মেয়াদোত্তীর্ণ উপজেলার তালিকা সংগ্রহ চলছে

তালিকা না পেলেও নির্বাচনের প্রস্তুতি থেমে নেই : ইসি

প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০৯:৪৩ | আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০৯:৫০

গাজী শাহনেওয়াজ

নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগেই ঘোষণা দিয়েছে মার্চে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের কর্মযজ্ঞ শুরু হবে। কয়েক ধাপে এ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেছে ইসি। এ নিয়ে দেশজুড়ে হইচই পড়ে গেছে।

সম্ভাব্য প্রার্থীদের নানামুখী প্রচারণায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সরগরম হয়ে উঠেছে। অনেকে ঢাকায় এসে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। চালাচ্ছেন লবিং-গ্রুপিং। সেই অর্থে বলা যায়, মনোনয়ন দৌড়ে একজন অন্যজনের থেকে পিছিয়ে নেই এগুলো তারই চিত্র।

এদিকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পরিস্থিতি নিয়ে কমিশনের প্রস্তুতি এখনো কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নেই। কারণ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সম্প্রতি সারা দেশের জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) চিঠি দিয়ে প্রতিটি উপজেলার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ ও প্রথম বৈঠকের সময় জানতে চেয়ে তথ্য পাঠাতে নির্দেশনা দিয়েছে। এখনো ৪৯৩ উপজেলার মধ্যে অনেকটির তথ্য এ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখায় এসে পৌঁছেনি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সহসাই সব উপজেলার তথ্য পেয়ে যাবেন। এরপর তা কমিশনকে সরবরাহ করা হবে। এ তালিকা পর্যালোচনা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সারা দেশের উপজেলার নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু করবে ইসি।

নির্বাচন কমিশন বলছে, উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ফেব্রুয়ারি মাসে ঘোষণা করে মার্চের থেকে ধাপে ধাপে নির্বাচন করা হবে। এখনো স্থানীয় সরকার থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ও প্রথম সভার তালিকা সংবলিত উপজেলার তালিকা হাতে না পেলেও নির্ধারিত সময়ের আগে তা পেয়ে যাব। তাই কমিশন ঘোষণা অনুযায়ী নির্বাচন শুরু করতে অসুবিধা হবে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপজেলা শাখার একজন কর্মকর্তা বলেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অতীতে একদিনে সম্পন্ন করার রেওয়াজ ছিল। পরে এসে সহিংসতাসহ নানা কারণে এখন ধাপে ধাপে করা হচ্ছে। এই ধাপে ধাপে করার ক্ষেত্রে সব উপজেলার তথ্য জানা দরকার, কোন উপজেলাটির আগে মেয়াদোত্তীর্ণ হচ্ছে কোনটি পরে। এসব তালিকা পর্যালোচনা করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে হবে। আশা করছি, তালিকা সংগ্রহের কাজ যথাসময়ে মন্ত্রণালয়ের হাতে এসে পৌঁছাবে, তখন তা ইসিকে সরবরাহ করা হবে।

আর নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, উপজেলা নির্বাচন মার্চ থেকে শুরু করতে অসুবিধা হবে না। এখনো মন্ত্রণালয়ের করা মেয়াদোত্তীর্ণ ও প্রথম সভার তারিখ অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণের তালিকা না পেলেও কমিশনের নিজস্ব উদ্যোগে সংগ্রহ করা তথ্য নিয়ে নির্বাচনের সামগ্রিক প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। আশা করছি, তফসিল ঘোষণার আগেই যাবতীয় তথ্য আমাদের কাছে এসে পৌঁছাবে; তখন এ নির্বাচন সম্পন্ন করা নিয়ে জটিলতার যে আশঙ্কা করছেন তা আর থাকবে না, যোগ করেন সচিব।

মন্ত্রণালয় ও ইসির তথ্য মতে, গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ছয় ধাপে হয়েছিল। কিন্তু অনেক উপজেলার ফল প্রকাশ হওয়ার পরও প্রথম সভার আয়োজনে বিলম্ব হয়েছিল। কারণ প্রথম সভার তারিখ থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্নের আয়োজন করতে হয়। এ বিবেচনায় মেয়াদোত্তীর্ণ ও প্রথম সভার তারিখ অনুযায়ী উপজেলার ক্রমবিন্যাস করার দরকার হয়। তবে ইসি এরই মধ্যে নির্বাচনের ঘোষণা দিলেও মন্ত্রণালয় এখনো ওই তালিকাটির কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি। কিন্তু এর জন্য নির্বাচন আয়োজনের কার্যক্রম থেকে নেই। ইসি এরই মধ্যে নির্বাচনের সামগ্রীসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম গুছিয়ে এনেছে। এখন মন্ত্রণালয়ের সরবরাহ করা তালিকা পেলে ফেব্রুয়ারি দিকে এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে পারবে বলে জানান নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এদিকে, উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের তর সইছে না। অপরদিকে, বিএনপি শিবিরে দেখা যাচ্ছে পুরো ভিন্ন চিত্র। নির্বাচনে অংশ নেবে কি না এ নিয়ে এখনো দোটানায় দলটি। তবে নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত বিএনপি অংশ নিয়ে নৌকা ও ধানের শীষের আরেকটি জমজমাট লড়াই দেখা যাবে।

ইসির ও স্থানীয় সরকারের তথ্য মতে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি ওই বছরই কয়েক ধাপে হওয়া উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেয়। সর্বশেষ ২০১৪ সালে ১৯ ফেব্রুয়ারি ৯৭টি উপজেলায় প্রথম ধাপে নির্বাচন হয়েছিল। ওই মাসের ২৭ ফেব্রুয়রি দ্বিতীয় ধাপে ১১৭টি উপজেলায় ভোট হয়। তবে প্রথম দুই ধাপে আওয়ামী লীগের তুলনায় বেশি উপজেলায় জয়ও পায় বিএনপি। তবে তৃতীয় থেকে পঞ্চম ধাপে একাধিপত্য দেখায় ক্ষমতাসীন দল। এই ধাপগুলো কারচুপির অভিযোগ করে বিএনপি।

ইসির কর্মকর্তারা বলেন, উপজেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮-এর ১৭(১)(গ) ধারা অনুযায়ী, পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখের আগের ১৮০ দিনের মধ্যে ভোট গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পরিষদের প্রথম বৈঠক (সভা) থেকে মেয়াদ শুরু হয়। এ হিসাবে মার্চেই অন্তত অর্ধেকের বেশি উপজেলা ভোটের জন্য উপযোগী হবে।

পিডিএসও/হেলাল