সিটি নির্বাচন হবে যথাসময়ে : স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৬:৪৮ | আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৭:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য অনেক আগেই চিঠি দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন যখন মনে করে তখনই নির্বাচন করতে পারে। তবে কোনও সংশয় নয়, যথা সময়ে সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সাংবাদিকেদের এক প্রশ্নের জবাবে এ অভিমত ব্যক্ত করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। 

রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলায়তনে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি) আয়োজিত ‘ইজ অব ডুইং বিজনেস: ডিলিং উইথ কনস্ট্রাকশন পারমিট: পারসপেকটিভ বাংলাদেশ’ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কাউন্সিলররা পূর্ণ মেয়াদে থাকতে চায় সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি আইনে থাকে কাউন্সিলররা পূর্ণ মেয়াদ থাকতে পারবে, তাহলে থাকবে। আর আইনে না থাকলে পারবে না। 

এর আগে সেমিনারে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, গ্রামের মানুষ শহরের দিকে স্থানান্তর হচ্ছে। কেন স্থানান্তর হচ্ছে এর কারণ হলো- মানুষ সুযোগ-সুবিধা পেতে চায়, সেজন্য মানুষ শহরের দিকে ডায়ভার্ট হচ্ছে। তবে এখন গ্রামকে নিয়ে মাস্টার প্ল্যান করা হচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা, কৃষি জমির ব্যবহার, বাসা-বাড়ি নির্মাণ, বাজার তৈরি, কলকারখানা নির্মাণসহ সব কিছুর একটা পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। অচিরেই শহরের সুবিধা গ্রামে পৌঁছে যাবে। 

তিনি আরও বলেন, প্রথমে কিছু এলাকা নিয়ে চিন্তা করছি। এরমধ্যে লাকসাম-মনোহরগঞ্জ ও বগুড়ার কিছু এলাকা রয়েছে। ইতোমধ্যে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার চকপাথালিয়া গ্রামে আইল উঠিয়ে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদ শুরু হয়েছে। সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদ করলে প্রতি একরে ২৪ হাজার টাকা লাভ হবে। আর আগের পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে প্রতি একরে ৪ হাজার টাকা লাভ হবে। 

ভূটানের উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ভূটানের সংসদ সদস্যরাও ৩-৪ হাজার লোকের প্রতিনিধিত্ব করেন। আর আমাদের একজন ইউপি মেম্বারও ৩-৪ হাজার লোকের প্রতিনিধিত্ব করে। অথচ তারা শিক্ষিত না। সবাই তাদেরকে চোর, বাটপার বলে। একটা বিষয় হলো- শিক্ষিতরা মেম্বার-চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে না। সেজন্য আমাদের এ সংকট। শিক্ষিতরা যদি নির্বাচনে আসতো তাহলে আরো আগেই প্রতিটি ইউনিয়ন, গ্রামকে পরিকল্পনামতো সাজানো যেতো।  

আইবিএফবি এর সভাপতি হুমায়ুন রশিদ এর সভাপতিত্বে সেমিনারে কী নোট উপস্থাপন করেন, সেন্টার ফর আরবান স্টাডিজ এর সচিব স্থপতি সালমা এ সফি। আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার এন্ড ইনফরমেশন সার্ভিস (বেসিস) এর সাবেক সভাপতি হাবিবুল্লাহ এন কারিম, সেন্টার ফর হাউজ বিল্ডিং রিসার্স মোহাম্মদ আবু সাদেক।

মোহাম্মদ আবু সাদেক বলেন, অনিয়ন্ত্রিত ভবন রোধ না করলে টেকসই উন্নয়ণ (এসডিজি) বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এ দেশে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ভূমির ছাড়পত্র দিয়ে থাকে। কিন্তু পৃথিবীর অন্যান্য দেশে এটা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় করে থাকে। এছাড়া ফায়ার সার্ভিস থাকবে দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রনে। এসব আইনকে সমাধান করা দরকার।

পিডিএসও/রি.মা