চাপ সামলাতে প্রস্তুতি রেলে

প্রকাশ : ২১ মে ২০১৯, ০৯:৫৫

জিয়াউদ্দিন রাজু

ঈদে বাড়ি ফিরতে এবারো রেলে চাপবেন অসংখ্য মানুষ। সড়কপথের দুর্ভোগ এড়াতে সময় কিছুটা বেশি লাগলেও রেলই হয়ে ওঠে শেষ মুহূর্তে অন্যতম যান। ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। প্রতি বছরের মতো এবারও থাকছে বিশেষ ট্রেন সার্ভিস। আগেভাগেই ছাড়া হবে অগ্রিম টিকিট।

যাত্রীদের সুবিধার্থে কমলাপুর ও চট্টগ্রাম স্টেশনে বসানো হচ্ছে বৈদ্যুতিক পাখা। ছোটোখাটো সংস্কারের পাশাপাশি প্ল্যাটফর্মগুলোতে চলছে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। বিভিন্ন রুটে যোগ হচ্ছে নতুন ট্রেন। যাত্রাপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেল পুলিশের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্য সদস্যরা। ৩১ মে থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত সব আন্তঃনগর রেলের সাপ্তাহিক ছুটির দিন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

তারপরও দুর্ভাবনায় রয়েছেন রেলযাত্রীরা। সামনে চলে আসছে গত ঈদের দুর্ভোগের দৃশ্য ও নানা আতঙ্ক। টিকিট কালোবাজারি, কোচ সংকট ও ছিনতাই চক্রের উৎপাত নিয়ে দুর্ভাবনায় রয়েছেন এবারো। বিশেষ করে শিডিউল বিপর্যয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিবার-পরিজন নিয়ে স্টেশনে বসে থাকা ও ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে ট্রেনে পা ফেলার মতো অবস্থা না থাকায় যাত্রাপথ যে কী কষ্টের, সে উদ্বেগ পেয়ে বসেছে এখনই।

রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন অবশ্য নির্বিঘ্ন রেলযাত্রার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এবার বেশকিছু কোচ ঈদবহরে যুক্ত হচ্ছে। ঘরমুখো যাত্রীরা নতুন ট্রেনে চড়েই নিরাপদে ও আরামে বাড়িঘরে ফিরতে পারবেন। রেল ব্যবস্থাপনায় নতুন গতিসঞ্চার হবে। ট্রেনের শিডিউল ঠিক থাকবে। একই সঙ্গে মন্ত্রী দূরপাল্লার ট্রেনের শিডিউল জট কমানো, টিকিটপ্রত্যাশীদের দুর্ভোগ লাঘব ও কালোবাজারি শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন।

রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঈদে এবার ঢাকা থেকে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন গন্তব্যের প্রায় ৮০ হাজার টিকিট বিক্রি হবে। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ বিক্রি হবে অ্যাপের মাধ্যমে, বাকি ৫০ ভাগ টিকিট কাউন্টারে গিয়ে সংগ্রহ করতে হবে। সিলেট ও কিশোরগঞ্জগামী সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট দেওয়া হবে রাজধানীর ফুলবাড়িয়া পুরাতন রেল ভবনের কাউন্টার থেকে। যমুনা সেতু হয়ে পশ্চিমাঞ্চলগামী সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট দেওয়া হবে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টার থেকে। এছাড়া ময়মনসিংহ-জামালপুরগামী আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর টিকিট দেওয়া হবে তেজগাঁও রেলওয়ে স্টেশন থেকে। নেত্রকোনা-মোহনগঞ্জগামী আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর টিকিট দেওয়া হবে রাজধানীর বনানী রেলওয়ে স্টেশন থেকে। আর চট্টগ্রাম-নোয়াখালীগামী সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট দেওয়া হবে বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে।

২২ মে বিক্রি করা হবে ৩১ মের টিকিট; ২৩ মে বিক্রি করা হবে ১ জুনের টিকিট; ২৪ মে বিক্রি করা হবে ২ জুনের টিকিট; ২৫ মে বিক্রি করা হবে ৩ জুনের টিকিট; ২৬ মে বিক্রি করা হবে ৪ জুনের টিকিট। এদিকে ফিরতি ঈদযাত্রার জন্য ২৯ মে বিক্রি করা হবে ৭ জুনের টিকিট; ৩০ মে বিক্রি করা হবে ৮ জুনের টিকিট; ৩১ মে বিক্রি করা হবে ৯ জুনের টিকিট; ১ জুন বিক্রি করা হবে ১০ জুনের টিকিট; ২ জুন বিক্রি করা হবে ১১ জুনের টিকিট।

ঈদ স্পেশাল ৮ জোড়া বিশেষ ট্রেন : ঈদুল ফিতরের সময় দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ৮ জোড়া বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। তবে বিশেষ ট্রেনের টিকিট অ্যাপের মাধ্যমে কাটা যাবে না। ‘দেওয়ানগঞ্জ স্পেশাল (এক জোড়া) ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা রুটে চলবে। চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল (২ জোড়া) চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে চলবে। মৈত্রীর রেক দিয়ে খুলনা ঈদ স্পেশাল ট্রেন খুলনা-ঢাকা-খুলনা দিবাগত রাত (১ ট্রিপ চলবে)। ঈশ্বরদী স্পেশাল ঢাকা-ঈশ্বরদী-ঢাকা, লালমনি ঈদ স্পেশাল-ট্রেন লালমনিরহাট-ঢাকা-লালমনিরহাট রুটে চলাচল করবে। দেওয়ানগঞ্জ স্পেশাল ও চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল ট্রেন ঈদের আগে ২, ৩ ও ৪ জুন এবং ঈদের পর ৬-১২ জুন চলাচল করবে। খুলনা ঈদ স্পেশাল ৩ জুন দিবাগত রাতে একটি ট্রিপ চলবে।

ঈশ্বরদী স্পেশাল ও লালমনি ঈদ স্পেশাল ট্রেন ঈদের আগে ২, ৩ ও ৪ জুন চলবে। এছাড়া ঈদের দিন শোলাকিয়া স্পেশাল-১ (ভৈরববাজার-কিশোরগঞ্জ-ভৈরববাজার) চলবে। শোলাকিয়া স্পেশাল-২ (ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ) চলাচল করবে।

সাপ্তাহিক ছুটিতেও চলবে আন্তঃনগর ট্রেন : ঈদুল ফিতরের পাঁচ দিন আগে ৩১ মে থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত সব আন্তঃনগর ট্রেন সাপ্তাহিক বন্ধের দিনও চলাচল করবে। যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের সুবিধার্থে ঈদের ৩ দিন আগে থেকে কনটেইনার ও জ্বালানি তেলবাহী ট্রেন ছাড়া কোনো পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করবে না।

নাশকতা প্রতিরোধ : চলন্ত ট্রেন, স্টেশন বা রেললাইনে নাশকতামূলক কর্মকা- প্রতিরোধে আরএনবি, জিআরপি ও রেলওয়ের কর্মচারীদের কার্যক্রম আরো জোরদার করা হবে। পাশাপাশি র‌্যাব, স্থানীয় পুলিশ, বিজিবি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় সহযোগিতায় নাশকতামূলক কাজ শক্ত হাতে দমন করার প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

কালোবাজারি প্রতিহত করা হবে : টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধে সব বড় বড় স্টেশনে জিআরপি, আরএনবি, বিজিবি ও স্থানীয় পুলিশ এবং র‌্যাবের সহযোগিতায় সার্বক্ষণিক প্রহরার ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া জেলা প্রশাসকদের সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

পিডিএসও/হেলাল