উপজেলা নির্বাচন

রাত পোহালেই দ্বিতীয় ধাপের ভোট : সব প্রস্তুতি সম্পন্ন

প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০১৯, ১২:৫৩

গাজী শাহনেওয়াজ

রাত পোহালেই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিধীয় ধাপের ভোটগ্রহণ। এ ভোট সুষ্ঠুভাবে করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই ধাপে ১১৭ উপজেলায় ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে গত ১০ মার্চ কঠোর নিরাপত্তায় প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপেও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ হবে বলে জানিয়েছে ইসি।

গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট সম্পন্ন হয়। এ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ নিয়ে এন্তার রয়েছে অভিযোগ। কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।

তাই নানা অভিযোগ ও নিরপেক্ষতায় কমিশন বরাবরই সতর্ক—এটাকে প্রমাণে উপজেলা নির্বাচন চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেয়। কারণ প্রথম ধাপের ভোটে সহিংসতা, কেন্দ্র দখল কিংবা আগের রাতে ব্যালটে সিলমারার ঘটনা ঘটেনি। এতে অনেকটা নির্ভার ইসি। আগামীকাল দ্বিতীয় ধাপের অনুষ্ঠেয় ভোটে সে ধারাবাহিতকা সমুন্নত রাখতে তৎপর কমিশন।

তবে উপজেলা নির্বাচনে সরকারদলীয় প্রার্থীর চেয়ে অতি-উৎসাহী হয়ে উঠেছেন এমপিরা। আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পাওয়া নৌকার প্রার্থীর চেয়ে নিজ পছন্দের বিদ্রোহীকে নিয়ে বেশি ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন অনেক ভিআইপি। ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রশাসনকে চাপ দেওয়া এবং নিজ ঘরানার কর্মী-সমর্থককে কাজে লাগিয়ে শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থীকে অনেকটা কোণঠাসা অবস্থায় রেখেছে অনেক এলাকার দলীয় মন্ত্রী-এমপিরা। নিজেই লঙ্ঘন করছেন আচরণবিধি।

কিন্তু নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতার জায়গাতে অনড় রয়েছে। কঠোরতার অংশ হিসেবে মন্ত্রী-এমপি ভিআইপি কাউকে নিরপেক্ষতার জায়গাতে ছাড় দিচ্ছে না ইসি। এরই অংশ হিসেবে অনেক এমপিকে এলাকা ত্যাগে চিঠি দিয়েছে। এমনিই একজন কক্সবাজার-৩ নির্বাচনী এলাকার এমপি সাইমুম সরওয়ার কমল। গতকাল শনিবার নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় শাখার উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়েছে, সাইমুম সরওয়ার কমল আপনার বিরুদ্ধে জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকা কক্সাবাজার-৩ রামু উপজেলায় একজন প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের অভিযোগ পাওয়া যায়। এ অবস্থায় ১৭ মার্চ বিকেল ৫টার মধ্যে নির্বাচনী এলাকা ত্যাগ করার জন্য নির্বাচন কমিশন নির্দেশনা প্রদান করেছে। একই ধরনের চিঠি দেওয়া হয়েছে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়াকে। এর আগে সংসদ সদস্যরা যাতে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলেন, তার জন্য জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে চিঠিও দিয়েছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা।

এদিকে, সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা বিএনপি উপজেলা নির্বাচন বর্জন করেছে। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে যারা প্রার্থী হয়েছেন তাদের বহিষ্কার করছে দলটি। ফলে এবারের ৫ ধাপে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠানে ইসির নেওয়া সিদ্ধান্তে ভোটের আমেজে অনেকটা খেই হারিয়েছে। নিরুত্তাপ নির্বাচন এখন আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ প্রার্থীই। প্রথম ধাপে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৪৩ দশমিক ৩২ শতাংশ, যা স্থানীয় নির্বাচনের হিসাবে তুলনামূলক কম। এবার নির্বাচনের প্রচারণাসহ নানা কার্যক্রম হাতে নেওয়ায় আশা করা হচ্ছে, সাধারণ ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

এ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ করতে শনিবার সকাল থেকে মাঠে নেমেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ভোটের আগে দুই দিন ও পরে এক দিনসহ মোট চার দিন নির্বাচনের কাজে যুক্ত থাকবেন। মাঠে মোতায়েন আছে ১১৭ জন ম্যাজিস্ট্রেট, যারা আচরণবিধি ভঙ্গ ও গুরুতর অনিয়মে সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে অপরাধীকে শাস্তি দেবেন।

এ ছাড়া দ্বিতীয় ধাপে ২৩ জন চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান সাধারণ ১২ জন ও সংরক্ষিত ১১ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। আজ ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনী মালামাল পাঠানো হবে। ভোট উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ দিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে। নির্বাচনকে সুষ্ঠু-শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে ইসি। রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের দেওয়া হয়েছে কঠোর নির্দেশনা। ভোটে অনিয়ম হলে সে দায় রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারকে নিতে হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছে কমিশন। নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, নির্বাচনে অনিয়ম কঠোরভাবে দমন করা হবে। শান্তিপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠানে যা যা করণীয় সবই করা হবে; যার বার্তা নির্বাচনের কাজে যুক্ত সবাইকে দেওয়া হয়েছে।

গত শনিবার মধ্যরাতে শেষ হয়েছে প্রচার। এখন প্রার্থীরা ব্যস্ত ভোটের হিসাব-কিতাবে। ফল কী হবে, তা নিয়েই রোববার গভীর রাত পর্যন্ত কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি ঘরোয়া প্রচারে সময় পার করবেন প্রার্থীরা।

এদিকে, নিউজিল্যান্ডে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার প্রভাব পড়েছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে। নির্বাচনে সব ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গত ১৫-১৭ মার্চ ছুটির কারণে পর্যটন এলাকা বিশেষ করে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, সিলেট ও মৌলভীবাজার দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটবে। ভোট উপলক্ষে এসব এলাকায় গমনেচ্ছুকদের নিরুৎসাহিত করার লক্ষ্যে স্থানীয় পর্যায়ের পর্যটক সংস্থা, হোটেল, রেস্টহাউস ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার জন্য কমিশন থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রোববার মধ্যরাত ১২টা থেকে ১৮ মার্চ মধ্যরাত পর্যন্ত যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে কমিশন।

পিডিএসও/হেলাল