দারিদ্র্যের হার আরো কমেছে

দেশে দরিদ্র ২১.৮, হতদরিদ্র ১১.৩ শতাংশ

প্রকাশ : ১৪ মে ২০১৯, ০৮:২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্তমানে দেশে দারিদ্র্যের হার ২১ দশমিক ৮ শতাংশ। এ ছাড়া হতদরিদ্রের হার ১১ দশমিক ৩ শতাংশ বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। ২০১৮ সালের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী বিবিএস এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

গতকাল আগারগাঁও পরিসংখ্যান ভবনে হাউসহোল্ড ইনকাম অ্যান্ড এক্সপেনডিচার সার্ভে (হায়েস) প্রকল্পের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য প্রকাশ করে বিবিএস। প্রতিবেদন প্রকাশ করেন বিবিএসের মহাপরিচালক ড. কৃষ্ণা গায়েন। এ সময় প্রকল্প পরিচালক ড. দীপংকর রায়, পরিচালক জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আশরাফুল হক উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৫ সালে যেখানে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪০ দশমিক শূন্য শতাংশ, ২০১৬ সালে তা কমে দাঁড়ায় ২৪ দশমিক ৩ শতাংশে। ২০০৫ সালে যেখানে অতি দারিদ্র্যের হার ছিল ২৫ দশমিক ১ শতাংশ সেখানে ২০১৬ সালে দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৯ শতাংশ।

সংবাদ সম্মেলনে বিবিএস মহাপরিচালক বলেন, সরকারের উন্নয়নে দেশের দারিদ্র্যের হার কমছে প্রতিনিয়ত। হিসাব অনুযায়ী ২০১৮ সালে দেশে চূড়ান্ত দারিদ্র্যের হার ২১ দশমিক ৮ শতাংশ এবং হতদরিদ্রের হার ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০০৫ সালে যেখানে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪০ শতাংশ, ২০১৬ সালে তা কমে দাঁড়ায় ২৪ দশমিক ৩ শতাংশে।

কৃষ্ণা গায়েন বলেন, ২০০৫ সালে মোট ১০ হাজার ৮০টি পরিবার, ২০১০ সালে ১২ হাজার ২৪০টি পরিবার নিয়ে জরিপ করা হয়েছিল। ২০১৬ সালে নমুনা খানার সংখ্যা বাড়িয়ে ৪৬ হাজার ৮০টি করা হয়। এ প্রকল্পের প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করা হয় ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে বিশ্ব দারিদ্র্য নিরসন দিবসে।

এদিকে, জরিপ অনুযায়ী দেশের খানাপ্রতি মাসিক আয় দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৯৮৮ টাকা। ২০১০ সালে ছিল ১১ হাজার ৪৭৯ টাকা। মাথাপিছু আয় ২০১৬ সালে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৪০ টাকা, যা ২০১০ সালে ছিল ২ হাজার ৫৫৩ টাকা। সর্বশেষ হিসেবে পরিবারভিত্তিক ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৭১৫ টাকা। ২০১০ সালে যা ছিল ১১ হাজার ২০০ টাকা। মাথাপিছু আয় ও ব্যয় বাড়লেও খাদ্য গ্রহণের প্রবণতা কমে এসেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০১০ সালে মাথাপিছু ৪১৬ গ্রাম ভাত গ্রহণ করা হলেও এর পরিমাণ নেমেছে ৩৬৭ গ্রামে। ২০১৬ সালে মাথাপিছু গম গ্রহণের প্রবণতা ১৯ দশমিক ৮৩ গ্রাম। ২০১৬ সালে এর পরিমাণ ২৬ দশমিক শূন্য ৯ গ্রাম। মাথাপিছু ক্যালরি গ্রহণের ২০১৬ সালে ২ হাজার ২১০ কিলোক্যালরিতে নেমে এসেছে। ২০১০ সালে মাথাপিছু গড়ে ২ হাজার ৩১৮ কিলোক্যালরি খাদ্য গ্রহণ করা হতো। স্বাধীনতার পর থেকে অর্থের বড় অংশ খাদ্যে ব্যয় করা হলেও এবার খাদ্যবহির্ভূত খাতে বেশি অর্থ ব্যয় হচ্ছে।

২০১৬ সালে বাংলাদেশে পরিবারগুলোর গড় অর্থ ব্যয়ের ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ ব্যয় হয়েছে খাদ্যে। এ সময়ে খাদ্যবহির্ভূত খাতে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ৩০ শতাংশে। ২০১৬ সালে খাদ্য খাতে ৫৪ দশমিক ৮ শতাংশ ও অন্য খাতে ৪৫ দশমিক ২০ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছিল।

পিডিএসও/হেলাল