মুক্তিযোদ্ধা সংসদীয় কমিটিতে ঠাট্টা-রসিকতা

যশোর, বাগেরহাট ও চাঁদপুরে রাজাকার নেই!

প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর ২০১৯, ১২:০৯ | আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০১৯, ১৩:৩৮

গাজী শাহনেওয়াজ

স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী রাজাকার, আলবদর ও আলশাসমের তালিকা সংগ্রহের বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সুপারিশ ছিল। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এরই মধ্যে ৯ জেলার ডিসিরা এ সংক্রান্ত যে তালিকা পাঠিয়েছেন, সেখানে যশোর, বাগেরহাট ও চাঁদপুর জেলায় একজনও রাজাকার নেই। সভায় একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এমন তথ্য উত্থাপন করার সঙ্গে সঙ্গে ঠাট্টা রসিকতায় মেতে উঠেন কমিটির সদস্যরা। এ সময় সভায় হাসির রোল পড়ে যায়। একজন সদস্য অপরজনকে টিপ্পুনিও কাটেন

মঙ্গলবার বিকালে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এ সম্পর্কিত সভায় একাধিক জেলার তালিকায় রাজাকারের নাম না থাকায় কমিটির সদস্যরা রসিকতা করে নিজেদের মধ্যে টিপ্পুনি কাটেন। কমিটির সভাপতি শাহাজান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, রাজি উদ্দিন আহমেদ, মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম, কাজী ফিরোজ রশীদ এবং ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল। এছাড়া বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের মহাপরিচালকসহ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।

সভার উপস্থিত একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে বলেন, কমিটির সদস্য ও জাপার প্রেসিডিয়াম মেম্বার কাজী ফিরোজ রশীদ রাজাকারদের তালিকা নির্বাচন কমিশন থেকে সংগ্রহ করার জন্য কমিটির সভাপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পরে কমিটির সভাপতি শাজাহান খান ডিসিদের মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চিঠি দিয়ে তালিকা আনার ব্যবস্থা করতে সুপারিশ জানান। পরে নৌপরিবহন কমিটির সভাপতি ও এ কমিটির সদস্য সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম বলেন, তালিকা সংসদে সংরক্ষিত আছে; সেখান থেকেও সংগ্রহ করা যায়। পরে সিদ্ধান্ত হয় নতুন করে ডিসিদের মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাঠানোর। সেখানে রাজাকারদের তালিকা পাঠানোর তাগিদ দেওয়া থাকবে।

কমিটির সভাপতি শাজাহান খান সভায় সুপারিশ আলোকে সিদ্ধান্ত জানান, শিগগিরই মন্ত্রণালয় থেকে সব ডিসিদের পত্র দিতে হবে, যাতে তারা দ্রুত রাজাকারদের তালিকা পাঠান।

পরে বিবিধ আলোচনার শেষ পর্যায়ে এখন পর্যন্ত তালিকা পাওয়া চূড়ান্ত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম গেজেটে প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয়। কমিটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ জানায়। সভায় একজন সদস্য অভিযোগ করে বলেন, সারা দেশের জেলা পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স রয়েছে; সেগুলোর মধ্যে অনেকগুলো বন্ধ থাকে। যাতে আগামীতে এগুলো বন্ধ না থাকে সে বিষয়ে কমিটির পক্ষ থেকে অনুশাসন দেওয়া হয়।

এদিকে সভায় গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্সের বর্তমান অবস্থা, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বোর্ড গঠন, গজনবি রোড, কলেজ গেট মোহাম্মদপুরে অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১ এর বরাদ্দ এবং গজনবি রোডের বাড়ি নং ১/৬ এর সর্বশেষ অবস্থা, সাব-কমিটির কার্যক্রমের সার্বিক অবস্থা এবং বিবিধ বিষয়ের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এছাড়া স্বল্প সুদে মুক্তিযোদ্ধাদের ঋণ প্রদানের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা করা হয় বলে গণসংযোগ থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সেখানে আরো জানানো হয়, ১৯৮০ সালের ৩ জুলাই জন্মগ্রহণ করা একজন নাগরিক কীভাবে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে এ নিয়ে সভায় প্রশ্ন উত্থাপন হয়। এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নাম মো. মিজানুর রহমান, পিতা-মৃত আবদুল মজিদ, গ্রাম-হাজিগাঁও, ডাকঘর- বটতলী, উপজেলা/থানা-আনোয়ারা, জেলা-চট্টগ্রাম উল্লেখ রয়েছে। কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, মুক্তিযুদ্ধের নাম ব্যবহারকারী সংগঠনগুলোর নাম, ঠিকানা এবং রেজিস্ট্রেশন ইত্যাদি সঠিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংগঠনগুলোকে নিবন্ধিত করতে হবে।

পিডিএসও/হেলাল