা কারাগারে গিয়েও সংশোধন হতে পারছে না।

পিডিএসও/তাজ