প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সভায় প্রধানমন্ত্রী

বারবার নির্যাতনের পরে শক্তিশালী হয়েছে আ.লীগ

প্রকাশ : ২৪ জুন ২০১৯, ১৯:৩৭ | আপডেট : ২৪ জুন ২০১৯, ১৯:৪৬

বাসস

আওয়ামী লীগকে হীরার সঙ্গে তুলনা করে দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, হীরা যত কাটা হয়, তত বেশি উজ্জ্বল হয়। একইভাবে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আওয়ামী লীগের ওপর অনেক আঘাত এসেছে। আর যত বেশি আঘাত এসেছে, আওয়ামী লীগ তত বেশি শক্তিশালী হয়েছে। এর পেছনে রয়েছে আওয়ামী লীগের মানুষের জন্য কর্তব্যবোধ, দায়িত্ববোধ, ভালোবাসা, ত্যাগ-তিতিক্ষা। এসব আছে বলেই আওয়ামী লীগ ৭০ বছর ধরে টিকে আছে। 

সোমবার বিকেলে রাজধানীতে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পাকিস্তানিরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়লে জানা যায়, আমাদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক, তিনি অত্যাচার-নির্যাতনে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিলেন। 

তিনি আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় যেখানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঘরবাড়ি আছে, তা খুঁজে খুঁজে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। স্বাধীনতার পরও অত্যাচার-নির্যাতন থেমে থাকেনি। ১৯৭৫-এ জাতির পিতাকে হত্যার পর আবারও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন নেমে আসে। তবে শত অত্যাচার-নির্যাতনেও আওয়ামী লীগ কখনো ভেঙে পড়েনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাস যদি দেখি আমার মনে হয় না কোন রাজনৈতিক দল, একটা দেশের জন্য দেশের মানুষের জন্য এতো আত্মত্যাগ করেছে, যতটা আওয়ামী লীগ করেছে। এতো নির্যাতন সহ্য করেছে, যেটা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা করেছে।

এক/এগারের সময়কার প্রেক্ষাপট তুলে তিনি বলেন, সাধারণরত আমরা দেখি যখনি এরকম মার্শাল’ল আসে বা কোন এমাজেন্সি হয় বা কেউ ক্ষমতায় আসে, তো যারা ক্ষমতায় ছিল অর্থ্যাৎ ইমিডেয়েট পাস্ট তাদের উপরেই আঘাত আসার কথা কিন্তু তা না, সবার আগে আঘাত আসল আওয়ামী লীগের উপর। আমাকে দেশে আসতে দেবে না। আমি যখন জোর করে আসলাম, আমাকে আগে গ্রেফতার করা হলো আমার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হলো, তার অর্থটা কি এখানেই বুঝা যায়। 

শেখ হাসিনা আরও বলেন, আমরা যেহেতু জনগণের কাজ করি, কাজেই জনগণের অধিকার যারা কেড়ে নেয়? তাদের একটা শৈণ দৃষ্টি থাকে আওয়ামী লীগের উপর, এই দলটাকে ধ্বংস কর। আর যতই তারা ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে, এই দলটা তত বেশী শক্তিশালী হয়েছে, সেটা প্রমাণ আছে ২০০৮ সালের নির্বাচন।

একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দেশের উন্নতি হয় দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যখন যুক্তফ্রন্ট নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করল, যখন আওয়ামী লীগ মন্ত্রিসভায় ছিল, তখন এই ভূখন্ডে যতুটুক যা উন্নতি হবার কিছুটা হয়েছিল। এরপর ১৯৫৫ সালে যখন আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করল তখন ১৯৫৮সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। এই আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় এসেছে তখনই কিন্তু এদেশের যা কিছু উন্নতি এই ভূখন্ডে তখনই হয়েছে। বঞ্চনা থেকে মানুষকে মুক্তি দেওয়ার জন্য নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

১৯৭২ সালে জাতির পিতা ফিরে এলেন বাংলার মানুষের মুক্তির জন্য উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি যে কাজগুলি করে গিয়েছিলেন। যার শুভফলটা শত বাধা, শত চক্রান্ত সত্ত্বেও এদেশের অর্থনীতির অগ্রযাত্রা শুরু হলো। মাত্র তিন বছরের মধ্যে একটা বিধ্বস্ত অর্থনীতি শূন্যের উপর দাঁড়িয়ে, ধ্বংসস্তুপের উপর দাঁড়িয়ে তিনি দেশ পরিচালনা করে এই দেশকে স্বল্পোন্নত দেশ হিসাবে গড়ে তুললেন। কিন্তু দুভার্গ্য আমাদের, জাতির পিতাকে হত্যা করা হল। তারপর আবার ২১টি বছর বঞ্চনার ইতিহাস। ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত আমরা ক্ষমতায় আছি। দশ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের চিত্র বদলে গেছে। আজকের বাংলাদেশ সারাবিশ্বে সম্মান পাচ্ছে।  

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে দলের সভাপতি বলেন, বঙ্গবন্ধু বলে গেছেন মহৎ অর্জনের জন্য মহান ত্যাগের প্রয়োজন। তাই সবাইকে বড় অর্জনের জন্য আত্মত্যাগ করতে হবে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে আমরা জনগণের জন্য কাজ করি। আমাদের দল ক্ষমতায় আসলে দেশের মানুষ অন্তত কিছু পায়। দেশের মানুষের ভালোবাসার কারণেই বারবার নির্যাতনের পরেও শক্তিশালী হয়েছে আওয়ামী লীগ। 

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক মুনতাসির মামুন, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিম-লীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান প্রমুখ। এছাড়াও সভা মঞ্চে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় সূচনা বক্তব্যে রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

যৌথভাবে সভা পরিচালনা করেন দলের প্রচার-প্রকাশনা সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং উপপ্রচার প্রকাশনা-সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।

পিডিএসও/তাজ