ঈদযাত্রা : সড়ক পথে স্বস্তি-শঙ্কা পাশাপাশি

*সমীক্ষায় ৪২৪৭ কিলোমিটার খারাপ *বন্যায় নতুন করে নষ্ট ৪৫০ কিলোমিটার

প্রকাশ | ০৮ আগস্ট ২০১৯, ০৯:৪০

অনলাইন ডেস্ক

ঈদুল আযহা দুয়ারে। এরই মধ্যে ঈদের আনন্দ পরিবারের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে ঘরমুখো মানুষ। তবে সম্প্রতি টানা বৃষ্টি ও বন্যায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৩১টি সড়কের ৪৫০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের (সওজ) সমীক্ষা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-মহাসড়ক ২৪ শতাংশ। আবার মেরামত কাজে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বৃষ্টি। এসব সড়ক ধরে বাড়ি ফিরতে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে। তবে স্বস্তির খবরও আছে; এরই মধ্যে এসব সড়ক মেরামত শুরু করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, এবারের বন্যায় সওজের আওতাধীন ১৩১টি রাস্তার প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্রোতের তোড়ে কয়েকটি সড়কের কিছু অংশ ভেঙে ভেসে গেছে। কোথাও সড়ক-মহাসড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়াও বেশ কয়েকটি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কয়েকটি সড়কে ভারী যান ও কয়েকটিতে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে ঢাকা, জয়দেবপুর-টাঙ্গাইল ও রাজধানীর আবদুল্লাহপুর থেকে টঙ্গী হয়ে জয়দেবপুরসহ বিভিন্ন সড়কে উন্নয়ন কাজ চলছে। বন্যাকবলিত ১৭ জেলার সওজ কর্মকর্তাদের পাঠানো সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এবার বন্যা ও ভূমিধসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা। এ জেলার আওতায় অন্তত ৫০টি সড়ক ভেঙে গেছে। সেগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম-হাটহাজারী-রাঙামাটি জাতীয় মহাসড়কের ৩০ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার, চট্টগ্রাম পোর্ট অ্যাক্সেস সড়কে ১২ দশমিক ৫০ কিলোমিটার, বারইয়ারহাট-হেঁয়াকো-নারায়ণহাট-ফটিকছড়ি সড়কে ৪৭ দশমিক ৪১ কিমি. ও হেঁয়াকো-রামগড় সড়কে ১৭ দশমিক ৬৬ কিমি. ভেঙে গেছে। অন্য সড়কগুলোর মধ্যে হাটহাজারী-ফটিকছড়ি-মানিকছড়ি-মাটিরাঙা-খাগড়াছড়ি সড়ক, চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক, কাঁটাখালী-রাউজান সড়ক ভেঙে গেছে।

এদিকে প্রতি বছর সওজ হাইওয়ে ডেভেলপমেন্ট মডিউল (এইচডিএম) পদ্ধতিতে সড়কের অবস্থা সমীক্ষা করে থাকে। সবশেষ গত নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত ১৭ হাজার ৪৫২ কিলোমিটার সড়কের সমীক্ষা চালানো হয়েছে। এইচডিএমের প্রতিবেদন বলছে, দেশের ২২ শতাংশ জাতীয় মহাসড়ক দুর্বল, খারাপ ও খুবই খারাপ অবস্থায় আছে। অন্যদিকে আঞ্চলিক মহাসড়কের ২৩ দশমিক ১৩ শতাংশ এবং ২৫ দশমিক ৬০ শতাংশ জেলা সড়ক খারাপ। তিন শ্রেণির সড়ক এক করে হিসাব করলে দেখা যায়, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ২৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ খারাপ বা বেহাল।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ১৭ হাজার ৪৫২ কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়কের মধ্যে পুওর, ব্যাড ও ভেরি ব্যাড—এই তিন ক্যাটাগরিতে ৪ হাজার ২৪৭ কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়ক ভালো নয়। এর মধ্যে ২ হাজার ২১০ কিলোমিটার পুওর, ১ হাজার ১৯ কিলোমিটার ব্যাড ও ১ হাজার ১৭ কিলোমিটার ভেরি ব্যাড ক্যাটাগরিতে রয়েছে। বাকি ৮ হাজার ৭২৩ কিলোমিটার গুড ও ৪ হাজার ৪৮২ কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়ক ফেয়ার ক্যাটাগরিতে রয়েছে। অর্থাৎ এসব সড়কের অবস্থা ভালো।

সমীক্ষা বলছে, জেলা সড়কের অবস্থা বেশি খারাপ। সমীক্ষা চালানো ১০ হাজার ১১১ কিলোমিটার জেলা সড়কের মধ্যে ২ হাজার ৫৮৭ কিলোমিটার খারাপ। এর মধ্যে পুওর ক্যাটাগরিতে ১ হাজার ৩৬০ কিলোমিটার, ব্যাড ক্যাটাগরিতে ৬১০ কিলোমিটার ও ভেরি ব্যাড ক্যাটাগরিতে ৬১৬ কিলোমিটার রয়েছে। তুলনামূলক খারাপ রাস্তার অবস্থানে রয়েছে সংস্থাটির চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও সিলেট জোনের জেলা সড়ক। ভালো অবস্থানে রয়েছে ঢাকা, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চল।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদে অতিরিক্ত যাত্রী বহনে বাস কোম্পানিগুলো ২৪ ঘণ্টাই ট্রিপ দিয়ে থাকে। দূরত্ব ভেদে প্রতিটি বাস দিন-রাতে অন্তত দুটি ট্র্রিপ দেয়। সে অনুযায়ী আগাম টিকিট বিক্রি করে। কিন্তু সড়কে যানজট ও ধীরগতি হলে ওই শিডিউল ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়। এবার বন্যা ও বৃষ্টিতে এমনই শঙ্কা করছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। যদিও গত কয়েক ঈদে স্বস্তিতে যাত্রী বহন করেছেন তারা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যা বলেন, এখন পর্যন্ত সড়কে ভাঙাচোরার কারণে ভোগান্তি হয়নি। তবে সামনের কয়েকটা দিনে বৃষ্টি হলে ভোগান্তি হতে পারে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বলেন, বন্যার কারণে অনেক সড়কের বিভিন্ন অংশে ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে, ওইসব স্থানে গাড়ি খুব সাবধানে চালাতে হয়। তবে আশা করি এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে।

সওজের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান বলেন, সড়কের নির্মাণ-সংস্কারের দায়িত্ব সওজের। এ কাজটি যথাযথভাবে করা হচ্ছে, যাতে করে রাস্তার কারণে কোনো যানজট না হয়। দুই লেনের সমস্যার কারণে যমুনা সেতু এলাকা, হাটিকুমরুল ও নলকায় কিছুটা সমস্যা হয়েছিল গত ঈদে। চার লেন হলে এ সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়ে যাবে।

পিডিএসও/হেলাল