আকারে বড় হচ্ছে সদরঘাট টার্মিনাল

কাজ শুরু জুলাইয়ে

প্রকাশ : ১০ জুন ২০১৯, ০৯:০৯

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর সদরঘাটে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ কমাতে লঞ্চ টার্মিনাল বাড়ানোর কাজ আগামী জুলাইয়ে শুরু হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বাবুবাজার ব্রিজ থেকে পোস্তগোলা ব্রিজ পর্যন্ত জেলা অনুযায়ী আলাদা করে টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। এজন্য দুই বছর সময় লাগবে। গতকাল রোববার সচিবালয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, এবার দেশের মানুষ নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে ঈদ উদযাপন করতে পেরেছে। মন্ত্রণালয়ের প্রতিটি সদস্য আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করায় এটা সম্ভব হয়েছে। তবে ঈদের দুই দিন আগে একটু জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। সেটা হয়েছে বিকেএমইএ ও বিজিএমইএ একসঙ্গে ছুটি ঘোষণায় হঠাৎ বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা তাদের আগেই চিঠি দিয়েছিলাম যাতে তারা পার্ট পার্ট করে ছুটি দেয়। তবে আগামীতে এ বিষয়ে আন্তরিক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ঈদে যাতে কোনো সমস্যা না হয় সেজন্য গত ৩০ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ে একটি সভা করে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেগুলো বাস্তবায়ন করায় নির্বিঘ্নে ঈদযাত্রা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, সদরঘাটে শেষের দুই দিন বাড়তি চাপ পড়েছে। এর কারণ হলো ছুটিগুলো একসঙ্গে পড়েছে। পাশাপাশি সদরঘাটে জায়গার সংকট রয়েছে। এজন্য টার্মিনাল বাড়াতে ৬৩৩ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই জুনের শেষে বা আগামী জুলাইয়ে কাজ শুরু করা হবে। বাস্তবায়নে দুই বছর সময় লাগবে। এই প্রকল্পের বিভিন্ন খাতে টেন্ডার হয়ে গেছে।

অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের এ অভিযান মেঘনা ও শীতলক্ষ্যায় চলমান রয়েছে। শুধু আবাসিকে রোজার জন্য বন্ধ ছিল। এখন শিগগির আবার চালু হবে। আমরা চাই অবৈধ দখল থেকে নদীগুলো রক্ষা করতে। যেহেতু সরকার ১০ হাজার কিলোমিটার নৌপথ করার কথা নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা দিয়েছে। বর্তমানে দেশে ৬ হাজার কিলোমিটার নৌপথ রয়েছে। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে ২ হাজার কমে যায়। এজন্য নতুন করে আরো ৪ হাজার কিলোমিটার নদীপথ সচল করা হবে। সব মিলিয়ে ১০ হাজার কিলোমিটার করা হবে।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনা এড়াতে লঞ্চে উঠতে যাত্রীদের জন্য যে পাটাতন দেওয়া হয় সেটার রেলিং দেওয়া ও প্রতিবন্ধীদের উঠতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি হয়রানি কমাতে লঞ্চ টিকিটের ব্যবস্থা করা হবে।

ওয়াটার বাস নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওয়াটার বাসে যাত্রী যেতে চায় না। কারণ পানির দুর্গন্ধ ও দ্রুত চালানোর জন্য দুর্ঘটনা বেশি হয়। এজন্য নদীগুলো প্রশস্ত করে শিগগির চালু করা হবে।

পিডিএসও/হেলাল