নির্বাচনী আইন বাংলায় হচ্ছে

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ০৯:৩৬ | আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ১২:১২

গাজী শাহনেওয়াজ

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে জাতীয় এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনার মূল আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২। এ আইনকে সবাই ‘আরপিও’ হিসেবে চেনে। আইনটি ইংরেজিতে। এ কারণে এই আইনের বাধা-নিষেধ না বুঝে অনেকেই সমস্যায় পড়েন। শাস্তি পান। এই অসুবিধা দূর করার জন্য এবং আইনটি যাতে একজন স্বল্পশিক্ষিত ব্যক্তিও সহজে বুঝতে পারেন সেজন্য আইনটি বাংলায় করা হচ্ছে। এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ইসির পক্ষ থেকে।

জানা গেছে, সাধারণ নাগরিকের কাছে আরপিও সহজবোধ্য করতে এটিকে ইংরেজির পাশাপাশি বাংলায় রূপান্তর করতে যাচ্ছে ইসি। এ লক্ষ্যে এরই মধ্যে একটি সভায় মিলিত হয়েছে কমিশন। তবে শিগগিরই আরপিও বাংলা ভাষায় করতে পরবর্তী বৈঠকে বসতে যাচ্ছে ইসি। এ সভায় বাংলায় রূপান্তির আরপিও উপস্থাপন করা হবে এবং খতিয়ে দেখা হবে ইংরেজির সঙ্গে কোথাও সাংঘর্ষিক কিছু সংযোজন আছে কি না। বাংলায় প্রণীত আরপিওতে ১১৭টি ধারার অধীনে অনেক উপধারা সংযোজন করা হয়েছে। এটি বাংলায় হলে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজেই আরপিওটি পড়ে জানতে পারবেন তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি পারবেন না। একই সঙ্গে পরে আরপিও বাংলায় রূপ পেলে যাতে পরবর্তী কোনো কমিশন এসে পুরনো ধারায় ফিরিয়ে নিতে না পারে সেজন্য আইন করে এটাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সচেষ্ট রয়েছেন কে এম নুরুল হুদার কমিশন।

জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিব মো. হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, আরপিওটি বাংলায় করতে এ সংক্রান্ত করণীয় এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। কমিশনসহ অন্যরা বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আইনি ভিত্তি দিয়ে এটাকে বাংলায় করা হবে না কি কেবলমাত্র ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা করে আরপিওকে পুস্তিকারে ব্যবহার হবে সে সিদ্ধান্ত পরে নেওয়া হবে। বাংলায় তৈরি আরপিওর খসড়া পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আরপিওর ১৩(৪) এ বলা আছে, ‘ক্ষুদ্র কৃষি ঋণ’; অর্থ চা বা তামাক ব্যতিত ফসল ঋণ, এবং ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে মৎস্য সম্পদ উন্নয়ন ও কৃষিজাতপণ্যের বাজারজাতকরণ সম্পর্কিত স্বল্পমেয়াদি ঋণ এবং সেচ যন্ত্রপাতি, পশু পালন, মৎস্য সম্পদ উন্নয়ন, কৃষি যন্ত্রপাতি, নার্সারি ও উদ্যানভিত্তিক ফসল, পান বরজ, জলমহাল ব্যবস্থাপনা এবং রেশমগুটি উৎপাদন, তুঁতগাছ, লাক্ষা গাছ, ইত্যাদি উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রদত্ত দীর্ঘমেয়াদি ঋণ যাহার পরিমাণ প্রতিটি ঋণের বিপরীতে সুদ আসলে ১০ লাখ টাকার বেশি হবে না। এটি ইংরেজিতে থাকার কারণের ক্ষুদ্র ঋণ থাকার কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নির্বাচনে প্রার্থিতায় যোগ্য না অযোগ্য এর জন্য আইনজীবী কিংবা ইসির কর্মকর্তাদের কাছে গিয়ে এ সম্পর্কে সম্যক ধারণা নেন। এর জন্য ক্ষেত্র বিশেষে ফি দিতে হয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির। আইনটি বাংলায় হলে এ সমস্যা থাকবে না।

জানিপপের চেয়ারম্যান ড. নাজমূল আহসান কলিমউল্লাহ এ ব্যাপারে বলেন, ইসি যে উদ্যোগ নিয়েছেন সেটা বাস্তবায়ন করে যেতে পারলে দেশজাতির জন্য কল্যাণকর হবে। সাধারণ মানুষ বেশি উপকৃত হবেন।

উল্লেখ্য, বিগত ড. শামসুল হুদার কমিশন নির্বাচনী আইনে ব্যাপক সংস্কার এনেছিল। সুশীল সমাজসহ বিভিন্ন প্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে সংলাপও করেছিলেন। তবে সে সময় আরপিও আর বাংলা ভাষায় করা হয়নি। এখন কে এম নুরুল হুদা কমিশন আরপিও বাংলা ভাষায় করার জন্য নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছে।

পিডিএসও/হেলাল