হ্যাপি ভ্যালেন্টাইনস ডে

মহামিলনের মহাকাব্য

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৮:০৫

মনসুর হেলাল
ama ami

আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। ভ্যালেন্টাইনস ডে। পৃথিবীর সুন্দরতম একটি দিন। যার অপেক্ষায় দীর্ঘ প্রহর গুণে প্রেমিক-প্রেমিকারা। ‘ভালোবাসা’ জীবনের সুন্দরতম এই উচ্চারণের শুদ্ধতম প্রকাশ ঘটে ওই দিন, বিশ্বব্যাপী প্রেমিক-প্রেমিকাদের কাক্সিক্ষত সাহচর্যে। অথচ এ প্রেমের কারণে রাজ্যহারা হয়েছেন কেউ কেউ। ত্যাগ করেছেন রাজসিংহাসন। মর্মর পাথরে গড়েছেন প্রেমের সৌধ—তাজমহল। আবার কেউ কেউ নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন অন্তহীন প্রাণের আবেগে।

ইতিহাসে আধ্যাত্মিক বা রহস্যময় যতজন সেন্ট ভ্যালেন্টাইন সম্পর্কে জানা গেছে, তাদের মধ্যে আলেকজান্দ্রিয়ার সাধক ভ্যালেন্টাইন (১০০-১৫০) ইতিহাসে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ। তিনি ছিলেন রহস্যময় শিক্ষক ও ১৪৩ সালে ‘বিশপ অব রোম’ পদের একজন শক্তিশালী প্রার্থী। তার ভালোবাসার ভার্সনে বিয়ে প্রাধান্য পেয়েছে। খ্রিস্টধর্মের মৌল চেতনায় কঠোর তপস্যা ও কৌমার্যব্রত পালনকে তিনি সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি। পরকালে দায়মুক্তির কনসেপ্টের চেয়ে বাসরঘরই তার কাছে শ্রেয় ছিল।

জার্মান পণ্ডিত গুয়েবার স্ক্যান্ডেনেভিয়ান অঞ্চলের দেবতা ভ্যালির সম্পর্কে লিখেছেন—‘ভ্যালি হচ্ছেন চিরন্তন আলোর উৎস’। যেমন করে ডিভার হচ্ছে, এমন বস্তু যাকে কোনো দিনও ধ্বংস করা যাবে না।

আলোকরশ্মিকে যেমন তীর হিসেবে বর্ণনা করা, তেমনই দেবতা ভ্যালিও সব সময় তীরের প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন। এ কারণে নরওয়েবাসী ফেব্রুয়ারি মাসের ক্যালেন্ডারটিতে ধনুকের চিহ্ন রাখবেই। আর এটির নাম ‘লিয়া-বেরি’ মানে আলো আনয়নকারী। পোপ ৪৯৬ সালে ঘোষণা দেন ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইনস ডে পালিত হবে। সেই থেকে ভ্যালেন্টাইনস ডে। অর্থাৎ ভালোবাসা দিবসের শুরু।

বলা হয়, তিনজন খ্রিস্টান শহীদ ভ্যালেন্টাইনের নামে দিবসটি পালন শুরু হয়। তবে তাদের মধ্যে কে প্রকৃত ভ্যালেন্টাইন ছিলেন এ নিয়ে রয়েছে বিতর্ক।

উপাখ্যান-২

রোমান সম্রাট ক্লডিয়াসের সময়কালের যুবকরা কেউ সেনা দলে যোগ দিতে রাজি ছিল না। সম্রাট ভাবলেন দেশের যুবকরা যেন প্রেম-ভালোবাসায় জড়িয়ে না পড়ে কিংবা বিয়ে করতে না পারে। তাহলে তারা অবশ্যই সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে অনীহা প্রকাশ করবে না। ঘোষণা করলেন রাজ ফরমান—‘আজ থেকে যুবকদের বিয়ে নিষিদ্ধ’। তার এই ফরমানে দেশের তরুণ-তরুণীরা ক্ষেপে গেলেন। সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নামের এক ধর্মযাজকও সম্রাটের এই আইন মেনে নিতে পারেননি। তিনি সম্রাটের আইন অমান্য করে তিনি গোপনে প্রেমিক-প্রেমিকাদের বিয়ের ব্যবস্থা করতে লাগলেন। এতে সম্রাট ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন। ভ্যালেন্টাইনকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল ২৬৯ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি।

উপাখ্যান-২

৮২৭ খ্রিস্টাব্দে ভ্যালেন্টাইন নামের এক ব্যক্তি রোমের পোপ নির্বাচিত হয়েছিল। তিনি তার চারিত্রিক মাধুর্য এবং সুন্দর ব্যবহার দিয়ে অল্পদিনের মধ্যেই রোমবাসীর মন জয় করে নিয়েছিলেন। কিন্তু মাত্র ৪০ দিন দায়িত্ব পালনের পরই তার জীবনাবসান ঘটে। প্রিয় পোপের মৃত্যুর পর তার স্মরণে ১৪ ফেব্রুয়ারি রোমবাসী এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। অনেকের মতে, এভাবেই ভ্যালেন্টাইনস ডের সূচনা।

উপাখ্যান-৩

ইতালির রোম শহরে ভ্যালেন্টিনা নামে এক সুদর্শন যুবক বাস করতেন। খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে তিনি রোমানদের দেব-দেবীর পূজা-অর্চনা ত্যাগ করেন। ভ্যালেন্টিনার দেখাদেখি তার অনেক বন্ধুবান্ধবও পূজা-অর্চনা ছেড়ে দেন। ফলে রোমান সম্রাট ক্ষিপ্ত হয়ে ভ্যালেন্টিনাকে কারাগারে নিক্ষেপ করেন। ভ্যালেন্টিনার বন্ধু-বান্ধবরা তাকে কারাগারে চিঠিপত্র দিয়ে সাহস জোগাতেন। শেষ পর্যন্ত ভ্যালেন্টিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টিনার মৃত্যু দিন। প্রতি বছর এই দিনে তার বন্ধু-বান্ধবরা তাকে স্মরণ করতেন।

পিডিএসও/হেলাল