ব্রুনেইয়ের ব্যবসায়ীদের প্রতি

বাংলাদেশে অংশীদারিত্ব ব্যবসা গড়তে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০১৯, ২১:৩৪ | আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৯, ২১:৪৪

অনলাইন ডেস্ক
ফাইল ছবি

প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে অভিন্ন যাত্রায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সঙ্গে একটি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার জন্য ব্রুনেইয়ের ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার ব্রুনেইয়ের রাজধানী বন্দর সেরি বেগওয়ানের এম্পায়ার হোটেল ও কান্ট্রি ক্লাবে ‘ব্রুনেই দারুস সালাম-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম’ আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশ-ব্রুনেই বিজনেস ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে অভিন্ন যাত্রায় আমাদের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সাথে একটি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার জন্য আপনাদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। বাংলাদেশে উন্নয়ন ও ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্যও আপনাদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’

এ সময় ব্রুনেইয়ের ব্যবসায়ীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তার সঙ্গে এখন অনেক ব্যবসায়ী ব্রুনেই সফর করছেন। তাদের অনেকেই এর আগে কখনো ব্রুনেই সফর করেননি।

শেখ হাসিনা বলেন, এর আগেও কয়েকবার তিনি ব্রুনেই সফর করেছেন। সে সময় থেকে তার কাছে মনে হয়েছে ব্রুনেই একটি সুন্দর দেশ। দেশটি খুবই সুন্দর। একটি শান্তির দেশ। দেশটির জনগনও খুব ভাল। এ কারণে আমি আমার দেশের ব্যবসায়ীদেরকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছি। তারা এখানে এসেছে, দেশটি দেখবে এবং নতুন নতুন ব্যবসা খুঁজে বের করবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যয়, মানবসম্পদ, অভ্যন্তরীণ বাজারের আকার, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার, বাণিজ্য সুবিধা, বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং সামাজিক-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক স্থান হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে উদার বৈদেশিক বিনিয়োগ সুবিধাগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এসব সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে আইন দ্বারা বিদেশি বিনিয়োগের সুরক্ষা, উদার কর নীতি এবং যন্ত্রপাতি আমদানির ওপর সুবিধাজনক শুল্ক ব্যবস্থা।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ১০০% বৈদেশিক ইক্যুইটি, অবাধ প্রস্থান, লভ্যাংশ ও মূলধন পূর্ণ প্রত্যর্পণ সুবিধা প্রদান করে। তিনি বলেন, ‘আমরা ইইউ, কানাডা ও জাপানসহ অধিকাংশ বিশ্ব বাজারে অগ্রাধিকার প্রবেশ সুবিধা ভোগ করি।’

তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিায়ায় বাংলাদেশ এখন দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি এবং জিডিপির পরিপ্রেক্ষিতে অবস্থান বিশ্বে ৪১ তম। তিনি বলেন, আমাদের অর্থনীতি একটি সুদৃঢ় সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, গতিশীল বেসরকারি খাত এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান প্রবণতা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিচক্ষণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, বেসরকারি খাতে উদ্যোক্তা সহায়ক অব্যাহত নীতিমালা, এবং অবকাঠামো ও মানব উন্নয়নে জোরালো বিনিয়োগ বাংলাদেশের অর্থনীতির সাম্প্রতিক উল্লেখযোগ্য সাফল্যের ক্ষেত্রে ব্যাপক অবদান রেখেছে।

তিনি বলেন, গত বছর ৭.৮৬% জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের পরে চলতি বছর আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৮.১৩% হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আমাদের মাথাপিছু আয় এ বছর ১,৯০৯ মার্কিন ডলার হবে যা মধ্যম আয়ের দেশের আয়ের কাছাকাছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিল্প খাতের দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে বাংলাদেশ কেবলমাত্র পাঁচ বছরে বার্ষিক রপ্তানি আয় দ্বিগুণ করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে, কৃষি ও সেবা খাতে ক্রমাগত প্রবৃদ্ধি অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীলতা ও স্থিতিস্থাপকতা দিয়েছে।

বেসরকারি খাতকে বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসাবে বর্ণনা করে শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার দেশি ও বিদেশি উদ্যোক্তা ও বেসরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন,  আমরা সারা দেশ জুড়ে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছি এবং আইটি খাতের উন্নয়নে কয়েকটি শিল্প পার্ক স্থাপন করছি। গার্মেন্টস খাতে বাংলাদেশের সাফল্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত। তিনি বলেন, ‘চীনের পর, আমরা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রেডিমেড গার্মেন্টস রপ্তানিকারক দেশ।

শেখ হাসিনা বলেন, মানসম্মত ওষুধের জন্য একটি বড় বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশ দ্রুত গড়ে উঠছে। তিনি বলেন, ‘আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া এবং আফ্রিকা সহ ১০০ টিরও বেশি দেশে ওষুধ রপ্তানি করছি’।

তিনি আরও বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়া এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ একটি দেশ গড়ার লক্ষ্যে আমরা সুস্পষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি।

অনুষ্ঠনে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, ব্রুনেইয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এয়ার ভাইস মাশার্ল (অব.) মাহমুদ হুসাইন এবং এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়ী পর্যায়ে তিনটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তি গুলো হচ্ছে, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই) এবং ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ব্রুনেই দারুসসালাম (এনসিসিআইবিডি) এর মধ্যে সহযোগিতা, ব্রুনেইয়ের ডাইমেনশন স্ট্রাটা সেন্ডিরিয়াম বারহেড, বাংলাদেশের গ্রীণ পাওয়ার লিমিটেড ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওলোজি বিভাগের মধ্যে পেট্রোলিয়াম জিয়োসায়েন্সে পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষন প্রদানে যৌথ সহযোগিতা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর।

অপর চুক্তিটি হচ্ছে, ব্রুনেইয়ের ঘানিম ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন এবং বাংলাদেশের নিজাম গ্রুপ অব কোম্পানির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক। তথ্যসূত্র: বাসস

পিডিএসও/তাজ