রাজাকারদের তালিকা হচ্ছে

প্রকাশ : ২৬ মে ২০১৯, ২১:০৪

অনলাইন ডেস্ক

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগে সংরক্ষিত রাজাকার, আল বদর, আল শামস ও স্বাধীনতা বিরোধীদের তালিকা স্বর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার (আধাসরকারি পত্র) দিচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সময় বেতন-ভাতা ভোগী রাজাকারদের তালিকা যথাযথভাবে সংরক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসকদের চিঠি দেওয়া হচ্ছে।

রোববার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

কমিটি সভাপতি শাজাহান খানের সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে অংশ নেন কমিটি সদস্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক, রফিকুল ইসলাম (বীর উত্তম) এবং কাজী ফিরোজ রশীদ।

এদিকে রাজাকার, আল বদর, আল শামস ও স্বাধীনতা বিরোধীদের তালিকা প্রকাশে আইনি কোন বাধা নেই বলে মত দিয়েছে কমিটি।

বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, কমিটির আগের বৈঠকেই স্বাধীনতা বিরোধীদের তালিকা ও মুক্তিযুদ্ধের সময় জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলনকারী রাজাকারদের তালিকা সংরক্ষণের সুপারিশ করা হয়েছিল।

কমিটির এই সুপারিশের বাস্তবায়ন অগ্রগতির আলোচনায় জানানো হয়, তালিকা যথাযথভাবে সংরক্ষণের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ডিও লেটার প্রদান এবং ডিসিদের গোপন বার্তা পাঠানোর জন্য নথি উপস্থাপন করা হয়েছে।

এছাড়া কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী রাজাকার, আল বদর, আল শামস ও স্বাধীনতা বিরোধী ব্যক্তি ও সংগঠন এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ ও ও পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সদস্যদের দেশদ্রোহী আখ্যায়িত করে তাদের আসনগুলো শুণ্য ঘোষণা করে এসব স্থানে যাদেরকে সদস্য করা হয়েছিল তাদের নামগুলো স্বাধীনতা বিরোধীদের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করে তালিকা প্রস্তুত ও সংরক্ষণে আইন সংশোধনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বৈঠক শেষে কমিটি সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, কমিটির পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসকের কাছে সংরক্ষিত স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকারদের তালিকা সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।

কমিটির আরেক সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, কমিটি মনে করে রাজাকার, আল বদর, আল শামস ও স্বাধীনতা বিরোধীদের তালিকা প্রকাশে আইনী কোন বাধা নেই। এই জন্য কোন আইন সংশোধনের প্রয়োজন পড়বে না। কেউ যদি এমন কিছু দাবী করে তাহলে সে আইন দেখাতে হবে বা কোন আইনের ব্যাখ্যা দিতে হবে। 

সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে থানা বা মহাকুমা বা জেলা প্রশাসন থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলনকারী রাজাকারদের তালিকা যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও পরবর্তীতে প্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহণে একটি তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য কমিটি সুপারিশ করেছে। 

পিডিএসও/রি.মা