বাংলাদেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির প্রশংসায় রানী ম্যাক্সিমা

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৯, ২১:২৮

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

নেদারল্যান্ডসের রানী ম্যাক্সিমা জরিগুয়েতা সেরুতি ডিজিটাল আর্থিকসেবা সহজীকরণের মাধ্যমে বাংলাদেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণের যে বিকাশ ঘটেছে তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। একইসঙ্গে তিনি আর্থিকসেবায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের প্যাসিফিক লাউঞ্জে দেশের বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি বিশেষ করে তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী এবং ব্যাংকসহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। 

বৈঠক শেষে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক এবং ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আর এফ হোসেন রানি ম্যাক্সিমাকে উদ্ধৃত করে এ কথা জানান।

রুবানা হক বলেন, পোশাক খাতে এমন ইকো সিস্টেম ব্যবস্থা দাঁড় করাতে হবে, যাতে শতভাগ শ্রমিককে ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার মধ্যে নিয়ে আসা যায়, এ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। রানি বলেন, প্রয়োজন হলে বিশ্বের যেসব প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল আর্থিকসেবা নিয়ে ভালো কাজ করছে, তাদের সঙ্গে কারিগরি জ্ঞান বিনিময়ের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে তিনি সহায়তা করার আশ্বাস দেন। এছাড়া রানী ম্যাক্সিমা বাংলাদেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণ জোরদারে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গেও আলোচনা করবেন বলে জানান। 

রানী ম্যাক্সিমাকে উদ্ধৃত করে ব্র্যাক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আর এফ হোসেন বলেন, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণে বড় অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। তবে আর্থিকসেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এখনো লিঙ্গ বৈষম্য রয়েছে। পুরুষদের তুলনায় নারীরা ডিজিটাল আর্থিকসেবা বা ব্যাংকিং সেবা প্রাপ্তিতে পিছিয়ে আছে। এই বৈষম্য কমাতে আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থা আরো কীভাবে ডিজিটালাইজড করা যায়, এ নিয়ে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। 

রানী বলেন, বাংলাদেশের পোশাক খাতে ৪৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। তাদর কেবলমাত্র অনলাইনে বেতন পরিশোধ করলে চলবে না, শ্রমিকরা যেন তাদের কেনাকাটা বা অন্যান্য লেনদেন অনলাইনে করতে পারেন, সেই ধরনের ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে তিনি সহায়তা করবেন বলে জানান। 

উল্লেখ্য, রানী ম্যাক্সিমা জাতিসংঘ মহাসচিব এন্টোনিও গুতেরেসের ইনক্লুসিভ ফিন্যান্স ফর ডেভেলপমেন্ট বিষয়ক বিশেষ পরামর্শক। বিশ্বব্যাপী অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা জোরদার, দারিদ্র্য নিরসন, খাদ্য নিরাপত্তা ও শিক্ষার মতো উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ডাচ রানি জনসচেনতা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। রানী ম্যাক্সিমা গত মঙ্গলবার তিন দিনের সফরে বাংলাদেশ আসেন।

পিডিএসও/তাজ