স্বপ্নের পূর্বাচলে বিশাল কর্মযজ্ঞ

প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০১৯, ০৯:২৪

হাসান ইমন

ঢাকার কাছে আরেক ঢাকা। তবে এই ঢাকায় থাকবে না যানজট, ঘিঞ্জি গলি আর বসবাসের অনুপযোগী কোনো কাঠামো। সুশৃঙ্খল, ছিমছাম পরিবেশ, দুই পাশে লেক, নির্মল বায়ু সব মিলিয়ে মানুষের বসবাস উপযোগী আধুনিক শহর। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল উপশহরেই হচ্ছে এ ‘স্বপ্নপল্লী’।

এ প্রকল্পের ভূমি উন্নয়ন কাজ প্রায় ৮৫ দশমিক ৫ (৫,৩০০ একর) এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ (৯২৭ একর) কাজও আসছে জুনে শেষ হবে। এছাড়া প্রকল্পের ২৫ হাজার আবাসিক প্লটের মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার প্লটও হস্তান্তর করা হয়েছে। কেউ কেউ নকশা অনুমোদন নিয়ে বাড়ি নির্মালের কাজও শুরু করে দিয়েছেন। সব মিলিয়ে বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে এ স্বপ্নের পূর্বাচলে।

রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি সরবারহসহ সব ইউটিলিটি সুবিধা চালু হলেই লোকজন বসবাস করতে পারবেন। এরই মধ্যে বিভিন্ন অবকাঠামো স্থাপনের কাজও প্রায় শেষ। প্রকল্পের কাজ ২০২১ সালের মধ্যে শেষ হবে।

সম্প্রতি পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রকল্পের অগ্রগতির খোঁজ খবর নেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। মন্ত্রী এবং রাজউক চেয়ারম্যান আবদুর রহমান দুজনেই ঘোষণা দেন ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পূর্বাচলে অল্প পরিসরে বসবাস নিশ্চিত করা যাবে। সেই সঙ্গে ২০২১ সালের মধ্যে পুরোপুরি কাজ শেষ হবে এবং পরিপূর্ণভাবে বসবাসের উপযোগী হবে আধুনিক শহর হবে পূর্বাচল। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাজউক ‘পূর্বাচল উপশহর’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ঢাকা শহরের পার্শ্ববর্তী এলাকায় সব ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ স্বয়ংসম্পূর্ণ নতুন টাউনশিপ গড়ে তুলে ঢাকার ওপর আবাসন চাপ কমানোই এ প্রকল্পের লক্ষ্য। প্রকল্পের আওতায় ৬ হাজার ২৭৭ দশমিক ৩৬ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ অংশে রয়েছে ৪ হাজার ৫৭৭ দশমিক ৩৬ একর এবং গাজীপুর অংশে ১ হাজার ৫০০ একর জমি; যা ৩০টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। বাকি ১৫০ একর জমি ঢাকা জেলার খিলক্ষেত থানায় কুড়িল ফ্লাইওভার এবং লিংক রোড নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে। প্রকল্পটিতে বিভিন্ন আকারের মোট ২৭ হাজার ১৭১টি প্লট এবং ৬২ হাজার অ্যাপার্টমেন্টের সুযোগ রয়েছে।

পূর্বাচল উপশহর প্রকল্পে থাকছে ৪৩ কিলোমিটার লেক, যা আবাসিক এলাকার সর্ববৃহৎ লেক। এছাড়া থাকছে ৬২টি ব্রিজ ও কালভার্ট। অভ্যন্তরীণ রাস্তা থাকছে ৩১৯ কিলোমিটার। প্রকল্পের ভূমি উন্নয়ন কাজের আগে ব্যয় ছিল ২৮৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। নতুন করে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ১৯৯৫ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ধরা হয়। যা পরবর্তী সময়ে সংশোধন করে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত বর্ধিত করা হয় এবং এখন এই সময় আরো দুই বছর বৃদ্ধি করে ২০২০ সালের জুন মাস পর্যন্ত করার প্রস্তাব করছে রাজউক।

এখন পর্যন্ত প্রকল্পের ভূমি উন্নয়নে ৮৫ দশমিক ৫ শতাংশের কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্পের অবশিষ্ট ১৪ দশমিক ৫ ভাগ কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। এছাড়াও প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির মধ্যে রয়েছে কুড়িল ফ্লাইওভার নির্মাণ। ২০০৪ সালে ফ্লাইওভারটি উদ্বোধনের পর যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ায় যানজট কিছুটা নিরসন হয়েছে। প্রকল্পের ৩১৯ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে ২০০ কিলোমিটার নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্পের ৬৫টি ব্রিজের মধ্যে ৩৬টি নির্মিত হয়েছে। ২৪টির কাজ চলমান রয়েছে এবং বাকি পাঁচটি বিষয়ে কার্যাদেশ করা হয়েছে। প্রকল্পের লেক ও খাল এবং নদীর তীরের ৪৮ দশমিক ২০ কিলোমিটার উন্নয়ন ও প্রোটেকশন কাজের ১১ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্পের ২৫ হাজার ১৬টি আবাসিক প্লটের মধ্যে ১৫ হাজার প্লট এরই মধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে। এসব প্লটে ২০০ ইমারতের নকশা অনুমোদন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পূর্বাচল উপশহর প্রকল্পের (রাজউক) পরিচালক ও প্রধান প্রকৌশলী উজ্জ্বল মল্লিক বলেন, প্রকল্পের ভূমি উন্নয়ন কাজ প্রায় ৮৫ দশমিক ৫ (৫,৩০০ একর) শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ (৯২৭ একর) ভূমি উন্নয়ন কাজ পর্যায়ক্রমে চলতি বছরের জুনে শেষ হবে। এছাড়া প্রকল্পের ২৫ হাজার আবাসিক প্লটের মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার প্লট হস্তান্তর করা হয়েছে। প্লট পেয়ে অনেকে বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন।

পিডিএসও/হেলাল