ডিএসসিসির নতুন ১৮ ওয়ার্ড

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ৯৩৮ কোটি টাকার ২টি প্রকল্প

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৯, ১৯:১১

হাসান ইমন

নতুন যুক্ত হওয়ায় ১৮ ওয়ার্ডের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য দুইটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। প্রথমটি সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বেসরকারি বর্জ্য ফার্ম। দ্বিতীয়টি সিটি করপোরেশনের লোকবল ও সরঞ্জাম সংক্রান্ত। দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প দুইটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯৩৮ কোটি টাকা। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর প্রকল্প দুটির কাজ শুরু হবে।

জানা যায়, ডিএসসিসির নতুন যুক্ত হওয়া ১৮টি ওয়ার্ড ইউনিয়ন পরিষদ থাকাকালীন সেখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম গড়ে ওঠেনি। সংস্থাটির আওতাভুক্ত হওয়ার পর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবা দেওয়া সিটি করপোরেশনের অন্যতম দায়িত্ব হিসেবে দাঁড়িয়েছে। সংস্থাটির জনবল স্বল্পতা ও প্রয়োজনীয় গাড়ি  না থাকায় নিজস্ব অর্থায়নে নতুন অন্তর্ভুক্ত ওয়ার্ডগুলো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবা দিতে সক্ষম হচ্ছে না ডিএসসিসি।

এর জন্য সংস্থাটি জিওবি অর্থায়নে দুইটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রথমটি হলো বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ফার্ম নিয়োগের মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কাজে প্রয়োজনীয় জনবল ও বর্জ্য অপসরাণের জন্য প্রয়োজনীয় যানবাহন নিয়োজিত করা। এ প্রকল্পটির জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৯ কোটি ৭০ লাখ ৬১ হাজার টাকা। 

দ্বিতীয়টি হলো বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য যান-যন্ত্রপাতি সংগ্রহ ও অবকাঠামো উন্নয়ন। এর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৮৯ লাখ ৯৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রকল্পটির যান যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোর মধ্যে ১৮ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে। ২টি জিপ সংগ্রহ করা হবে। ২টি কার, ১টি মাইক্রোবাস, ২৩টি মোটরসাইকেল, ১৮টি রিয়ার লোডিং কম্পেক্টর, ৩০টি রিয়ার লোডিং কম্পেক্টর, ১৫টি হুক লোডিং কনটেইনার, ২১ কনটেইনার কুরিয়ারের মাধ্যমে ক্রয় করা হবে। এছাড়া ১৮টি ড্রাম ট্রাক, ১৮০টি রিকশা ভ্যান, ১৮০০টি হ্যান্ড ট্রলি, ৩৬০টি ওয়েস্ট বিন (ফাইবার গ্লাস) ও ৯০০টি ওয়েস্ট বিন, ৯টি রোড সুইপার, ২টি জেট অ্যান্ড সাকার (বড়), ২টি জেট অ্যান্ড সাকার (ছোট), ৩৬০টি কনটেইনার, ৯টি ব্যাকহো লোডার, ২টি এস্কাভেটর লংবুট (বড়), ২টি এস্কাভেটর লংবুট (ছোট), ৪টি বুলডোজার, ৪টি পে-লোডার, ২টি টায়ার ডোজার, ২টি ফাইয়ার ফাইটিং ভেহিকল, ১টি ইনসেকটিসাইট সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া ১৮টি এসটিএস নির্মাণ, ১৮ অফিসে ওয়ার্ড নির্মাণ, ১৮টি গভীর নলকূপ সংগ্রহ করা ও ১টি কার ওয়াশ ক্রয় করা হবে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এ এইচ এম আবদুল্লাহ হারুন প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, নতুন যুক্ত হওয়া ১৮টি ওয়ার্ডে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যে এ দুইটি প্রকল্পের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রথমটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৯ কোটি ৭০ লাখ ৬১ হাজার টাকা। আর দ্বিতীয়টির প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৮৯ কোটি ৯৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রকল্পটি ডিএসসিসির মেয়র সাঈদ খোকনের অনুমোদন নিয়ে মার্চে মন্ত্রণালয়ের পাঠানো হয়েছে। এখন ফাইল অনুমোধন হলে আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হবে। 

তিনি আরো বলেন, নতুন যুক্ত হওয়া ওয়ার্ডগুলোতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে বেসরকারি ঠিকাদারের মাধ্যমে ন্যূনতম বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হবে।

এর আগে নতুন যুক্ত ১৮টি ওয়ার্ডে সড়ক, নর্দমা, ফুটপাত ও বৈদ্যুতিক বাতি সংযোজনে ১ হাজার ২৮৮ কোটি টাকার পৃথক দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ডিএসসিসি। ওই কাজের ৭৫ ভাগ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। চলতি বছর এ দুটি প্রকল্পের পুরো কাজ শেষ হবে বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) ২০১৭ সালের  ৯ মে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে নতুন করে মোট ১৬টি ইউনিয়ন যুক্ত করার প্রস্তাব অনুমোদন করে, যার মধ্য দিয়ে ঢাকার দুই সিটির আয়তন বেড়ে দ্বিগুণের বেশি হয়। 

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে যুক্ত বাড্ডা, ভাটারা, সাঁতারকুল, বেরাঈদ, ডুমনি, উত্তরখান, দক্ষিণখান ও হরিরামপুর ইউনিয়নকে ৩৭ থেকে ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিভক্ত করা হয়েছে। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে যুক্ত শ্যামপুর, দনিয়া, মাতুয়াইল, সারুলিয়া, ডেমরা, মান্ডা, দক্ষিণগাঁও ও নাসিরাবাদ ইউনিয়নকে ৫৮ থেকে ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডে বিভক্ত করেছে সরকার।

পিডিএসও/তাজ