শেখ রাসেলের জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রী

শিশু নির্যাতনকারীদের কঠোর সাজা পেতে হবে

প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:৪৯

নিজস্ব প্রতিবেদক

শিশু নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আজকের শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। শিশুদের প্রতি কোনো অন্যায়-অবিচার বরদাশত করা হবে না। যারা শিশু নির্যাতন করবে তাদের অবশ্যই সাজা পেতে হবে। কঠোর সাজা পেতে হবে।

শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের উদ্যোগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে এ আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সম্প্রতি দেশব্যাপী শিশু নির্যাতনের কথা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, শিশুদের ওপর অত্যাচার বেড়েছে। বাবা হয়ে সন্তানকে হত্যা করছে অন্যকে ফাঁসানোর জন্য। কী এক মানসিকতা! এই ধরনের হীন মানসিকতা সমাজে বেড়ে চলেছে।

শিশুদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তোমাদের পাশে দরিদ্র ও প্রতিবন্ধী শিশু দেখলে তাদের অবহেলা করো না। কারণ তারাও তো তোমাদের মতোই মানুষ। এতে তাদের তো কোনো দোষ নেই। এটা অমানবিকতা ও নিষ্ঠুরতা।

সরকারের নেওয়া নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের শিশুরা যাতে আধুনিক মনস্ক হয়ে গড়ে উঠতে পারে সেজন্য সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রত্যেকটি শিশুর জীবন যেন অর্থবহ হয়, আমরা সে ব্যবস্থা নিয়েছি। শিশুদের যাতে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে না হয় সেজন্য আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। ঝরে পড়া কিংবা প্রতিবন্ধীদের জন্যও নানা কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সরকার।

ছোট ভাই শেখ রাসেলের কথা উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, রাসেল আমাদের পরিবারের সদস্যদের সবচেয়ে কনিষ্ঠ সদস্য। বাবা তখন রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত। নির্বাচনের প্রচারণার কাজে চট্টগ্রামে। আমরা চার ভাইবোন বসেছিলাম, ওই ছোট্ট শিশুটির জন্মক্ষণের জন্য। তাকে কোলে নেওয়ার জন্য। তাকে আদর করার জন্য। ১৯৬৪ সালে রাসেলের জন্ম। ১৯৬৬ সালে বাবাকে গ্রেফতার করা হলো। আমরা কারাগারে যেতাম বাবার সঙ্গে দেখা করতে। সঙ্গে রাসেলও থাকত। কিন্তু বাবাকে রেখে আসতে চাইত না। বাবা বললেন, এটা আমার বাড়ি, আমি এখানে থাকব। তুমি তোমার মায়ের সঙ্গে তোমার বাড়িতে যাও।

জেলখানায় বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করার স্মৃতি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, যেদিন জেলখানায় যেতাম আগের দিন থেকেই সে (রাসেল) খুবই অস্থির থাকত। আমাদের ভাইবোনদের কাছে ছুটে আসত। কী যেন বলতে চাইত। কিন্তু তার ব্যথাটা কিছুই বলতে পারত না। মা বলতেন, আমিই তোমার বাবা। ছোট্ট শিশু রাসেল বাবার স্নেহ বঞ্চিত ছিল। আমরা তো ছিলামই। বাসায় নেতাকর্মীরা আসতেন- তখনও সে বাবার কাছে ছুটে যেত। না জানি আবার বাবাকে ছাড়া থাকতে হয় তার।

’৭০-এর নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন হলো কিন্তু শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা দিল না। বাবা মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিলেন, তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হলো পশ্চিম পাকিস্তানে। আবার রাসেল বাবার স্নেহ বঞ্চিত। আমাদের রাখা হলো ১৮ নম্বরের একটি ছোট বাড়িতে।

জয়কে (সজীব ওয়াজেদ জয়) খুবই আদর করত রাসেল। তখন মুক্তিযুদ্ধ চলছে। রাসেল তার কাছে তুলা রাখত, যখনই গুলির শব্দ হতো রাসেল সেই তুলা জয়ের কানে দিত। যাতে জয় ভয় না পায়। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বাবা যেখানেই যেতেন, রাসেল সঙ্গে থাকত। ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট ওই বাড়িতে একটি প্রাণীও বেঁচে থাকতে পারেনি। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাই আমি আর রেহানা। ভেবেছিলাম হয়তো রাসেল বেঁচে রয়েছে।

ছোট ভাইয়ের স্মৃতিচারণ করে বড় বোন শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিটা শিশুরই একটা ইচ্ছা থাকে, বড় হয়ে কী হবে। রাসেলেরও শখ ছিল, বড় হয়ে আর্মি অফিসার হবে। এ নিয়ে তার অনেক আগ্রহ দেখেছি। যখন গ্রামে যেত, সেখানে গিয়ে শিশুদের নিয়ে খেলত। তার ভেতরে একটা দরদি মন ছিল। এখন মাঝে মাঝে মনে হয়, বেঁচে থাকলে ৫৪ বছর বয়সে রাসেল কেমন হতো দেখতে। কিন্তু ঘাতকের নির্মম বুলেট কাউকে বাঁচতে দেয়নি।

দেশে ফেরার দিনগুলোর কথা উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ১৫ আগস্টের এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে না বলেও আইন করা হয়। তারা শুধু একটা দেশের রাষ্ট্রপতিকে হত্যা করেনি। নারী-শিশুও হত্যা করেছে; কিন্তু তাদের রক্ষা করে পুরস্কৃত করা হয়েছে। ’৮১ সালে দেশে ফিরে এলাম, তখন মামলা পর্যন্ত করতে দেওয়া হয়নি। আমি আমার বাবা-মা, ভাই হত্যার বিচার পাব না। আমাদের সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

পিডিএসও/তাজ