বঙ্গবন্ধুর জাতীয় ঐক্যের ডাক আজও প্রাসঙ্গিক : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০১৯, ২১:০৮ | আপডেট : ১৮ মার্চ ২০১৯, ২১:২০

অনলাইন ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্যাতিত ও নিপীড়িত বাঙালির মনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি করেছিলেন। বাঙালি নির্যাতন আর নিপীড়ন সইতে সইতে তারা ভুলেই গিয়েছিল তাদের অধিকারের কথা। বঙ্গবন্ধু তাদের অধিকার নিয়ে কথা বলেছেন। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি আন্দোলনের জন্য জেলে গেছেন। তিনি নির্যাতিত বাঙালির মনে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি করেছিলেন। যার ফলশ্রুতিতে আমরা একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছি।

সোমবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুকন্যা এসব কথা বলেন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) এই আলোচনা সভার আয়োজন করে আওয়ামী লীগ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীনের পর দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধু যে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন তা আজকের দিনেও প্রাসঙ্গিক। বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলছিলেন তখনো বারবার একের পর এক ষড়যন্ত্র হয়েছে। তখন দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য জাতীয় ঐক্যের যে ডাক দিয়েছিলেন তা আজকের দিনেও প্রাসঙ্গিক।

যুদ্ধাপরাধী, দুর্নীতিবাজ কিংবা অস্ত্র পাচারকারীরা যাতে আর কোনো দিন রাষ্ট্র ক্ষমতায় না আসতে পারে সেজন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখেই বাংলাদেশকে উন্নত দেশের কাতারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার এগোচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০২০ সালে জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে এখনই প্রস্তুতি নিতে নেতাকর্মীদের দিক নির্দেশনা দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

শেখ হাসিনা বলেন, একটি পরিকল্পিত দেশ গঠনে বঙ্গবন্ধু সব ব্যবস্থা করে রেখে গিয়েছিলেন। তবে সেনা আইন ভঙ্গ করে সংবিধান লঙ্ঘন করে জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করে ভোটের রাজনীতি বন্ধ করে দেন। জিয়া মানুষের ভোটাধিকার ধ্বংস করেছেন।পরর্বতী সময়ে জামায়াতকে নিজ দলে যুক্ত করার সমালোচনা করে, আর যাতে কোনো যুদ্ধাপরাধী, দুর্নীতিবাজ রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসতে না পারেন সেজন্য সতর্ক থাকতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অজপাড়াগাঁয়ের সেই ছোট্ট শিশুটির নাম এখন বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। তিনি একটি জাতিকে মুক্তি দিয়েছিলেন। যে বাংলাদেশের মানুষ একবেলা খাদ্য জোগাড় করতে পারত না; উল্টো নির্যাতিত হতো। এ নিয়ে তাদের কোনো অভিযোগও ছিল না। তাদের মনে ছিল এটাই বোধহয় আল্লাহর বিধান। জাতির পিতা সেই মানুষগুলোর মধ্যে ধীরে ধীরে সাহস দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মতো একটি যুদ্ধ করার মানসিকতা তৈরি করে দিয়েছিলেন। শোষণ বঞ্চনা থেকে জাতিকে মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছেন।

তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনেও তার অনেক অবদান। কিন্তু এটা অনেকেই স্বীকার করেননি। ৪৮ (১৯৪৮) সালে ভাষার জন্য আন্দোলন করতে গিয়েই বারবার গ্রেফতার হয়েছেন তিনি, জেলে গেছেন। ৪৯ সালে গ্রেফতার হন। ৫২ সালে গুলি চললো, ভাষাশহীদরা প্রাণ দিলেন। অনেকেই এ আন্দোলনকে সেখানেই থামিয়ে দেয়। কিন্তু জেল থেকে বের হয়ে জাতির পিতা সেই আন্দোলন আবারও চালাতে থাকেন। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য আন্দোলন চালিয়েছিলেন। কিন্তু ইতিহাস থেকে এসব তথ্য মুছে গিয়েছিল।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, পাকিস্তানি গোয়েন্দারা ওই সময় তার (বঙ্গবন্ধু) বিরুদ্ধে যেসব তথ্য সংগ্রহ করেছিল-১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর সেগুলো সংগ্রহ করি। সেখান থেকেই এসব জেনেছি। আমরা সেসব রিপোর্ট থেকে এরই মধ্যে প্রকাশ করতে শুরু করেছি।

পিডিএসও/তাজ