রোহিঙ্গা নিরাপত্তার জন্য হুমকি : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০১৯, ১৩:১৯ | আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০১৯, ১৫:৩২

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি

উন্নয়নের জন্য শান্তি এবং সম্প্রীতি বজায় রাখা জরুরি আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং উন্নয়নের স্বার্থে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে টেকসই প্রত্যাবাসনে বিশ্ব সম্প্রদায়কে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রসঙ্গে আমি বলতে চাই, নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা মিয়ানমারের ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা নাগরিক শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, এ অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ। বিশ্ব সম্প্রদায়কে বিষয়টি অনুধাবন করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ঢাকা গ্লোবাল ডায়ালগ ২০১৯-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন।

এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিস (বিস) এবং ভারতের অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন (ওআরএফ) যৌথভাবে তিন দিনব্যাপী এই ডায়ালগের আয়োজন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরসংলগ্ন দেশগুলোর অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা অত্যাবশ্যক।

তিনি বলেন, সমুদ্রসীমা ও সামুদ্রিক অর্থনীতির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ মনে করে, পরস্পরের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতা বা জিরো-সাম গেম বঙ্গোপসাগর বা ভারত মহাসাগরের নীল অর্থনীতি বিকাশের জন্য সহায়ক নয়। বরং তা এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আরো মনে করি, সমুদ্র সম্পদের টেকসই ব্যবহার ও এর মাধ্যমে নীল অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নের জন্য সমুদ্র তীরবর্তী দেশগুলোর মধ্যে সহায়তাপূর্ণ, সৌহার্দ্যপূর্ণ, মর্যাদাপূর্ণ ও সমতাপূর্ণ সম্পর্ক আবশ্যক।

এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ সর্বদা বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগর এলাকায় শান্তিপূর্ণ ও সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারে সচেষ্ট। বাংলাদেশ তার দুই প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমাসম্পর্কিত বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করেছে। সমস্যা সমাধানে আমাদের এরূপ সহযোগিতা ও প্রচেষ্টা অন্য অঞ্চলের জন্য শিক্ষণীয় হতে পারে।

প্রতিবেশির সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তার পররাষ্ট্রনীতি এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু প্রদর্শিত ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’ মেনে চলছে, বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার প্রদর্শিত এই পথে আমরা আন্তর্জাতিক ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক স্থাপনে অঙ্গীকারবদ্ধ।

পিডিএসও/হেলাল