সিটি করপোরেশনের নিয়ম ভঙ্গ

রাজধানীতে আগেভাগেই হাট

প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০১৯, ১১:৪৭ | আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৯, ১৩:০৬

হাসান ইমন

ঈদুল আযহার বাকি এখনো ছয় দিন। গত শনিবার থেকেই রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে চলে এসেছে পশু। বেচাবিক্রিও শুরু হয়েছে। ক্রেতা কম থাকলেও হাটগুলোতে বিক্রির জন্য তোলা হয়েছে অনেক গবাদি পশু। সিটি করপোরেশেনের নিয়ম অনুযায়ী ৮ আগস্ট থেকে হাট ও ৬ আগস্ট থেকে প্রস্তুতি নেওয়ার কথা। কিন্তু কোনো নিয়মই মানছেন না হাট ইজারাদাররা। নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই বাঁশের খুঁটি লাগিয়ে হাটের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে তারা।

তবে এ বিষয়ে জানেন না ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের (উত্তর ও দক্ষিণ) কর্মকর্তারা। নির্ধারিত সময়ের আগে পশুর হাট ও জনদুর্ভোগ হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন বলে জানিয়েছেন তারা। আগামী ১২ আগস্ট সোমবার ঈদুল আযহা পালিত হবে। সিটি করপোরেশনের নিয়ম অনুযায়ী, ঈদের দিনসহ আগের চার দিন রাজধানীর অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট বসানো যাবে। সে হিসেবে ৮ আগস্ট থেকে কোরবানির পশুর অস্থায়ী হাট শুরু হওয়ার কথা। আর হাটের প্রস্তুতি হাট বসার মাত্র দুদিন আগে দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী সিটি করপোরেশন নির্ধারিত স্থানের বাইরে হাট বসানো যাবে না। এ ছাড়া জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে, এমন কোনো স্থান, আবাসিক এলাকা, বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ এসব স্থানের আশপাশে হাট বসানো যাবে না। সিটি করপোরেশনও এসব স্থানে হাট বসতে অনুমোদন দেয় না। কিন্তু এ বছর ঈদের অন্তত ১০-১২ দিন আগ থেকেই হাট বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। এতে নগরীতে বাড়ছে যানজট।

গতকাল রোববার সকালে মেরাদিয়া হাটে গিয়ে দেখা গেছে, হাটটি মেরাদিয়া বাজার থেকে শুরু করে দক্ষিণ বনশ্রীর প্রজেক্ট এলাকার বিভিন্ন অলিগতিতে ছড়িয়ে পড়েছে। মেরাদিয়া হাট থেকে কাজীবাড়ী পর্যন্ত সড়কের দুই পাশেই সারিবদ্ধভাবে গরু রাখা হয়েছে। এ সড়কটিতে আবাসিক এলাকার ২০টির মতো সংযোগ সড়ক রয়েছে। প্রতিটি সড়কেই বসানো হয়েছে হাট। কিছু কিছু এলাকায় পশু রাখার জন্য বাঁশ ও খুঁটি লাগানোর কাজ চলছে। এতে আশপাশের বাসাবাড়ি, দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটছে।

এ এলাকার ১৬ নম্বর সড়কের বাসিন্দা মাঈনুল ইসলাম বলেন, ‘বাসার নিচে হাট বসানো হয়েছে। গরুর মল-মূত্রের কারণে গন্ধ ছড়াচ্ছে। বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারে না, ভয় পায়। ইজারাদারের লোকজনকে অভিযোগ করলেও কোনো সুরাহা হয়নি। বরং তারা উল্টো বাড়ির মালিকদের ধমক দিয়ে যান।’

এ হাটের ইজারাদার মো. শাহ আলম বলেন, এখানে আমার সাড়ে একর জমি আছে, সেখানে আমি পশু রেখেছি। সিটি করপোরেশনের জায়গায় রাখিনি। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পশু আসতে শুরু করেছে, সে পশুগুলো রাখবে কোথায়। সে জন্য তাদের জায়গা দিতে হয়েছে। আর ব্যবসায়ীদের নিয়েই আমাদের ব্যবসা। তারা গরু না আনলে হাট হবে কীভাবে? সে জন্য তাদের দিকেও আমাদের দেখতে হয়। না হয় আমরা ব্যবসা করব কীভাবে? আর সড়কে পশু রাখিনি আমি।

জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন বলেন, এ বিষয়টি আমার নলেজে আসেনি। আমি জানি না। তবে যারা করেছে তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব। তিনি আরো বলেন, ‘কোনোভাবেই জনসাধারণের চলার পথ, বাসাবাড়ি, দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা অন্যের ক্ষতি হয়—এমন স্থানে হাট বসানো যাবে না। যদি কেউ এমন কাজ করেন, তাহলে হাটে আমাদের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করব।’

একই অবস্থা দেখা গেছে তেজগাঁওয়ে ঢাকা পলিটেকনিক্যাল মাঠের। এ মাঠটির অধিকাংশ জায়গা ভরাট হয়ে গেছে গরু দিয়ে। চলছে বেচাবিক্রিও। তবে সড়কে গরু না বাঁধলেও সড়কের একপাশ বালু দিয়ে ভরাট করে রাখা হয়েছে। এতে স্বাভাবিক যানচলাচল বিঘ্ন হচ্ছে। সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাট ইজারাদার জালাল উদ্দিন বলেন, আমি এখন মিটিংয়ে আছি, আপনার সঙ্গে পরে কথা বলব।

শুধু এ দুই হাটই নয়, একই অবস্থা আফতাবনগর, উত্তর শাজাহানপুরের খিলগাঁও রেলগেটসংলগ্ন মৈত্রীসংঘের মাঠের হাট, পোস্তগোলা শ্মশানঘাটের পাশের হাট, শ্যামপুর বালুর মাঠের হাট, দনিয়া কলেজ মাঠসংলগ্ন খালি জায়গার হাট ও ধুপখোলার ইস্ট অ্যান্ড ক্লাব মাঠের পাশের খালি জায়গা, উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের ১ নম্বর গোলচত্বরসংলগ্ন খালি জায়গার হাট, ভাটারা সাঈদনগর হাটে।

উত্তর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত সম্পত্তি কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম শামীম বলেন, এ বিষয়টি আমার কানে আসেনি। আইন ভঙ্গ করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।

এদিকে, কোরবানির পশু বেচাকেনার সুবিধার্থে রাজধানীতে ২৪টি অস্থায়ী হাট বসানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। এর মধ্যে ডিএসসিসির ১৪টি ও উত্তরের ১০টি। এ ছাড়া স্থায়ী পশুর হাট গাবতলী রয়েছে।

পিডিএসও/হেলাল