গোলটেবিল বৈঠকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

যে কোনও কাজে জনগণ যত বেশি সম্পৃক্ত, তত দ্রুত সাফল্য

প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ১৯:১৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

যে কোনও উন্নয়ন প্রকল্পে জনগণ যত বেশি সম্পৃক্ত হবে তত দ্রুত সাফল্য আসবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, সম্প্রতি এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে মানুষ একযোগে সচেতন হয়ে কাজ করেছে। সেজন্য ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এরই ধারবাহিকতায় টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পানির অপচয় রোধ ও টেকসই স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার। তবে এরজন্য সবাই একসঙ্গে একমত হয়ে কাজ করতে হবে। তাহলে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দ্রুত বাস্তবায়ন হবে।

রোববার দুপুরে ভোরের কাগজ কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে ‘ওয়াশ গভর্নেন্স এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্যমাত্রা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে ওয়াটার ইন্টিগ্রিটি নেটওয়ার্কের (ডাব্লিউআইএন) সহায়তায় এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথ ও ভোরের কাগজ যৌথভাবে এই বৈঠকের আয়োজন করে।

ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্তের সঞ্চালনায় বৈঠকে বিশেষ অতিথি ছিলেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সাইফুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথের নির্বাহী পরিচালক এস এম এ রশীদ। বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ড. আনোয়ার জাহিদ, ভিইআরসির নির্বাহী পরিচালক মো. ইয়াকুব হোসেন, এসআইএমএভিআই-এর কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর অলোক মজমুদার, ইউএসটির নির্বাহী পরিচালক শাহ মো. আনোয়ার কামাল, ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুর-এর পরিচালক মোহাম্মদ জোবায়ের হাসান, ব্র্যাকের মো. রফিকুল ইসলাম, ওয়াটার এইড বাংলাদেশের পরিচালক (পলিসি এডভোকেসি) ড. আব্দুল্লাহ আল মুয়িদ, টিআইবির এম. জাকির হোসেন খান, ওয়াটার ইন্টিগ্রিটি নেটওয়ার্কের কনসালট্যান্ট সিফাত-ই-রাব্বি প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্য মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, আগে পানির প্রাপ্যতাকে গুরুত্ব দেয়া হতো। এখন আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি নিরাপদ পানি প্রাপ্যতাকে। অর্থ বরাদ্দের চেয়ে নিরাপদ পানির প্রাপ্যতার ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে অপচয়। অপচয় রোধ এবং এক্ষেত্রে জনগণকে আরো বেশি সচেতন ও সম্পৃক্ত করতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে বক্তারা বলেন, টেকসই উন্নয়নে ২০৩০-এর ১৭টি অভীষ্ট লক্ষ্যের মধ্যে অন্যতম হলো ‘অভীষ্ট-৬’ যার উদ্দেশ্য হলো- সবার জন্য নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা এবং টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। বিশ্বজুড়ে পানি এবং স্যানিটেশন নিয়ে চলমান উদ্বেগেরই প্রতিফলন এটি। এ লক্ষ্য অর্জনে শক্তিশালী ওয়াটার গভর্নেন্স একান্ত অপরিহার্য বলে বিবেচিত। তবুও অনেক দেশেই ওয়াস গভর্নেন্স কাঠামো সবল এবং সমন্বিত নয়। শক্তিশালী ওয়াশ গভর্নেন্স রাজনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক এবং প্রশাসনিক নীতিমালা, চর্চা এবং পদ্ধতি নির্ধারণ করে যা সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি।

বক্তারা বলেন, নিরাপদ পানি সরবরাহ ও মৌলিক স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশের অর্জন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রশংসিত ও সমাদৃত হয়েছে। তবে টেকসই উন্নয়ন ‘অভীষ্ট ছয়’ অর্জনে ক্রমবর্ধনশীল বৈষম্য, প্রাকৃতিক সম্পদ হ্রাস, পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো চ্যালেঞ্জগুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে।

এদিকে রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সুনিশ্চিত করার জন্য বর্তমান সরকারের উন্নয়নমুলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরার লক্ষ্য ‘উন্নয়ন অগ্রযাত্রা-২০১৯’ অনুষ্ঠিত হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ নাগরিক কমিটি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে রয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, বিদ্যুৎ খাতের উন্নতি, শিক্ষাখাতের অগ্রগতি, নদী বন্দর সৃষ্টি, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানুষের গড় আয় বাড়াসহ নানা খাতে উন্নতি হয়েছে।

অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেন, ২০২১ সালের উন্নয়নশীল দেশ, ২০৪১ সালের উন্নত বাংলাদেশ গড়তে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় সরকার অর্থনৈতিক জোন করছে। এখানে ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরি হবে। পায়রা বন্দর, রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ নানা উন্নয়নমুলক কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে। আপনারা শুধু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশে থেকে তার হাতকে শক্তিশালী করুন। তাহলে ২০৪১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষুদ্র ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ আপনাদেরকে উপহার দেবে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ নাগরিক কমিটির সভাপতি খালেদ এম এইচ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, আর্ন্তজাতিক বিদ্যুৎ-জ্বালানী বিশেষজ্ঞ ও পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইন খান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবদুল্লাহ আল হাসান চৌধুরী ও ডেনিম গ্রুপের চেয়ারম্যান নাছির খান।

পিডিএসও/রি.মা