বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ : স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

প্রকাশ : ২৬ জুন ২০১৯, ২১:০২ | আপডেট : ২৭ জুন ২০১৯, ১৬:৫৬

সংসদ প্রতিবেদক

সারাদেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, আমাদের মাথাপিছু আয় বাড়ছে, গ্রহণ করার ক্ষমতা বাড়ছে, মাথাপিছু বর্জ্যও বাড়ছে। এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। তবে আমরা চেষ্টা করছি সারাদেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিয়ে আসার।

বুধবার রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। এসময় সভাপতিত্ব করছিলেন ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, আগামীতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কঠিন চ্যালেঞ্জ। আমাদের পার ক্যাপিটা ইনকাম বাড়ছে, পার ক্যাপিটা কনজামশন বাড়ছে, পার ক্যাপিটা ওয়েস্টও বাড়ছে। এই বর্জ্য নি:সরণ করার জন্য আমি এবং আমার দল কাজ করছি। কিভাবে সমস্ত গ্রাম থেকে শুরু করে এই বর্জ্য নি:সরণ করা যায়। 

জলাবদ্ধতা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, এবার বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই সিটি কর্পোরেশনগুলো তাদের বিদ্যমান ড্রেন পরিস্কার করায় এবার জলাবদ্ধতা দেখা দেয়নি।

রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন সময় উত্থাপিত অভিযোগ প্রসঙ্গে মোঃ তাজুল ইসলাম এমপি বলেন, ওই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ যে জনসংখ্যার ঘনবসতি রয়েছে তার মধ্যে অনেকের সেখানে কর্মসংস্থান হবে। এমনকি দেশের যত বেশি রাস্তা রয়েছে তার বেশির ভাগ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের। রাস্তাগুলো করা হয়েছে সনাতন পদ্ধতিতে ও কম খরচে। টেকসই রাস্তা তৈরি করলে সংকট চলে যাবে। রাস্তাগুলো সংস্কারের কথা এসেছে, এর জন্য আমরা বুয়েটকে দিয়ে একটা ডিজাইন করছি। আর কয়েক দিন বাদেই নতুন অর্থবছর থেকে সেই নকশা অনুযায়ী কাজ করব। কাজেই সেই  সমস্যা আর থাকবে না। আমাদের প্রকৌশলীরা এ বিষয়ে নিরলস কাজ করছে।  

তিনি বলেন, আমরা একটা সফটওয়্যার নির্মাণ নিয়ে কাজ করছি। ওই সফটও্যার সম্পন্ন হলে আমরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অটোমোবাইল প্রসেসের মাধ্যমে জানতে পারব কোথায় কোন রাস্তা  দ্রুত সংস্কার করা লাগবে। সেই অনুযায়ী প্রকৌশলীরাও অফিসে বসেই কাজ করতে পারবে।

মন্ত্রী বলেন, শুধু ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন করলেই হবে তা না। দেশে নির্মাণ শ্রমিক আছে, কিন্তু প্রশিক্ষিত শ্রমিক নাই। তাই  ভারতের লার্জ এন্ড টার্বোর সাথে আলোচনা করেছি। তাদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাথে এমওইউ করার চেস্টা করছি। এমওইউ করতে পারলে গুণগত মান সম্পন্ন শ্রমিক তৈরি করতে পারব। সেখান থেকে প্রতি ৩ মাসে একটি করে ব্যাচ বের হবে। আমাদের ঠিকাদারদেরও প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম বলেছেন, বাজেটের একটা লক্ষ্য আছে। একটা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব না। মোটা দাগের বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে একটা লক্ষ্যমাত্রায় নিয়ে যেতে চান। সে লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে একটা উন্নত বাংলাদেশ। ওই জায়গাতে দেশকে পৌঁছে দিতে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) একটা পথ নকশা প্রণয়ন করেছেন।

মন্ত্রী বলেন, সেখানে পঞ্চবাষির্কী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এই পঞ্চবাষির্কী পরিকল্পনার চাহিদা মোকাবেলা করার জন্য তিনি (শেখ হাসিনা) বিশাল অংকের বাজেট দিয়েছেন। দেশের অথনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির জন্য এই বাজেট প্রণয়ন করেছেন। কারণ বর্তমানে বাংলাদেশের অথনৈতিক অবস্থা অনেক ভালো। বিশ্বের অনেক দেশ এর প্রশংসা করছে। 

ব্যাংকিং সেক্টরের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং সেক্টর থেকে অনেক টাকা নেওয়া হয়। কারণ সরকার বিনিয়োগ বাড়াতে সেখান থেকে টাকা নিয়ে থাকেন। তা না হলে বেসরকারি সেক্টর বিনিয়োগে আগ্রহী হন না। তাই ব্যাংকিং সেক্টরের  টাকা নিয়ে উদ্যোক্তা তৈরিতে ভূমিকা রাখে সরকার।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান ৪ শতাংশ সুদে কলমানি পাওয়া যায়। এটা সবচেয়ে নিম্নমুখী। চার শতাংশে যদি কলমানি পাওয়া যায় এর অর্থ এই নয় যে, বাজারে অর্থ সংকট রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার কোনও সংকাট নাই এবং দেশীয় মুদ্রার কোনও সংকট নাই।

তিনি বলেন, ঘাটতি বাজেট না দিলে বিশ্বের অর্থনীতিবিদরা বলেন দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয় না। এই কারণে ঘাটতি বাজেট দেওয়া হয়। তবে এতে বাজারে অর্থের সংকট হয় না। দ্রুত উন্নত প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য এই ঘাটতি বাজেট যৌক্তিক, সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত। এই সঠিকতা গত ১০ বছর বার বার প্রমাণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি কৃতজ্ঞ এই জন্য যে তিনি বার বার আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন এবার স্থানীয় সরকারের মতো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, সেজন্য তার প্রতি আমি ঋণী। ওনার কর্মী হিসেবে আমি কাজ করছি। পাশাপাশি এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১০ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী আমার মন্ত্রণালয়ে যান। সেখানে তিনি কিছু নিদের্শনা দিয়েছিলেন, তার নিদের্শনা বাস্তবায়নে আমি এবং আমার মন্ত্রণালয় কাজ করছে। তার অনেকগুলো নির্দেশনার মধ্যে একটা ছিল আমার গ্রাম ও আমার শহর নির্মাণ প্রকল্প, যা আমাদের দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে অঙ্গীকার ছিল। 

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু কোআপারেটিভ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং গ্রামীন উন্নয়নে সেখানে একটা দর্শন ছিল। এর আলোকে আমার নির্বাচনী এলাকায় একটি মাঠে কালেকটিভলি চাষের উপযোগী একটি প্রকল্প নিয়েছি। এটির বাস্তবায়ন হলে বর্তমান কৃষকের যে লাভ বা উন্নয়ন হচ্ছে তার থেকে ২২গুন বেশি লাভ হবে। এমনকি কৃষকের যে ধান কাটা ও চাষে সমস্যা সেটাও সমাধান হবে ওই প্রযুক্তির সহায়তায়। এর মাধ্যমে গ্রামীন জনপদে একটা নেটওয়ার্ক তৈরি হবে।

পিডিএসও/রি.মা