প্রতিটি ইউনিয়নে গ্রাম আদালত কার্যকর করা হবে : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০১৯, ১৬:৩৯

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রতিশ্রুতি 'গ্রাম হবে শহর' বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে গ্রাম আদালত কার্যকর করা হবে। আদালতে যেয়ে বিচার পাওয়ার চেয়ে অনেক ক্ষেত্রে গ্রাম আদালতে গেলে সহজে সমাধান হয় এবং খরচও কম হয়। স্থানীয়ভাবে সহজে, কম খরচে, দ্রুত এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিরোধ নিস্পত্তি করতে গ্রাম আদালতের ভূমিকা প্রশংসনীয়।

বুধবার সকালে রাজধানীর ইস্কাটনের বিয়াম ফাউন্ডেশনে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্পের পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যত করণীয় বিষয়ক কর্মশালা’য় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। 

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব এস এম গোলাম ফারুক, ইউএনডিপি বাংলাদেশ-এর ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জী এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডেলিগেশন টু বাংলাদেশ-এর টিম লিডার অড্রে মেলট।

কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্পের জাতীয় প্রকল্প পরিচালক ড. কাজী আনোয়ারুল হক। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্পের জাতীয় প্রকল্প সমন্বয়ক সরদার এম আসাদুজ্জামান প্রমুখ। কর্মশালায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি, ইউএনডিপির প্রতিনিধি, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, প্রকল্পভুক্ত জেলার সংশ্লিষ্ট উপপরিচালকগণ, সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা সমন্বয়কারী, প্রকল্প অফিসের কর্মকর্তা, সহযোগী বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিসহ প্রায় ১৫০ জন উপস্থিত ছিলেন।

তাজুল ইসলাম বলেন, দেশের ৬৪ জেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে ২০ হাজারের বেশি লোকের বসবাস। জনসংখ্যা যেমন বেশি, তেমনি সমস্যাও বেশি। আর দেশের প্রচলিত বিচার ব্যবস্থা জনগণের সংখ্যার তুলনায় অপর্যাপ্ত। এ শূন্যতা পূরণে গ্রামে ছোটখাট বিরোধগুলো মিটিয়ে ফেলতে গ্রাম আদালত কার্যকরী ভূমিকা রাখছে।

মন্ত্রী বলেন, গ্রামের মানুষকে বঞ্চিত করে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। সেজন্য গত নির্বাচনের আগেই বর্তমান সরকার তাদের ইশতেহারে শহরের বিভিন্ন নাগরিক সুযোগ-সুবিধা গ্রামে পৌঁছে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ১১২ টি সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও সকল ইউনিয়ন পরিষদ যথাযথভাবে তা দিতে সক্ষম নয়। এজন্য ইউনিয়ন পরিষদকেও শক্তিশালী করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত বিশ হাজার লোক বাস করে। তাদেরকে যথাযথ সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে রাজস্ব আদায় করতে পারলে স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং তাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতাও বাড়বে। ফলশ্রুতিতে স্থানীয় সরকার শক্তিশালী হবে। 

উল্লেখ্য, প্রকল্প এলাকার অর্ন্তভুক্ত ২৭টি জেলার ১২৮টি উপজেলার ১,০৮০টি ইউনিয়নে প্রকল্পের চলমান কার্যক্রমে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ সংশ্লিষ্ট উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং উপ-পরিচালক, স্থানীয় সরকারগণের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে গ্রাম আদালত কার্যকরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

পিডিএসও/রি.মা