ডিজাইন ল্যাবের অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

শিগগিরই স্থানীয় সরকার বিভাগকে ডিজিটাইজ করা হবে

প্রকাশ : ২২ নভেম্বর ২০১৯, ২০:২৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘জনগণের হাতের মুঠোয় সরকারের সব সুবিধা পৌঁছে দিতে শিগগিরই স্থানীয় সরকার বিভাগকে ডিজিটাইজ করা হবে। এ ক্ষেত্রে পরিকল্পিত সব সিস্টেম বাস্তবায়নে আমি আমার মন্ত্রণালয় থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। দেশের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে উন্নত রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে দেশ এগিয়ে যাবে।’

শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরে স্থানীয় সরকার বিভাগের আয়োজনে এবং এটুআইয়ের সহযোগিতায় স্থানীয় সরকার বিভাগের ডিজিটাল সেবা বাস্তবায়ন পরিকল্পনা সমন্বয়করণ ও ডিজাইন ল্যাবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রচুর কাজ। শহর থেকে গ্রাম—সব জায়গায় রয়েছে এ মন্ত্রণালয়ের কাজ। এই বিভাগের প্রতিটি কাজ ডিজিটালাইজড করা গেলে প্রত্যেকের ওপর কাজের চাপ কমবে। একই সঙ্গে কোটি কোটি টাকা ও সময় বাঁচবে। দেশ উন্নয়নের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাবে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘আমরা যদি একটি ইন্ট্রিগ্রেটেড প্ল্যাটফরম নিয়ে কাজ করতে পারি, তাহলে আমরা দ্রুত ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যেতে পারবে। মাই গভর্নমেন্ট অ্যাপ তৈরির কার্যক্রম চলছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগের ৫৬টি সেবাদাতা সংস্থা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কার্যক্রম চালাবে। এতে করে জনগণের দোরগোড়াই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে হাতের মুঠোয় সেবা পৌঁছে যাবে।’

তিনি আরো বলেন, মুজিববর্ষ সামনে রেখে বাংলাদেশ সরকারের সব মন্ত্রণালয় বিভাগগুলোকে ডিজিটালাইজেশনের আওতায় নিয়ে আসতে কাজ করছি। এ লক্ষ্যে ২০২০ সালের মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ১০০টি জনবান্ধব সেবা ডিজিটাল সার্ভিসে রূপান্তর করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকারের বিভাগের অতিরিক্ত সচিব রোকসানা কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এম এম জিয়াউল আলম, ইউএনডিপির রিপ্রেজেনটেটিভ সুদীপ্ত মুখার্জি। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডিজিটাল সার্ভিস ডিজাইন ল্যাবে মোট ১২৮টি সেবার ক্ষেত্রে (১৩টি জিটুবি, ৯১টি জিটুসি ও ২৪টি জিটুজি সার্ভিস) ১৪টি গ্রুপের পর্যালোচনায় স্থানীয় সরকার বিভাগের একটি ইন্টিগ্রেটেড ডিজিটাল সার্ভিস ডেলিভারি প্ল্যাটফরমের বিষয় ওঠে এসেছে। যার মধ্যে প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ও মেইনটেন্যান্স সিস্টেম, জিআইএস ম্যাপ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, ওয়াসা সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, রেন্ট ও লিজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, কেইজ ও লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং হোল্ডিং ও ইউটিলিটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমসহ মোট ১৩টি সিস্টেম উল্লেখযোগ্য।

ডিজিটাল সার্ভিস রোডম্যাপ-২০২১ কর্মশালায় শনাক্ত করা সিস্টেমসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য এটুআইয়ের ডিজিটাল সার্ভিস এক্সিলারেটর টিমের সহযোগিতায় স্থানীয় সরকার বিভাগ গত ১৬ নভেম্বর থেকে ৬ দিনব্যাপী ‘ডিজিটাল সার্ভিস ডিজাইন ল্যাব’ আয়োজন করেছে। এই ল্যাবে স্থানীয় সরকার বিভাগকেন্দ্রিক সব গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রদান পদ্ধতি বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে সেবা দেওয়ার ধাপ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সেবাপ্রাপ্তির সময় ও খরচ এবং সেবাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যাসমূহ বিবেচনায় আনা হয়েছে।

সেবাপ্রাপ্তিতে নাগরিকদের সময়, অর্থ এবং যাতায়াত হ্রাসের লক্ষ্যে সেবা দেওয়ার পদ্ধতি বিশ্লেষণের মাধ্যমে সেবাসমূহকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ডিজাইন ল্যাব কর্মশালায় স্থানীয় সরকার বিভাগের ৭৩ জন কর্মকর্তা, ১৫ জন সরকারি-বেসরকারি ডিজিটাল সার্ভিস অ্যানালিস্ট, আটজন এটুআইয়ের কর্মকর্তা এবং ১০ জন সংশ্লিষ্ট সেবাগ্রহীতা অংশগ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিগত ২০১৮ সালে ৫৪টি মন্ত্রণালয়/বিভাগ এবং তার আওতাধীন ৩৯৪টি অধিদফতর/দফতর/সংস্থার ১৭৯২ জন অংশগ্রহণকারী সরকারি কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, এটুআইয়ের ডিজিটাল সার্ভিস এক্সিলারেটর টিম ও আইটি রিসোর্স পার্সনদের সহযোগিতায় ২-৩ দিনব্যাপী ডিজিটাল সার্ভিস বাস্তবায়ন পরিকল্পনা কর্মশালার মাধ্যমে ২০২১ সাল পর্যন্ত ১৮৪৭টি ডিজিটাল সার্ভিসের (মোবাইল-সার্ভিস/ ডিজিটাল সিস্টেম) বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।

পিডিএসও/তাজ