চাকরির বয়স ৩৫ করার বিপক্ষে যে যুক্তি দেখালেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৯, ১৮:৪৬ | আপডেট : ০৮ জুলাই ২০১৯, ১৯:১৫

অনলাইন ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, চাকরিতে প্রবেশের বয়সী ৩৫ বছর করার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বাধা দেয়া হবে না। কারণ আন্দোলন করলে তারা অন্তত রাজনীতিটা শিখতে পারবে। তবে কারও প্ররোচনায় না পড়তে তাদের হুশিয়ারি দেন তিনি।

চীনে পাঁচ দিনের সরকারি সফরের অভিজ্ঞতা জানাতে সোমবার বিকাল ৪টায় গণভবনে সাংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বিদেশ সফর থেকে ফিরে প্রতিবারই সংবাদ সম্মেলন করেন সরকার প্রধান শেখ হাসিনা। প্রতিবারই সমসাময়িক রাজনীতির বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্নটি ছিল, আপনার সরকারের সময়ে সরকারি চাকরিজীবীদের অবসরে যাওয়ার বয়স বাড়ানো হয়েছে, সেক্ষেত্রে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের পেয়েছে সরকার। পাশাপাশি সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে কিছুটা বাধা সৃষ্টি হয়েছে। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা ৩৫ বছর করার দাবিতে। সেক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন সরকারের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা?

জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আগে বয়সের হিসাবটা বলি, চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ করার দাবিতে আন্দোলন করা হচ্ছে। এখন কিন্তু জন্ম নিবন্ধন হয়, বয়স লুকানো যায় না, আমরা যদি ধরে নিই যে একটা ছেলে-মেয়ে নিয়মিত পড়াশোনা করে- যদি একটু দেরিতেও হয়- তাহলেও তো ১৬ বছর বয়সে এসএসসি পাশ করতে পারে। তার পর দুই বছর পর ১৮ বছরে এইচএসসি পাশ করে। এরপর চার বছর অনার্স ও এক বছরের বছরের মাস্টার্স অর্থাৎ আঠারোর চার বছর যোগ করলে ২২ ও ২৩ বছর বয়সের মধ্যে মাস্টার্স ডিগ্রি পাশ করে পিএসসিতে চাকরির পরীক্ষা দিতে পারে।

তিনি বলেন, তারপরে যদি এক-দুই বছর দেরিও হয়, তাহলে এটা ২৪ কিংবা ২৫ বছর পর্যন্ত হতে পারে। কাজেই আপনারা জবাবটা নিজেরাই ঠিক করে নেন, এটা দেয়া সঙ্গত কিনা? তবে আমি কেবল একটা হিসাব দিচ্ছি।

এই দাবিতে আন্দোলন শুরু হলে পিএসসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বসার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, তার সঙ্গে কথা বলে একটা হিসাব নিয়েছি। গত ৩৫তম বিসিএসে ২৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী যারা অংশগ্রহণ করে, তাদের পাশের হার হলো ৪০ দশমিক সাত ভাগ, আর ২৫ থেকে ২৭ বছর যাদের বয়স তারা ৩০ দশমিক ২৯ ভাগ করেছেন।

‘আর ২৭ থেকে ২৯ বছর বয়স যাদের, তাদের পাশের হার হচ্ছে ১৩ দশমিক ১৭ ভাগ। আর ২৯ বছরের ঊর্ধ্বে যারা, তারা পাশ করেছে তিন দশমিক ৪৫ ভাগ।’

তিনি বলেন, ৩৬ তম বিসিএসে ২৩ থেকে ২৫ যাদের বয়স, তারা পাশ করেছে ৩৭ দশকিম ৪৫ ভাগ। আর ২৫ থেকে ২৭ যাদের বয়স, তারা ৩৪ দশমিক ৭৮ ভাগ পাশ করেছেন। আর ২৭ থেকে ২৯ যাদের বয়স তারা ১৪ দশমিক ৮৯ ভাগ পাশ করেছেন। আর ২৯ বছর বয়সের ঊর্ধ্বে যাদের বয়স, তাদের পাশের ছিল ৩ দশমিক ২৩ ভাগ।

এরপর ৩৭তম বিসিএসের পরিসংখ্যান দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এতে ২৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী পরীক্ষার্থীরা ৪৩ দশমিক ৬৫ ভাগ, ২৫ থেকে ২৭ যাদের বয়স, তারা ২৩ দশমিক ৩৫ ভাগ এবং ২৭ থেকে ২৯ যাদের বয়স, তারা পাশ করেছেন সাত দশমিক ২০ ভাগ। আর ২৯ এর উর্ধ্বে যাদের বয়স তারা ০ দশমিক ৬১ ভাগ।

এরপর প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, কোনটা গ্রহণ করবো, বলেন এখন? আর কিছু বলতে চাই না কেবল পাশের হিসাবটা দিলাম।

‘এখন যদি ৩৫ বছর পর্যন্ত যান, তা হলে অবস্থাটা কী হবে? তখন বিয়ে-শাদি হবে। ছেলে-মেয়ে হবে। বউ সামলাতে হবে। ছেলে-মেয়ে দেখতে হবে আর পরীক্ষা দিতে হবে। তখন অবস্থাটা আরও করুণ হবে।’

তিনি বলেন, কাজ করার একটা সময় বা এনার্জি থাকে। এখন দাবি তোলার জন্য যদি তোলা হয়, তবে আমার কিছু বলার নেই। তারা নিশ্চয় কোনো জায়গা থেকে প্রেরণা পাচ্ছে। কিন্তু তার পরিণতিটা কী দাঁড়াবে?

শেখ হাসিনা বলেন, আর ৩৫ বছর বয়সে পরীক্ষা দিলে, এরপর ফল, পরে প্রশিক্ষণ। এসব শেষ হতে আরও দুই বছর লাগবে, তাহলে ৩৭ বছর হয়ে গেল, এই বয়সে চাকরিতে ঢুকলে তখন ২৫ বছর পূর্ণ না হলে ফুল পেনশন পাবে না। ঠিক আছে পেনশন না পেল, একটা সরকার তাহলে কাদের দিয়ে চালাবেন?

তিনি বলেন, আমরা সবসময় বলি, যারা যুবক, যারা মেধাবী, যাদের কর্মক্ষমতা ভালো, তাদেরকে দিয়েই দেশের উন্নয়নের কাজটা করতে হবে। তবে বয়স বাড়লে কাজের গতি ধীর হয়, এটা খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। আমি কেবল হিসাব দিলাম, এখন দেশবাসী বিচার করুক, আপনারা বিচার করেন।

‘যখন আন্দোলন শুরু হয়েছে, এটা তখনকার হিসাব। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, পার্লামেন্টে এরকম একটা প্রস্তাব এসেছিল, ঠিক এই বিষয়গুলো তখন বিবেচনায় নেয়া হয়।’

পিডিএসও/রি.মা