বদলাচ্ছে ২৭২ বছরের পুরনো নিয়ম

কারাবন্দিরা পাবেন উন্নত খাবার

প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৮:০০

শাহ্জাহান সাজু
ama ami

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে অবশেষে কারাবন্দিদের খাবারের তালিকা পরিবর্তন হতে যাচ্ছে। ফলে ২৭২ বছরের পুরাতন নিয়ম ভেঙে কারাবন্দিদের উন্নতমানের খাবার দেওয়া হবে। কারাবন্দিদের প্রতিদিনের আটার রুটি আর আখের গুড়ের পরিবর্তে সপ্তাহে দুইদিন খিচুরি, একদিন হালুয়া রুটি ও চারদিন সবজি রুটি পরিবেশন করা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে পাঠানো এ সংক্রান্ত একটি চিঠি অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলেই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ব্রিটিশ আমলে ডায়েট স্কেল অনুযায়ী এতদিন করাবন্দিদের যে খাবার পরিবেশন করা হতো তা নিয়ে কারাবন্দিদের মধ্যে দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ ছিল। তাদের খাবার তালিকা বিশেষ করে সকালে যে নাস্তা ছিল তা ছিল খুবই নিম্নমানের। নাস্তার তালিকায় ছিল আটার রুটি আর আখের গুড়। যা কারাবন্দিরা খেতে চাইতেন না। এ অবস্থায় রংপুর জেলা প্রশাসক ২০১৮ সালের ২৯ মার্চ রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শনে গেলে কারাবন্দিরা তাদের দাবির কথা তুলে ধরেন। এ সময় তারা সকালের নাস্তায় রুটি, হালুয়া, খিচুরি ও সবজি দেওয়ার দাবি জানায়।

এ বিষয়ে কারা অধিদফতরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক সিদ্ধান্তটি ছিল সময়ের দাবি। কারণ বিভিন্ন কারণেই কারাবন্দিরা সকালের নাস্তায় রুটি-গুড় খেতে পছন্দ করেন না। প্রধানমন্ত্রীর যুগান্তরকারী এ ঘোষণা কার্যকর হলে কয়েকশ বছরের পুরাতন নিয়ম ভেঙে কারাবন্দিরা কারাগারে মানবিক সুবিধা পাবেন বলে জানান তিনি।

সূত্র জানায়, অনেক বন্দি পিসির মাধ্যমে বাড়ি থেকে টাকা এনে কারাগার কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ক্যান্টিন থেকে উন্নত মানের নাস্তা খাওয়ার সুযোগ নিচ্ছেন। কিন্তু এ সুযোগ সবার নেই আর সে সক্ষমতাও নেই। প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে সব কারাগারে একযোগে সকালের নাস্তার মেনু পরিবর্তন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

জানা যায়, রংপুর জেলা প্রশাসক তার পাক্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনে বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পরে বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি তাতে সম্মতি দেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেন। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাটি কারা অধিদফতরকে অবহিত করা হয়।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় কারাবন্দিদের প্রতিদিনের আটার রুটি আর গুড়ের পরিবর্তে সপ্তাহে ২ দিন খিচুরি, একদিন হালুয়া রুটি ও চারদিন সবজি রুটি প্রদান এবং ‘৪৮৯১ খোরাকি ব্যয়’ খাতে ২০ কোটি ৪০ লাখ ৮০ হাজার ৭৭৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়ার জন্য কারা মহাপরিদর্শক ২০১৮ সালের ৩০ মার্চ প্রস্তাব পাঠান।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা প্রতিপালনের জন্য কারা অধিদফতরের ‘৪৮৯১ খোরাকি ব্যয়’ খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দের জন্য ২০১৮ সালের ১৯ জুন অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠায়। কারা অধিদফতরের ওই খাতে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২২৪ কোটি ৪০ লাখ ৮ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় কারাগারের জন্য ৮৭ কোটি টাকা, জেলা কারাগারের জন্য ১৩৭ কোটি ৪০ লাখ ৮ হাজার টাকা রয়েছে।

সূত্র মতে, বাজেট বরাদ্দের অতিরিক্ত ২০ কোটি ৪০ লাখ ৮০ হাজার ৭৭৫ টাকা বরাদ্দের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের যে চিঠি দেওয়া হয়েছে তা পাওয়া গেলেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় কারাবন্দিদের সকালের নাস্তার তালিকা পরিবর্তন করে নতুন তালিকা কার্যকর করা হবে।

পিডিএসও/হেলাল