মন্ত্রিসভায় খসড়া এসএমই নীতিমালা অনুমোদন

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৫:২৮

অনলাইন ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার কার্যালয়ে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন

জাতীয় শিল্পনীতির আওতায় এসএমই নীতিমালা ২০১৯-এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এটি নতুন সংযোজন এবং জাতীয় শিল্পনীতির আলোকেই এটি করা হয়েছে। এই সেক্টরে ৭৮ লাখ অতি ক্ষুদ্র (মাইক্রো) এবং ক্ষুদ্র (স্মল) ও মাঝারি (মিডিয়াম) শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। জিডিপিতে এই খাতের অবদান প্রায় ২৫ শতাংশ।

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই নীতিমালার খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

তিনি বলেন, এই খাতের আওতায় ৭৮ লাখ শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং জিডিপির এক চতুর্থাংশ এই খাত থেকে অর্জিত হয়। নতুন নীতিমালায় মূলত ৬টি বিষয়কে সামনে রাখা হয়েছে। এই ৬টি বিষয়ের প্রতিই মূলত ফোকাস করা হবে। যেগুলো হচ্ছে—

১. যারা এর বিনিয়োগকারী হবেন তাদের অর্থপ্রাপ্তির সুযোগটি সামনে রাখা। ২. প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সুযোগ। ৩. বাজারে প্রবেশের সুযোগ। ৪. শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ। ৫. ব্যবসায়ে সহায়তা প্রদান (এক্সেস টু বিজনেস সাপোর্ট সার্ভিসেস) এবং ৬. তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ (এক্সেস টু ইনফরমেশন)।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এই ৬টি বিষয় যেন উদ্যোক্তাদের সামনে সুযোগ করে দেওয়া হয় সেই লক্ষ্যকে সামনে রখেই এই নীতিমালাটা প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এখানে আমরা এসএমই বলতে যা বুঝি তার সঙ্গে আরো কয়েকটি বিষয় যুক্ত করা হয়েছে। যেমন—মাইক্রো, কুটির শিল্প। অর্থাৎ মাইক্রো, কুটির ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্প এসএসই। পৃথিবীতে এভাবে এসএমইকে সংজ্ঞায়িত করা হয়।

শফিউল আলম বলেন, অনেকগুলো নতুন বিষয় এই নীতিমালার আওতায় আনা হয়েছে। যেমন—বাস্তবায়ন কৌশল এর ৪ এর (২) কৌশলগত এসএমই-এর অর্থপ্রাপ্তিতে এর সুযোগ বৃদ্ধি করা। আরো রয়েছে এসএমই খাতে ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধি করা, অর্থায়নের ব্যবস্থা করা, একটি নতুন প্রস্তাব এখানে রয়েছে, যেমন—এসএসই ক্রেডিট গ্যারান্টি ফান্ড চালু করা। (এটি চালু হলে মর্টগেজের ব্যবস্থা থাকবে না, একটু সহজীকরণ হবে।)

সচিব বলেন, সহজ শর্তে ও অল্প সুদে ঋণ প্রদানের কথা বলা হয়েছে। কৌশলগত লক্ষ্যের মধ্যে আরেকটি বিষয় রয়েছে। যেটি হচ্ছে—নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করার ক্ষেত্রে সহায়তা করা (স্টার্টআপ)। অনলাইনে ডিজিটাল প্রত্রিয়া চালুর মাধ্যমে স্টার্টআপ প্রত্রিয়া সহজ করা। তথ্যপ্রযুুক্তির ব্যবহার নিয়ে বলা হয়েছে—ইকমার্স, অনলাইন সাপোর্ট, আউট সোর্সিং এবং আইটিভিত্তিক অ্যাপলিকেশেনের মাধ্যমে এসএসইদেও সহায়তা দেওয়ার একটি ফোকাস থাকবে।

এই নীতিমালায় নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ৬ ধরনের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তা হচ্ছে—নারী উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। তাদেরকে ঋণ দেওয়া। তাদের জন্য তহবিল গঠন। তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, তাদের উদ্বুদ্ধকরণ এবং কাজের জন্য বাজার সংযোগের সুযোগ বৃদ্ধি করা। ফরোয়ার্ড এবং ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজের ব্যবস্থাও এখানে রাখা হয়েছে। এছাড়া, ইনফো ডাইরেক্টরি তৈরির বিষয়ে একটি গাইড লাইন দেওয়া হয়েছে, এসএমই তথ্য ভাণ্ডার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।

তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব শিল্প প্রতিষ্ঠায় এসএমইদের উৎসাহিত করা, শিল্প বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এসএমইদের প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা দেওয়া এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির উন্নয়ন ও ব্যবহারবিধি সম্পর্কেও এই নীতিমালায় বলা হয়েছে।

পিডিএসও/হেলাল